মেঘালয়, শিলং ও চেরাপুঞ্জি: প্রকৃতির এক অপরূপ স্বর্গরাজ্য
ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের রূপসী রাজ্য মেঘালয় ভ্রমণপিয়াসীদের কাছে এক স্বপ্নের নাম। মেঘের কোলঘেঁষা পাহাড়ি রাস্তা, চোখ জুড়ানো জলপ্রপাত এবং পাইন বনের সুবাস নিয়ে গড়ে ওঠা এই রাজ্যকে বলা হয় ‘প্রাচ্যের স্কটল্যান্ড’। শিলং হলো এই রাজ্যের প্রাণকেন্দ্র, আর চেরাপুঞ্জি (যাকে স্থানীয়ভাবে ‘সোহরা’ বলা হয়) পৃথিবীর অন্যতম বৃষ্টিবহুল এবং মনোরম স্থান। বাংলাদেশ সীমান্ত লাগোয়া হওয়ায় খুব অল্প খরচে ও সময়ে ঘুরে আসা যায় প্রকৃতির এই বিস্ময়কর রূপ রাজ্য থেকে।
কীভাবে যাবেন এবং আনুমানিক খরচ
বাংলাদেশ থেকে মেঘালয় যাওয়া সবচেয়ে সহজ ও সুবিধাজনক মাধ্যম হলো সিলেটের তামাবিল সীমান্ত। সীমান্ত পার হয়ে ভারতের ডাউকি (Dawki) হয়ে সহজেই শিলং বা চেরাপুঞ্জি পৌঁছানো যায়।
- রুট: ঢাকা থেকে বাস বা ট্রেনে সিলেট > সিলেট থেকে সিএনজি/ট্যাক্সিতে তামাবিল বর্ডার > ইমিগ্রেশন শেষ করে ডাউকি > ডাউকি থেকে ট্যাক্সি বা শেয়ার্ড ক্যাবে শিলং (দূরত্ব প্রায় ৮৫ কিমি)।
- যাতায়াত খরচ: ডাউকি থেকে শিলং লোকাল ট্যাক্সিতে জনপ্রতি ৩০০-৪০০ রুপি এবং রিজার্ভ নিলে ১৫00-২০০০ রুপি লাগতে পারে। চেরাপুঞ্জি ঘোরার জন্য প্রতিদিনের ট্যাক্সি ভাড়া ২৫০০-৩৫০০ রুপি।
- মোট বাজেট: ৩ রাত ৪ দিনের একটি বাজেট ট্রিপে জনপ্রতি আনুমানিক ১০,০০০ থেকে ১৫,০০০ টাকা খরচ হতে পারে (ভিসা ও পোর্ট ট্যাক্স ব্যতীত)।
শিলং ও চেরাপুঞ্জির প্রধান দর্শনীয় স্থানসমূহ
প্রকৃতির বৈচিত্র্যে ভরপুর এই অঞ্চলের প্রধান প্রধান আকর্ষণগুলো নিচে আলোচনা করা হলো:
১. নোহকালিকাই জলপ্রপাত (Nohkalikai Falls)
চেরাপুঞ্জির অন্যতম প্রধান আকর্ষণ ভারতের উচ্চতম এই সোজা নিচে নেমে আসা ঝর্ণাটি। বিশাল উচ্চতা থেকে নীল জলের কুণ্ডে গড়িয়ে পড়া এই জলপ্রপাতের দৃশ্য এক কথায় অসাধারণ।
২. লিভিং রুট ব্রিজ (Living Root Bridge)
প্রকৃতি ও মানুষের যৌথ সৃষ্টি এই গাছের শেকড়ের সেতু। চেরাপুঞ্জির নোংরিয়াত গ্রামে অবস্থিত ‘ডাবল ডেকার লিভিং রুট ব্রিজ’ দেখার অভিজ্ঞতা সারাজীবন মনে রাখার মতো।
৩. সেভেন সিস্টার্স ফলস ও মাওসমাই গুহা
একসাথে সাতটি ধাপে নেমে আসা এই ঝর্ণার সৌন্দর্য বর্ষাকালে বহুগুণ বেড়ে যায়। এর পাশেই রয়েছে হাজার বছরের পুরনো রহস্যময় মাওসমাই চুনাপাথরের গুহা।
৪. শিলং পিঁক ও এলিফ্যান্ট ফলস
শিলং শহরের কাছেই অবস্থিত এলিফ্যান্ট ফলস তার তিন ধাপের জলপ্রপাতের জন্য বিখ্যাত। আর শিলং পিক থেকে পুরো শহরের প্যানোরামিক ভিউ উপভোগ করা যায়।
থাকা ও খাওয়ার ব্যবস্থা
শিলং এবং চেরাপুঞ্জি উভয় স্থানেই পর্যটকদের জন্য উন্নত মানের থাকার ও খাওয়ার সুবিধা রয়েছে।
- কোথায় থাকবেন: শিলং শহরের প্রাণকেন্দ্র ‘পুলিশ বাজার’ (Police Bazar) এলাকায় বাজেট থেকে বিলাসবহুল সব ধরণের হোটেল পাওয়া যায়। চেরাপুঞ্জিতে থাকতে চাইলে সোহরা বাজারের আশপাশের রিসোর্ট বা হোমস্টে বেছে নিতে পারেন।
- কী খাবেন: স্থানীয় খাসিয়াদের ঐতিহ্যবাহী খাবারের পাশাপাশি এখানে পর্যাপ্ত ভারতীয়, চাইনিজ এবং বাঙালি খাবার পাওয়া যায়। ট্রাই করতে পারেন স্থানীয় চালের পিঠা ‘পুকলেইন’ ও সুস্বাদু মোমো।
সাধারণ কিছু প্রশ্ন (FAQ)
প্রশ্ন ১: মেঘালয় ভ্রমণের সেরা সময় কোনটি?
উত্তর: বর্ষাকাল এবং বর্ষার ঠিক পরপরই (জুন থেকে অক্টোবর) মেঘালয় ও চেরাপুঞ্জির জলপ্রপাতগুলো পূর্ণ যৌবন পায়। তবে মনোরম আবহাওয়ার জন্য সেপ্টেম্বর থেকে মার্চ মাস পর্যন্ত সফর করা উত্তম।
প্রশ্ন ২: চেরাপুঞ্জি যেতে বাংলাদেশিদের জন্য কোন বর্ডার সুবিধাজনক?
উত্তর: সিলেটের তামাবিল – ডাউকি (Tamabil – Dawki) বর্ডার ব্যবহার করা সবচেয়ে সুবিধাজনক ও দ্রুততম পথ।
আইটেনারি
- ডাউকি বর্ডার
- উমক্রেম রিভার
- উমক্রেম ফলস
- বোরহিল ফলস
- লিভিংরুট ব্রিজ
- মাওলিনং ভিলেজ
- সেভেন সিস্টার ফলস
- দ্যা গার্ডেন অফ কেইভ
- নোহকালিকাই ফলস
- লাইটলুম ক্যানিয়ন
- উমিয়াম লেক
- ডাউকি রিভার
- ডাউকি ব্রিজ
- কায়াকিং
- সুইমিং


