• Home
  • Trip
  • মেঘের রাজ্য ফু থাপ বোয়েক ভ্রমণ গাইড: খরচ, যাতায়াত ও দর্শনীয় স্থান

মেঘের রাজ্য ফু থাপ বোয়েক ভ্রমণ গাইড: খরচ, যাতায়াত ও দর্শনীয় স্থান

1 Day

ফু থাপ বোয়েক পরিচিতি: মেঘের সাথে মিতালি

আপনি কি এমন একটি জায়গার খোঁজ করছেন যেখানে ঘুম ভাঙলেই মেঘের দেখা মিলবে? থাইল্যান্ডের ফেচাবেন প্রদেশের লম কাও জেলায় অবস্থিত ফু থাপ বোয়েক (Phu Thap Boek) ঠিক তেমনই এক জাদুকরি পাহাড়ি জনপদ। ফেচাবেন পর্বতমালার সর্বোচ্চ চূড়ায় অবস্থিত এই স্থানটির উচ্চতা সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে প্রায় ১৭৬৮ মিটার। পাহাড়প্রেমী ও মেঘবিলাসীদের কাছে এটি স্বর্গরাজ্য বললেই চলে। ব্যাংকক থেকে প্রায় ৪০০ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত হলেও এর মনোমুগ্ধকর প্রাকৃতিক সৌন্দর্য এবং সারা বছরব্যাপী ঠান্ডা আবহাওয়ার কারণে পর্যটকদের কাছে এর জনপ্রিয়তা আকাশছোঁয়া। গ্রীষ্মকালেও এখানকার তাপমাত্রা প্রায় ২০ ডিগ্রি সেলসিয়াসের আশপাশে থাকে, যা ক্লান্তি দূর করতে দারুণ এক অবকাশ যাপন উপহার দেয়।

ফু থাপ বোয়েক এর আকর্ষণীয় দর্শনীয় দিক

ফু থাপ বোয়েকে পৌঁছানোর পর আপনার চোখের সামনে যে দৃশ্য ভেসে উঠবে, তা রূপকথার কোনো রাজ্যের চেয়ে কম নয়। এখানকার প্রধান আকর্ষণ ও দেখার মতো বিষয়গুলো হলো:

  • সকালের সূর্যোদয় ও মেঘের সমুদ্র: খুব ভোরে ঘুম থেকে উঠলে মনে হবে আপনি আক্ষরিক অর্থেই মেঘের ওপর ভাসছেন। কুয়াশা আর মেঘের এই লুকোচুরি খেলা দেখার জন্য হাজারো পর্যটক ভোরবেলা এখানে ভিড় জমান।
  • মং উপজাতির বাঁধাকপির ক্ষেত: স্থানীয় মং (Hmong Hill Tribes) আদিবাসীরা পাহাড়ের গায়ে বিশাল এলাকজুড়ে বাঁধাকপির জুম চাষ করেন। সবুজ পাহাড়ের বুকে এই বিস্তীর্ণ সবজি খেত এখানকার ল্যান্ডস্কেপকে বহুগুণ বাড়িয়ে দিয়েছে।
  • পাহাড়ি মন্দির ও উপত্যকা: চারপাশের ভ্যালীর অসাধারণ panoramic ভিউয়ের পাশাপাশি এখানে একটি নান্দনিক মন্দির রয়েছে, যা ঘুরে দেখতে পারেন।
  • ঋতুভিত্তিক রূপ: ডিসেম্বর থেকে জানুয়ারি মাসে পুরো পাহাড়ি এলাকা চেরি ফুলে সেজে ওঠে। আবার বর্ষাকালে চারপাশ থাকে ঘন মেঘে ঢাকা।

কখন যাবেন ফু থাপ বোয়েক?

বছরের বিভিন্ন সময়ে এই পাহাড়ি রূপের ভিন্ন ভিন্ন স্বাদ পাওয়া যায়:

  • সেরা সময় (শীতকাল): ডিসেম্বর থেকে জানুয়ারি মাস হলো ভ্রমণের সবচেয়ে আদর্শ সময়। এ সময় আবহাওয়া বেশ ঠান্ডা থাকে এবং চেরি ফুলের সৌন্দর্য উপভোগ করা যায়।
  • মেঘের ঋতু: অক্টোবরের দিকে এখানে সবচেয়ে নিখুঁতভাবে ‘মেঘের সমুদ্র’ দেখা যায়। আর বর্ষাকালেও মেঘের আনাগোনা লেগেই থাকে।

যাতায়াত ও যাতায়াত খরচ

ব্যাংকক থেকে ফু থাপ বোয়েক যাওয়ার বেশ কয়েকটি মাধ্যম রয়েছে:

  • বাস বা বিমান: ব্যাংকক থেকে বাসে করে ফেচাবেন (Phetchabun) পৌঁছাতে সময় লাগবে প্রায় সাড়ে পাঁচ ঘণ্টা। বিমানে গেলে সময় লাগবে মাত্র ৫৫ মিনিটের মতো।
  • লোকাল যাতায়াত: ফেচাবেন বাসস্ট্যান্ড থেকে জীপ ভাড়া করে ফু থাপ বোয়েক যেতে হবে। রিজার্ভ জীপের ভাড়া ৩০০০ থাই বাথের মতো পড়তে পারে, তবে শেয়ারিংয়ে গেলে খরচ বেশ কমে যাবে।

কোথায় থাকবেন এবং খাওয়া-দাওয়া

ভোরের মেঘের সৌন্দর্য মিস করতে না চাইলে ফু থাপ বোয়েকেই রাত কাটানো বুদ্ধিমানের কাজ হবে। এখানে আপনার বাজেট অনুযায়ী বিভিন্ন থাকার ব্যবস্থা রয়েছে:

  • রিসোর্ট: সাধারণ রিসোর্টের ভাড়া ৪০০ থেকে ৮০০ থাই বাথ।
  • তাবু (Camping): সরকারি বা বেসরকারি তাবুতে থাকতে খরচ পড়বে ৩০০ থেকে ৬০০ থাই বাথ।
  • কটেজ: গ্রুপ নিয়ে ভ্রমণ করলে কটেজ ভাড়া নিতে পারেন, যার খরচ ২০০০ থেকে ৩০০০ থাই বাথ।

খাবার-দাবারের জন্য এখানে বেশ কিছু ভালো মানের রেস্টুরেন্ট রয়েছে। যেখানে থাই খাবারের পাশাপাশি চাইনিজ এবং ওয়েস্টার্ন ফুডও সহজে পাওয়া যায়।

সচরাচর জিজ্ঞাসিত প্রশ্নাবলী (FAQ)

১. ফু থাপ বোয়েক যেতে ব্যাংকক থেকে কত সময় লাগে?

ব্যাংকক থেকে বাসে ফেচাবেন হয়ে ফু থাপ বোয়েক পৌঁছাতে মোট ৬ থেকে ৭ ঘণ্টার মতো সময় লাগতে পারে।

২. এখানে যাওয়ার সেরা মাস কোনটি?

অক্টোবর থেকে জানুয়ারি মাস ফু থাপ বোয়েক ভ্রমণের জন্য সবচেয়ে সেরা সময়।

৩. ফু থাপ বোয়েকের আবহাওয়া কেমন থাকে?

উচ্চতার কারণে এখানে সারা বছরই ঠান্ডা আবহাওয়া বিরাজ করে। শীতকালে তাপমাত্রা অনেক কমে যায়, তাই পর্যাপ্ত গরম কাপড় সাথে রাখা জরুরি।

Free
/ এডাল্ট
0
0
অর্ডার লিস্ট
কার্টে কিছু নেইআবার অর্ডার করুন