মাওরিংখাং ব্যাম্বু ট্রেক: মেঘালয়ের লুকিয়ে থাকা রোমাঞ্চ
আপনি কি অ্যাডভেঞ্চার পছন্দ করেন? মেঘালয়ের মেঘ-পাহাড়ের মাঝে এমন একটি ট্রেকিং রুট রয়েছে, যা আপনার বুকের স্পন্দন বাড়িয়ে দিতে বাধ্য। বলছি ভারতের সবচেয়ে রোমাঞ্চকর ও চ্যালেঞ্জিং ট্রেকিং রুট মাওরিংখাং ব্যাম্বু ট্রেক (Mawryngkhang Bamboo Trek) সম্পর্কে। আস্ত একটি পাহাড় থেকে অন্য পাহাড়ে যাওয়ার পুরোটাই নির্ভর করতে হয় বাঁশের তৈরি নড়বড়ে কিন্তু মজবুত সেতু বা ব্রিজের ওপর। নিচে গভীর খাদ আর সুউচ্চ পাহাড়ের বুক চিরে বয়ে চলা নীল জলের নদী—সব মিলিয়ে এক অবিস্মরণীয় অভিজ্ঞতা।
কোথায় অবস্থিত এবং কীভাবে যাবেন
এই রোমাঞ্চকর যাত্রার শুরু হয় মেঘালয়ের পূর্ব খাসি জেলার সুদৃশ্য গ্রাম ওয়াখেন (Wahkhen) থেকে। রাজ্যের রাজধানী শিলং থেকে এর দূরত্ব প্রায় ৪৮ কিলোমিটার এবং জনপ্রিয় পর্যটন কেন্দ্র চেরাপুঞ্জি থেকে ৫৬ কিলোমিটার।
- শিলং থেকে যাত্রা: শিলং বা চেরাপুঞ্জি থেকে গাড়ি ভাড়া করে সরাসরি ওয়াখেন গ্রামে পৌঁছে যেতে হবে।
- পথের শুরু: ওয়াখেন গ্রাম থেকেই মূলত ট্রেকিংয়ের আসল পথ শুরু হয়। গ্রাম পার হয়ে পাহাড়ি পথ ধরে এগোতে হয় মূল ব্যাম্বু ট্রেইলের দিকে।
কী দেখবেন মাওরিংখাং ট্রেকে
এই ট্রেকিংয়ের প্রতি মুহূর্তেই আপনার জন্য অপেক্ষা করছে নতুন বিস্ময়। ওয়াখেন গ্রাম থেকে নামার সময় পাথরের তৈরি সিড়ি এবং চারপাশের ঝরনার কলতান মন জুড়িয়ে দেবে। এরপরেই শুরু হয় আসল রোমাঞ্চ।
- বিস্ময়কর বাঁশের সেতু: স্থানীয় খাসি গ্রামবাসীদের নিজ হাতে তৈরি অবিশ্বাস্য সব বাঁশের ব্রিজ এই ট্রেকের মূল আকর্ষণ। পাহাড়ের খাঁজে বাঁশ দিয়ে তৈরি এই ঝুলন্ত পথ বেয়েই এক পাহাড় থেকে অন্য পাহাড়ে যেতে হয়।
- ওয়ারু নদী: বাঁশের এই সুউচ্চ সেতুগুলোর নিচ দিয়ে বয়ে চলেছে স্বচ্ছ নীল জলের ওয়ারু নদী। ওপর থেকে নদীর এই রূপ দেখতে অসাধারণ লাগে।
- কিংবদন্তির পাথর: ৩ থেকে ৪ ঘণ্টা হাঁটার পর ট্রেকের অন্তিম মুহূর্তে দেখা মেলে একটি বিশাল ত্রিভুজাকৃতির পাথরের, যাকে স্থানীয়রা রাজা মাওরিংখাং বলে বিশ্বাস করেন।
ট্রেকের সেরা সময় ও কার যাওয়া উচিত
সেরা সময়: চোখ বন্ধ করে শীতকালই এই ট্রেক করার সেরা সময়। এ সময় আবহাওয়া শুষ্ক থাকে, ঘাস ও বাঁশ শুকনো থাকায় পিচ্ছিল হওয়ার আশঙ্কা থাকে না। বর্ষাকালে এই রুটে ট্রেকিং করা অত্যন্ত বিপজ্জনক হতে পারে।
কারা যাবেন: এটি প্রায় ৫ ঘণ্টার একটি মাঝারি থেকে কঠিন লেভেলের হাইক। আপনার যদি উচ্চতাভীতি (Acrophobia) থাকে, তবে এই ট্রেক এড়িয়ে চলা বুদ্ধিমত্তার কাজ হবে। ভালো শারীরিক ফিটনেস থাকলেই কেবল এই অ্যাডভেঞ্চারে নামা উচিত।
থাকা-খাওয়া এবং ভ্রমণের প্রয়োজনীয় টিপস
ওয়াখেন গ্রামে রাত কাটানোর জন্য ভালো কোনো হোটেল বা কটেজ নেই বললেই চলে। তাই শিলং বা চেরাপুঞ্জি থেকে সকালে রওনা দিয়ে দিনেই ফিরে আসা সবচেয়ে ভালো। তবে ক্যাম্পিংয়ের অভিজ্ঞতা থাকলে রাতে তাবু খাটাতে পারেন।
- স্থানীয় সংস্কৃতিকে সম্মান করুন: মাওরিংখাং স্থানীয়দের কাছে পবিত্র স্থান। কোনো নিয়ম লঙ্ঘন করবেন না।
- গাইড বাধ্যতামূলক: অপরিচিত পথে একা না গিয়ে অবশ্যই একজন অভিজ্ঞ স্থানীয় গাইড নিন।
- হাত খালি রাখুন: ট্রেকের কিছু জায়গায় মই বেয়ে উঠতে দুই হাত ব্যবহার করতে হয়, তাই ভারী ব্যাগ বা হাতে কিছু না রেখে ব্যাকপ্যাক ব্যবহার করুন।
- খাবার ও পানীয়: পথিমধ্যে খাবারের দোকান নেই, তাই শুকনো খাবার ও পর্যাপ্ত পানি সাথে রাখুন।
সচরাচর জিজ্ঞাসিত প্রশ্নাবলী (FAQ)
মাওরিংখাং ব্যাম্বু ট্রেকটি কোথায় অবস্থিত?
এটি ভারতের মেঘালয় রাজ্যের পূর্ব খাসি জেলার ওয়াখেন গ্রামে অবস্থিত।
এই ট্রেক করতে কত সময় লাগে?
ওয়াখেন থেকে শুরু করে যাওয়া ও আসা মিলিয়ে সাধারণত ৩ থেকে ৫ ঘণ্টা সময় লাগে।
উচ্চতাভীতি থাকলে কি এই ট্রেক করা যাবে?
উচ্চতাভীতি থাকলে এই ট্রেক করা বেশ কঠিন ও ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে, কারণ অনেক উঁচুতে বাঁশের চিকন সেতু দিয়ে হাঁটতে হয়।
শেফিল্ড বা শিলং থেকে যাতায়াত খরচ কেমন?
শিলং থেকে গাড়ি রিজার্ভ করে গেলে দূরত্ব অনুযায়ী প্রায় ২,০০০ থেকে ৩,০০০ টাকা পর্যন্ত খরচ হতে পারে।


