• Home
  • Trip
  • চেলে লা পাস ভ্রমণ গাইড: ভুটানের স্বর্গীয় উচ্চতা ও আকাশছোঁয়া মিতালে

চেলে লা পাস ভ্রমণ গাইড: ভুটানের স্বর্গীয় উচ্চতা ও আকাশছোঁয়া মিতালে

চেলে লা পাস পরিচিতি: মেঘ ও পাহাড়ের মিতালি

ভুটানের বুক চিরে চলা উঁচুনীচু পাহাড়ি রাস্তা আর মেঘের খেলা দেখতে কার না ভালো লাগে? হিমালয়ের কোলে অবস্থিত ভুটানের অন্যতম আকর্ষণীয় ও রোমাঞ্চকর একটি স্থানের নাম চেলে লা পাস (Chele La Pass)। সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে প্রায় ১৩,০৮৪ ফুট বা ৩,৯৮৮ মিটার উঁচুতে অবস্থিত এই গিরিপথটি দেশটির সর্বোচ্চ গাড়ি চলাচলের উপযোগী রাস্তা হিসেবে পরিচিত। এটি মূলত পারো উপত্যকা এবং অপরূপ সুন্দর ‘হা’ (Haa) ভ্যালির মধ্যে সংযোগ স্থাপন করেছে। প্রাচীনকালে তিব্বতের সাথে বাণিজ্যের প্রধান রুট ছিল এই পথটি। ইতিহাস বলে, তিব্বতের সাথে তৎকালীন যুদ্ধ বা যোগাযোগের ক্ষেত্রেও এই পাসটি কৌশলগতভাবে বেশ গুরুত্বপূর্ণ ছিল। তবে বর্তমান সময়ে এটি পর্যটকদের কাছে এক স্বর্গরাজ্য, যেখানে নীল আকাশ, হিমেল হাওয়া আর হাজারো রঙিন প্রেয়ার ফ্ল্যাগের ওড়াউড়ি পর্যটকদের মন কেড়ে নেয়।

দর্শনীয় দিক: চেলে লা পাসে যা কিছু দেখবেন

পারো থেকে চেলে লা পাসের দিকে যাত্রা শুরু করলেই চোখের সামনে ভেসে উঠবে পাইন বনের ঘন সবুজ সমারোহ। চারপাশের প্রকৃতি যেন কোনো শিল্পীর ক্যানভাসে আঁকা নিখুঁত ছবি। এখানকার প্রধান আকর্ষণগুলো হলো:

  • প্রেয়ার ফ্ল্যাগের মেলা: বাতাসে ওড়া হাজারো রঙিন প্রার্থনার পতাকা বা প্রেয়ার ফ্ল্যাগ এই জায়গার আধ্যাত্মিক ও সৌন্দর্য্য বহুগুণ বাড়িয়ে দেয়।
  • মাউন্ট জোমোলহরি দর্শন: আবহাওয়া পরিষ্কার থাকলে এবং আকাশে মেঘ না থাকলে এখান থেকেই দেখা মিলবে বরফাবৃত সুবিশাল মাউন্ট জোমোলহরি (Mount Jomolhari) শৃঙ্গ।
  • বন্যপ্রাণী ও উদ্ভিদরাজি: পাইন ও রডোডেনড্রন বনের বুক চিরে যাওয়ার সময় নানা প্রজাতির পাহাড়ি পাখি এবং বন্যফুলের দেখা মিলবে।
  • আপেল ও কমলার বাগান: পারো থেকে পাসের দিকে যাওয়ার রাস্তায় চোখে পড়বে স্থানীয়দের আপেল ও কমলার বাগান, যা পুরো যাত্রাকে আরও আনন্দদায়ক করে তোলে।

যাওয়ার উপায় ও খরচ

চেলে লা পাস ভ্রমণের মূল বেস ক্যাম্প হলো ভুটানের পারো শহর। পারো থেকে গাড়ি ভাড়া করে সহজেই এখানে যাওয়া যায়।

  • পথের দূরত্ব: পারো থেকে চেলে লা পাসের দূরত্ব প্রায় ২৩ কিলোমিটার। পাহাড়ি আঁকাবাঁকা পথ বেয়ে পৌঁছাতে সময় লাগে প্রায় ২ ঘণ্টা।
  • যাতায়াত মাধ্যম: পাবলিক ট্রান্সপোর্টের ব্যবস্থা এখানে খুব একটা সুবিধাজনক নয়। তাই পারো থেকে একটি প্রাইভেট কার বা ট্যাক্সি রিজার্ভ করে যাওয়াটাই সবচেয়ে বুদ্ধিমানের কাজ।
  • খরচ: গাড়ি ভেদে পারো থেকে আসা-যাওয়ার ভাড়ায় প্রায় ৩,০০০ থেকে ৫,০০০ ভুটানি গুলট্রাম (বা সমপরিমাণ ভারতীয় রুপি) খরচ হতে পারে।

থাকা-খাওয়ার তথ্য

একটি বিষয় মাথায় রাখা জরুরি—চেলে লা পাসে রাতে থাকার কোনো হোটেল বা রেস্টহাউস নেই। উচ্চতা ও অতিরিক্ত ঠান্ডার কারণে এখানে রাত্রিযাপন করা নিরাপদও নয়। তাই পর্যটকরা সাধারণত পারো বা হা ভ্যালিতে থেকে দিনভরের জন্য পাসটি ঘুরে দেখতে আসেন।

খাবারের ক্ষেত্রেও একই নিয়ম প্রযোজ্য। পাসের উপরে স্থায়ী কোনো বড় হোটেল নেই, তবে কিছু স্থানীয় বিক্রেতা গরম চা, কফি বা নুডলস নিয়ে বসেন। তাই পারো থেকেই ভারী খাবার খেয়ে রওনা দেওয়া ভালো এবং সাথে কিছু শুকনো খাবার ও পানি রাখা উচিত।

সাধারণ জিজ্ঞাসা (FAQ)

১. চেলে লা পাস পরিদর্শনের সেরা সময় কোনটি?

বসন্তকাল (মার্চ থেকে মে) এবং শরৎকাল (সেপ্টেম্বর থেকে নভেম্বর) চেলে লা পাস ঘোরার জন্য সেরা সময়। এ সময় আবহাওয়া সাধারণত পরিষ্কার থাকে এবং চারপাশের দৃশ্য স্পষ্টভাবে দেখা যায়।

২. চেলে লা পাসে কি সবসময় ঠান্ডা থাকে?

হ্যাঁ, অতিরিক্ত উচ্চতার কারণে বছরের বেশিরভাগ সময়ই এখানে বেশ ঠান্ডা থাকে। গ্রীষ্মকালেও হালকা উলের পোশাক বা উইন্ডপ্রুফ জ্যাকেট সাথে রাখা জরুরি।

৩. ভুটানের নাগরিক ছাড়া কি অন্য দেশের পর্যটকরা যেতে পারেন?

অবশ্যই। বৈধ পারমিট সাপেক্ষে যেকোনো আন্তর্জাতিক পর্যটক পারো থেকে গাড়ি নিয়ে চেলে লা পাস ভ্রমণ করতে পারেন।

0
0
অর্ডার লিস্ট
কার্টে কিছু নেইআবার অর্ডার করুন