পরিচিতি
সান্দাকফু পশ্চিমবঙ্গের উচ্চতম শৃঙ্গ যার উচ্চতা ৩৬৩৬ মিটার বা ১১৯৩০ ফুট। এটি দার্জিলিংয়ের সিঙ্গালিলা জাতীয় উদ্যানের ধারে পশ্চিমবঙ্গ-নেপাল সীমান্তে অবস্থিত। এভারেস্ট, কাঞ্চনজঙ্ঘা, লোৎসে এবং মাকালু—পৃথিবীর পাঁচটি সবচেয়ে উঁচু চূড়ার চারটিই সান্দাকফু থেকে দেখা যায়। যারা খুব ভালো ট্রেকার নন কিন্তু পাহাড় ভালোবাসেন, তাদের কাছে এটি ‘ট্রেকার্স প্যারাডাইস’ নামে পরিচিত।
যাওয়ার উপায় ও খরচ
সান্দাকফু যাওয়ার মূল বেইসক্যাম্প হলো মানেভাঞ্জন। শিলিগুড়ি থেকে মানেভাঞ্জন গাড়ি ভাড়া প্রায় ৪০০০ রুপি। এছাড়া সিঙ্গালিলা পার্কের এন্ট্রি টিকেট ৫০০ রুপি প্রতি দিন, ক্যামেরা ফি ১০০ রুপি, গাইড খরচ প্রতিদিন ১২০০ রুপি এবং ল্যান্ড রোভার জীপ নিয়ে গেলে ড্রাইভারের দৈনিক ভাতা ৪০০ রুপি দিতে হয়। হোমস্টে বা জিটিএ ট্রেকার্স হাটে থাকার খরচ ৫০০-৬০০ রুপি এবং প্রতিবেলা খাবারের খরচ ২৫০-৩০০ রুপি।
দর্শনীয় দিক
এখানকার প্রধান আকর্ষণ হলো কাঞ্চনজঙ্ঘার প্যানোরামিক ভিউ, যা ‘স্লিপিং বুদ্ধ’ নামে পরিচিত। এছাড়াও রাস্তার দুপাশে রডোডেনড্রন ও ম্যাগনোলিয়ার বন, মেঘের খেলা এবং সূর্যোদয় ও সূর্যাস্তের অসাধারণ দৃশ্য ভ্রমণপিপাসুদের মুগ্ধ করে। অক্টোবর থেকে নভেম্বর মাস ক্রিস্টাল ক্লিয়ার ভিউ পাওয়ার জন্য সেরা সময়।
থাকা-খাওয়ার তথ্য
মানেভাঞ্জন, মেঘমা, তুম্বিলিং, কালিপোখরি এবং সান্দাকফুতে থাকার জন্য চমৎকার হোমস্টে এবং জিটিএ-র ট্রেকার্স হাট রয়েছে। খাবারের তালিকায় মূলত পাহাড়ি ডাল, ভাত, ডিম ও মোমোর মতো সাধারণ কিন্তু সুস্বাদু খাবার পাওয়া যায়।
FAQ
প্রশ্ন ১: সান্দাকফু যাওয়ার সেরা সময় কবে?
উত্তর: অক্টোবর থেকে নভেম্বর মাস সবচেয়ে ভালো সময়। এছাড়া বরফ দেখতে চাইলে জানুয়ারি থেকে মার্চ এবং ফুল দেখতে চাইলে এপ্রিল থেকে মে মাস উপযুক্ত।
প্রশ্ন ২: সান্দাকফু ট্রেকের দূরত্ব কত?
উত্তর: মানেভাঞ্জন থেকে সান্দাকফু ও ফালুট হয়ে মোট দূরত্ব প্রায় ৩১ কিলোমিটার।


