• Home
  • Trip
  • হিমাচল প্রদেশের মিনি তিব্বত ধর্মশালা ভ্রমণ গাইড: খরচ, দর্শনীয় স্থান ও যাতায়াত

হিমাচল প্রদেশের মিনি তিব্বত ধর্মশালা ভ্রমণ গাইড: খরচ, দর্শনীয় স্থান ও যাতায়াত

পরিচিতি

ভারতের হিমাচল প্রদেশের কাংড়া জেলায় অবস্থিত ধর্মশালা (Dharamsala) শহরটি বিশ্বজুড়ে দলাই লামার আবাসস্থল হিসাবে সুপরিচিত। অনেকে একে ধরমশালা নামেও ডেকে থাকেন। সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে ১৪৫৭ মিটার উচ্চতায় অবস্থিত এই শহরে তিব্বতীয় সংস্কৃতি অত্যন্ত গভীরভাবে জড়িয়ে আছে। ফলে পর্যটকরা তিব্বতে না গিয়েই এখানকার মাটিতে বসে তিব্বতী সংস্কৃতির এক অপূর্ব অনুভূতি লাভ করতে পারেন। শুরুতে এই শহরের নাম ছিল ভাগসু। এখানকার পাহাড়ের গায়ে জমে থাকা বরফ এবং ম্যাকলিয়ডগঞ্জ, বাসুনাগ, নাদি ও ধলাধার পাহাড়ের সৌন্দর্য যেকোনো ভ্রমণপিপাসুর মন কেড়ে নেয়। এখানকার পরিকল্পিত জনবসতি এবং পাহাড়ি পরিবেশ এক অন্যরকম প্রশান্তি এনে দেয়।

যাওয়ার উপায় ও খরচ

বাংলাদেশ বা ভারত থেকে ধর্মশালা যাওয়ার জন্য প্রথমে আপনাকে ভারতের দিল্লি পৌঁছাতে হবে। দিল্লি থেকে বাসে বা বিমানে হিমাচল প্রদেশে যাওয়া যায়। ধর্মশালার সবচেয়ে কাছের বিমানবন্দর হলো গগগল বিমানবন্দর (কাংড়া বিমানবন্দর), যা শহর থেকে প্রায় ১৩ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত। এছাড়া দিল্লির কাশ্মীর গেট বা মজনু কা টিলা থেকে নিয়মিত লাক্সারি বাস ছাড়ে ধর্মশালার উদ্দেশ্যে। বাসভাড়া সাধারণত ১,০০০ থেকে ২,,৫০০ ভারতীয় রুপি পর্যন্ত হতে পারে। থাকা, খাওয়া ও ঘোরাঘুরি মিলিয়ে মাথাপিছু দৈনিক ২,০০০ থেকে ৪,০০০ রুপি বাজেট করলেই একটি চমৎকার ভ্রমণ সম্পন্ন করা সম্ভব।

দর্শনীয় দিক

ধর্মশালায় দেখার মতো অনেক আকর্ষণীয় স্থান রয়েছে। নিচে প্রধান দর্শনীয় স্থানগুলোর তালিকা দেওয়া হলো:

কাংড়া শিল্পের মিউজিয়াম: এই মিউজিয়ামে কাংড়া-শৈলীর অসাধারণ শিল্পকর্ম, ক্ষুদ্র অঙ্কনচিত্র, মন্দিরের খোদাইকার্য, বুননকার্য, হাতিয়ার, পালকি এবং সূচিকর্ম সংরক্ষিত রয়েছে যা আপনাকে প্রাচীন ঐতিহ্যর সাথে পরিচিত করবে।

সূগলাগখাঙ্গ ভবন: এটি তিব্বতের বাইরে অবস্থিত সবচেয়ে বড় তিব্বতি মন্দির। এখানে শাক্যমুনি বুদ্ধের সুন্দর মূর্তি ও ধ্যান সভাগৃহ রয়েছে। মন্দিরের প্রার্থনা চক্র ঘুরিয়ে এবং ধূপকাঠির সুবাসে এক অন্যরকম মানসিক শান্তি পাওয়া যায়।

তিব্বত মিউজিয়াম: ম্যাকলিওড গঞ্জের প্রধান মন্দির প্রাঙ্গণের অভ্যন্তরে অবস্থিত এই মিউজিয়ামে তিব্বতের ঐতিহাসিক ঘটনাবলী এবং তিব্বতি ইতিহাস সম্পর্কে বিস্তারিত ধারণা পাওয়া যায়।

ম্যাকলিয়ডগঞ্জ: ভূপৃষ্ঠ থেকে ৬,৩৮১ ফুট উঁচুতে অবস্থিত এই পাহাড়ি এলাকাটি দালাইলামা ও তার শিষ্যদের কর্মক্ষেত্র হিসেবে পরিচিত। এখানকার সুরম্য বৌদ্ধাশ্রম পর্যটকদের প্রধান আকর্ষণের কেন্দ্রবিন্দু।

থাকা-খাওয়ার তথ্য

ধর্মশালা এবং ম্যাকলিয়ডগঞ্জে বাজেট হোটেল থেকে শুরু করে লাক্সারি রিসোর্ট পর্যন্ত সব ধরনের থাকার সুব্যবস্থা রয়েছে। সিজন অনুযায়ী রুমের ভাড়ায় তারতম্য হয়, তবে ১,৫০০ থেকে ৪,০০০ রুপির মধ্যে ভালো মানের রুম পেয়ে যাবেন। খাবারের ক্ষেত্রে এখানে তিব্বতি এবং পাহাড়ি খাবারের আধিক্য দেখা যায়। মোমো, থুকা, এবং স্থানীয় নিরামিষ খাবার অত্যন্ত জনপ্রিয়। এছাড়া বেশ কিছু ক্যাফে রয়েছে যেখান থেকে পাহাড়ি উপত্যকার সৌন্দর্য উপভোগ করতে করতে খাবার খাওয়া যায়।

FAQ

প্রশ্ন ১: ধর্মশালা ভ্রমণের সেরা সময় কোনটা?
উত্তর: মার্চ থেকে জুন এবং সেপ্টেম্বর থেকে নভেম্বর মাস ধর্মশালা ভ্রমণের জন্য সবচেয়ে উপযুক্ত সময়।

প্রশ্ন ২: ধর্মশালা কি বরফ দেখার জন্য ভালো জায়গা?
উত্তর: হ্যাঁ, শীতকালে এবং বিশেষ করে ধলাধার পাহাড়ে প্রচুর বরফ দেখা যায় যা অত্যন্ত নয়নাভিরাম।

প্রশ্ন ৩: ধর্মশালা যাওয়ার জন্য কি কোনো বিশেষ পারমিটের প্রয়োজন হয়?
উত্তর: ভারতীয় নাগরিকদের জন্য কোনো পারমিট লাগে না, তবে বিদেশি পর্যটকদের বৈধ ভিসা ও পাসপোর্ট থাকতে হয়।

0
0
অর্ডার লিস্ট
কার্টে কিছু নেইআবার অর্ডার করুন