পরিচিতি
ভারতের মেঘালয়ের পূর্ব খাসি পাহাড় জেলার মাওলিননং গ্রামটি এশিয়ার সবচেয়ে সুন্দর ও পরিচ্ছন্ন গ্রামের স্বীকৃতি পেয়েছে। ওয়ার্ল্ড ক্লিনেস্ট ভিলেজ নামে পরিচিত এই গ্রামে স্বাক্ষরতার হার শতভাগ। মাতৃতান্ত্রিক এই গ্রামে পারিবারিক সম্পত্তি মায়ের থেকে ছোট মেয়ের হাতে যায়। এখানকার পরিবেশ, মানুষ এবং পরিচ্ছন্নতা পর্যটকদের মুগ্ধ করে।
যাওয়ার উপায় ও খরচ
বাংলাদেশ থেকে যেতে হলে তামাবিল-ডাউকি পোর্টের ভিসা নিতে হবে। ডাউকি বর্ডার থেকে ট্যাক্সি বা লোকাল গাড়িতে সহজেই মাওলিননং পৌঁছানো যায়। এছাড়া শিলং থেকে এই গ্রামের দূরত্ব প্রায় ৯০ কিলোমিটার, তাই শিলং ট্যুরের পরিকল্পনা থাকলে সেখান থেকেও ট্যাক্সি রিজার্ভ করে ঘুরে আসতে পারবেন। ডাউকি থেকে যাতায়াতে গাড়ির ধরন অনুযায়ী ১০০০ থেকে ২৫০০ রুপি পর্যন্ত খরচ হতে পারে।
দর্শনীয় দিক
মাওলিননং গ্রামে রয়েছে ঘন নীল আকাশ, সবুজে ঘেরা পাহাড় এবং রকমারি ফুলের সমাহার। এখানকার মূল আকর্ষণ প্রকৃতির তৈরি লিভিং রুট ব্রিজ বা গাছের শিকড়ের সাঁকো। এছাড়া গ্রামের পরিপাটি ঘরবাড়ি, বাঁশের তৈরি সুন্দর ডাস্টবিন এবং ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তের মনমুগ্ধকর প্রাকৃতিক দৃশ্য যে কাউকে বিমোহিত করবে।
থাকা-খাওয়ার তথ্য
বেশিরভাগ পর্যটক শিলংয়ে হোটেল বুক করে দিনে গিয়ে দিনেই ফিরে আসেন। তবে আপনি যদি গ্রামে রাত কাটাতে চান, তবে বেশ কিছু চমৎকার হোমস্টে রয়েছে। যেমন Ila Jong, Ha La Rympei এবং ভিলেজ গেস্ট হাউজ। এসব হোমস্টেতে রাতযাপনের খরচ সাধারণত দিনপ্রতি ১৭০০ থেকে ১৮০০ রুপি হয়ে থাকে। খাবারের জন্য স্থানীয় খাসি আদিবাসী খাবার ও সাধারণ ইন্ডিয়ান খাবার পেয়ে যাবেন।
FAQ
প্রশ্ন ১: মাওলিননং যাওয়ার সেরা সময় কোনটি?
উত্তর: বছরের যে কোনো সময়ই যাওয়া যায়, তবে অক্টোবর থেকে এপ্রিল মাস আবহাওয়া সবচেয়ে অনুকূল থাকে।
প্রশ্ন ২: মাওলিননং গ্রামে কি প্লাস্টিক ব্যবহার করা যায়?
উত্তর: না, এই গ্রামে প্লাস্টিক ব্যবহারের ওপর কড়াকড়ি নিষেধাজ্ঞা রয়েছে এবং যত্রতত্র আবর্জনা ফেলা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ।


