• Home
  • Trip
  • খাগড়াছড়ির হাতিমুড়া বা মায়ুং কপাল: মেঘ ছুঁয়ে যাওয়ার রোমাঞ্চকর ট্রেইল ও ভ্রমণ গাইড

খাগড়াছড়ির হাতিমুড়া বা মায়ুং কপাল: মেঘ ছুঁয়ে যাওয়ার রোমাঞ্চকর ট্রেইল ও ভ্রমণ গাইড

খাগড়াছড়ির নতুন আকর্ষণের নাম হাতিমুড়া বা মায়ুং কপাল

পাহাড়প্রেমীদের জন্য খাগড়াছড়ি এক অবিরাম বিস্ময়ের নাম। এখানকার প্রতিটি বাঁকে লুকিয়ে আছে কোনো না কোনো রোমাঞ্চ। এমনি একটি রোমাঞ্চকর ও দুর্গম জায়গার নাম হাতিমুড়া, যাকে স্থানীয়রা ‘মায়ুং কপাল’ বা হাতি মাথা বলেও ডেকে থাকেন। চাকমা ভাষায় এই অনন্য পাহাড়ি পথটির পরিচিতি ‘এদো সিরে মোন’ নামে। অনেকে আবার এর গঠনশৈলী ও উচ্চতার কারণে একে ‘স্বর্গের সিঁড়ি’ বলে থাকেন। খাগড়াছড়ি সদর উপজেলার পেরাছড়া ইউনিয়নে অবস্থিত এই পাহাড়ি পথটি শুধুমাত্র একটি দর্শনীয় স্থানই নয়, বরং আশেপাশের ১৫টি গ্রামের মানুষের জীবনযাত্রাকে সহজ করে তোলার এক অবিচ্ছেদ্য অংশ। এখানকার দুর্গম পথ পাড়ি দিতে সাধারণ মানুষের কষ্ট লাঘবে ৩০৮ ফুট লম্বা একটি লোহার সিঁড়ি নির্মাণ করা হয়েছে, যা এই ট্রেইলের অন্যতম প্রধান আকর্ষণ।

যেভাবে যাবেন হাতিমুড়া ও যাতায়াত খরচ

ঢাকা বা দেশের যেকোনো প্রান্ত থেকে প্রথমে আপনাকে খাগড়াছড়ি সদরে পৌঁছাতে হবে। ঢাকা থেকে খাগড়াছড়ির নন-এসি বাস ভাড়া সাধারণত জনপ্রতি ৫২০ টাকা। খাগড়াছড়ি সদর থেকে পানছড়ি যাওয়ার পথে ‘জামতলী’ নামক স্থানে অবস্থিত যাত্রী ছাউনির সামনে নেমে পড়তে হবে। সদর থেকে এই পর্যন্ত অটো বা লোকাল গাড়িতে ভাড়া লাগবে মাত্র ১৫ থেকে ২০ টাকা।

জামতলী নেমে শুরু হবে আপনার আসল ট্র্যাকিং বা হাঁটার পর্ব:

  • জামতলী যাত্রী ছাউনির বাম দিকের রাস্তা ধরে সোজা হেঁটে চেঙ্গী নদী পার হতে হবে।
  • নদী পার হয়ে ডানে পল্টনজয় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের রাস্তার দিকে এগোতে হবে।
  • বিদ্যালয়ের পাশের দোকান থেকে ডানের রাস্তা ধরে দুটি বাঁশের সাঁকো পার হতে হবে।
  • এরপর ছড়ার পাশ দিয়ে ছোট্ট রাস্তা ধরে আরও একটি বাঁশের সাঁকো পেরিয়ে বগড়া পাড়ায় পৌঁছাবেন।
  • বগড়া পাড়া পেরিয়ে বিস্তৃত ছড়া এবং একটি বড় টিলা পার হলে কাপতলা নামক লোকালয় পাওয়া যাবে।
  • কাপতলার ডান দিকের নিচু পথ ধরে দুটি রাস্তার সংযোগস্থলে এসে ডান দিকের পথ ধরলেই কাঙ্ক্ষিত মায়ুং কপাল বা হাতিমুড়ার দেখা মিলবে।

সদর থেকে শুরু করে সব মিলিয়ে সেখানে পৌঁছাতে প্রায় দেড় ঘণ্টার মতো সময় লাগবে। পাহাড়ি ছোট-বড় ট্রেইল ধরে হাঁটার সময় এলাকার সঠিক পথ চেনার জন্য স্থানীয় কাউকে গাইড হিসেবে নিতে পারেন, যার খরচ হতে পারে ২০০ থেকে ৩০০ টাকা।

হাতিমুড়ার দর্শনীয় দিক ও রোমাঞ্চকর অভিজ্ঞতা

হাতিমুড়ার ট্র্যাকিং বেশ চ্যালেঞ্জিং এবং রোমাঞ্চকর। ছোটখাটো উঁচু পাহাড়, বাঁশের সাঁকো, ঝিরি ও ছড়া পেরিয়ে এই গন্তব্যে পৌঁছাতে হয়। এখানকার ৩০৮ ফুট লম্বা লোহার সিঁড়ি বেয়ে ওপরে ওঠার অভিজ্ঞতা সত্যিই রোমাঞ্চকর। চারপাশের সবুজ পাহাড়, মেঘের লুকোচুরি এবং পাহাড়ি জনপদের সরল জীবনযাত্রা আপনার সব ক্লান্তি নিমিষেই দূর করে দেবে। প্রকৃতিপ্রেমী ও ফটোগ্রাফারদের জন্য এটি একটি স্বর্গরাজ্য।

কোথায় থাকবেন: খাগড়াছড়ির সেরা হোটেল ও রিসোর্ট

সারাদিনের ক্লান্তি শেষে রাতে আরামদায়ক বিশ্রামের জন্য খাগড়াছড়িতে রয়েছে বেশ কয়েকটি মানসম্মত হোটেল ও মোটেল:

  • পর্যটন মোটেল: শহর প্রবেশমুখেই চেঙ্গী নদীর পাশে অবস্থিত। এখানে এসি ও নন-এসি রুমের ব্যবস্থা রয়েছে (ভাড়া ১৩০০ থেকে ৩,১০০ টাকার মধ্যে)। যোগাযোগ: ০৩৭১-৬২০৮৪৮৫।
  • হোটেল ইকো ছড়ি ইন: খাগড়াপুর সেনানিবাসের কাছে মনোরম পাহাড়ি পরিবেশে অবস্থিত রিসোর্ট টাইপের হোটেল। যোগাযোগ: ০৩৭১-৬2625।
  • অন্যান্য হোটেল: বাজেট অনুযায়ী থাকার জন্য আরও পাবেন হোটেল শৈল সুবর্ন, হোটেল জেরিন, হোটেল লবিয়ত এবং হোটেল শিল্পী।
  • খাবারদাবার: স্থানীয় পাহাড়ি খাবার বা বাঙালি খাবারের জন্য শহরের বিভিন্ন রেস্তোরাঁয় ঐতিহ্যবাহী ব্যালু, বাঁশ কোড়ল এবং হিল ফুডের স্বাদ নিতে পারেন।

জরুরি ভ্রমণ টিপস

  • যেহেতু ট্র্যাকিং বেশ কষ্টসাধ্য, তাই সাথে অবশ্যই পর্যাপ্ত খাওয়ার পানি এবং শুকনা খাবার (চকলেট, গ্লুকোজ, এনার্জি বিস্কুট) রাখবেন।
  • ভালো গ্রিপযুক্ত ট্র্যাকিং জুতো ব্যবহার করুন।
  • বৃষ্টির দিনে ট্রেইল পিচ্ছিল হয়ে যায়, তাই বর্ষাকালে ভ্রমণের সময় অতিরিক্ত সতর্কতা অবলম্বন করুন।
  • স্থানীয় আদিবাসী সংস্কৃতির প্রতি শ্রদ্ধাশীল থাকুন এবং পরিবেশ পরিষ্কার রাখুন।

সচরাচর জিজ্ঞাসিত প্রশ্নাবলী (FAQ)

১. হাতিমুড়া যাওয়ার সবচেয়ে উপযুক্ত সময় কোনটি?

বর্ষা ও শরৎকাল (জুলাই থেকে নভেম্বর) হাতিমুড়া ভ্রমণের জন্য সবচেয়ে সেরা সময়। এ সময় চারপাশের প্রকৃতি সবুজ থাকে এবং আবহাওয়া মনোরম থাকে।

২. হাতিমুড়া ট্রেইলে কি গাইডের প্রয়োজন আছে?

যেহেতু পথটি কিছুটা দুর্গম এবং নতুন পর্যটকদের জন্য পথ হারানোর সম্ভাবনা থাকে, তাই একজন স্থানীয় গাইড সাথে রাখা বুদ্ধিমানের কাজ হবে।

৩. পরিবার বা বাচ্চাদের নিয়ে কি হাতিমুড়া যাওয়া যাবে?

ট্র্যাকিংয়ের পথটি দুর্গম ও খাড়া হওয়ায় ছোট বাচ্চা বা বয়স্কদের নিয়ে এই ট্রেইলে যাওয়া ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে। তরুণ ও অ্যাডভেঞ্চারপ্রেমীদের জন্য এটি উপযুক্ত।

0
0
অর্ডার লিস্ট
কার্টে কিছু নেইআবার অর্ডার করুন