ভূমিকা
বান্দরবানের আকাশছোঁয়া পাহাড় আর মেঘের লুকোচুরি দেখতে কার না ভালো লাগে? প্রকৃতিপ্রেমী ও ট্র্যাকারদের কাছে কেওক্রাডং এক পরম আকর্ষণের নাম। যদিও বর্তমানে এটি বাংলাদেশের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ পর্বতশৃঙ্গ, তবুও এর রোমাঞ্চকর ট্রেইল এবং রূপের জাদুতে একটুও ভাটা পড়েনি। সাদা মেঘে ঢাকা চূড়া আর চারপাশের সবুজ পাহাড় আপনাকে এক অন্য দুনিয়ায় নিয়ে যাবে।
কেওক্রাডং পরিচিতি ও উচ্চতা
বান্দরবান জেলার রুমা উপজেলায় অবস্থিত কেওক্রাডংয়ের উচ্চতা প্রায় ৩১৭২ ফুট। একসময় এটিকে দেশের সর্বোচ্চ শৃঙ্গ মনে করা হলেও আধুনিক গবেষণায় সাকাহাফং বা মদক তুংকে সর্বোচ্চ বলা হয়েছে। তবুও কেওক্রাডংয়ের চূড়ায় দাঁড়িয়ে মেঘ ছোঁয়ার অনুভূতি অতুলনীয়। বাতাসের ঝাপটা আর চারপাশের পাহাড়ি উপত্যকা যেকোনো ভ্রমণপিপাসুর ক্লান্তি নিমিষেই দূর করে দেয়।
কেওক্রাডং যাওয়ার উপায় ও খরচ
ঢাকা বা দেশের যেকোনো প্রান্ত থেকেই আপনাকে প্রথমে বান্দরবান সদরে পৌঁছাতে হবে। নিচে বিস্তারিত রুট দেওয়া হলো:
ঢাকা থেকে বান্দরবান
ঢাকার কলাবাগান, সায়েদাবাদ বা ফকিরাপুল থেকে শ্যামলি, হানিফ, ইউনিক, এস আলমের মতো বাসগুলো প্রতিদিন রাতে বান্দরবানের উদ্দেশ্যে ছেড়ে যায়। নন-এসি বাসের ভাড়া ৫৫০ থেকে ৬০০ টাকা এবং এসি বাসের ভাড়া ৯৫০ টাকা থেকে শুরু হয়। এছাড়া চট্টগ্রাম থেকেও বদ্দারহাট বাসস্ট্যান্ড থেকে বাসে করে বান্দরবান যেতে পারবেন (ভাড়া প্রায় ২২০ টাকা)।
বান্দরবান থেকে রুমা বাজার
সকালে বান্দরবান পৌঁছে নাস্তা সেরে অটো বা লোকাল গাড়িতে চলে যান রুমা বাসস্ট্যান্ড। সকাল ৮টার প্রথম বাসটি ধরার চেষ্টা করাই বুদ্ধিমানের কাজ হবে। রুমা বাজার পৌঁছাতে সময় লাগবে আড়াই থেকে তিন ঘণ্টা, ভাড়া ১১০ টাকা জনপ্রতি।
রুমা বাজার থেকে বগালেক
রুমা বাজারে নেমে গাইড ঠিক করতে হবে এবং আর্মি ক্যাম্প থেকে প্রয়োজনীয় অনুমতি নিতে হবে। এরপর জিপ (ল্যান্ড ক্রুজার) বা চান্দের গাড়ি ভাড়া করে বগালেক যেতে হবে। ল্যান্ড ক্রুজারের ভাড়া প্রায় ১৮০০ টাকা (৭-৮ জন) এবং চান্দের গাড়ির ভাড়া প্রায় ২০০০ টাকা (১৪-১৫ জন)। বগালেকে পৌঁছে আবারও আর্মি ক্যাম্পে নাম এন্ট্রি করতে হবে।
বগালেক থেকে কেওক্রাডং ট্র্যাকিং
বগালেক হলো কেওক্রাডংয়ের মূল বেইসফ্যাম্প। এখান থেকে শুরু হয় আসল রোমাঞ্চ। বগালেক থেকে কেওক্রাডংয়ের দূরত্ব প্রায় ৮-৯ কিলোমিটার এবং উচ্চতার পার্থক্য প্রায় ২০০০ ফুট।
- উচ্চতা: ৩১৭২ ফুট
- ট্রেকের সময়: ৩ থেকে ৪ ঘণ্টা
- বেইসক্যাম্প: বগালেক
- সেরা সময়: আগস্ট থেকে নভেম্বর
হাঁটার গতির ওপর নির্ভর করে ৩ থেকে ৪ ঘণ্টার মধ্যে কেওক্রাডং চূড়ায় পৌঁছে যাওয়া সম্ভব। যাত্রাপথে পর্যাপ্ত পানি, ওরস্যালাইন এবং শুকনা খাবার সাথে রাখা বাধ্যতামূলক।
থাকা ও খাওয়ার সুব্যবস্থা
বগালেক এবং কেওক্রাডং চূড়ায় স্থানীয় আদিবাসীদের কটেজে থাকার ব্যবস্থা রয়েছে। এগুলো মূলত বাঁশ ও কাঠের তৈরি সাধারণ কটেজ। এখানে রাতে থাকা এবং খাওয়ার জন্য খরচ বেশ সাশ্রয়ী। পাহাড়ি চালের ভাত, দেশি মুরগি বা স্থানীয়দের রান্না করা খাবারের স্বাদ আপনার ভ্রমণকে আরও সমৃদ্ধ করবে।
সতর্কতা ও জরুরি টিপস
- অবশ্যই রেজিস্টার্ড গাইড সাথে রাখবেন।
- প্লাস্টিক বা অপচনশীল বর্জ্য পাহাড়ে ফেলবেন না।
- ভারী ব্যাগ যথাসম্ভব এড়িয়ে চলুন, হালকা ট্র্যাকিং ব্যাগ ব্যবহার করুন।
- প্রয়োজনীয় ওষুধ ও ফার্স্ট এইড বক্স সাথে রাখুন।
সচরাচর জিজ্ঞাস্য (FAQ)
১. কেওক্রাডং যাওয়ার সেরা সময় কোনটি?
বর্ষা ও শরৎকাল অর্থাৎ আগস্ট থেকে নভেম্বর মাস কেওক্রাডং ভ্রমণের জন্য সবচেয়ে উপযুক্ত সময়। এসময়ে মেঘের অসাধারণ রূপ দেখা যায়।
২. কেওক্রাডং ট্র্যাকিংয়ে কত দিন সময় লাগে?
ঢাকা থেকে যাওয়া-আসা এবং ট্র্যাকিং মিলিয়ে সাধারণত ৩ দিনের একটি ছুটি নিয়ে ট্যুর পরিকল্পনা করতে হয়।
৩. গাইড নেওয়া কি বাধ্যতামূলক?
হ্যাঁ, নিরাপত্তা ও নিয়মের কারণে রুমা বাজার বা বগালেক থেকে গাইড নেওয়া বাধ্যতামূলক।


