• Home
  • Trip
  • তিনমুখ পিলার ভ্রমণ গাইড: বাংলাদেশ, ভারত ও মিয়ানমারের অদ্ভুত ত্রিদেশীয় সীমান্ত

তিনমুখ পিলার ভ্রমণ গাইড: বাংলাদেশ, ভারত ও মিয়ানমারের অদ্ভুত ত্রিদেশীয় সীমান্ত

তিনমুখ পিলার পরিচিতি

বাংলাদেশের পার্বত্য অঞ্চলের দুর্গম ও রোমাঞ্চকর ট্রেইলগুলোর মধ্যে অন্যতম হলো ‘তিনমুখ পিলার’। এটি এমন এক অনন্য সীমানা খুঁটি যার গায়ে খোদাই করা রয়েছে বাংলাদেশ, ভারত ও মিয়ানমার—এই তিন দেশের নাম। ভৌগোলিকভাবে রাঙ্গামাটি জেলার বিলাইছড়ি উপজেলায় অবস্থিত হলেও, ট্রেকারদের সুবিধার্থে বান্দরবানের রুমা হয়েই এখানে যাতায়াত করতে হয়। সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে প্রায় ২৯১৫ ফুট উঁচুতে রিং তাং (Reng Tlang) রেঞ্জের ‘মুখরা তুথাই হাফং’ এবং ‘লাইস্রা হাফং’ পাহাড়ের মধ্যবর্তী উপত্যকায় এর অবস্থান। ইংরেজি ‘W’ আকৃতির এই জায়গার ঠিক মাঝখানে দাঁড়িয়ে আছে তিনমুখ পিলার, যার ঠিক পাশেই রয়েছে দুই হাজার ফুট গভীর খাড়া খাদ। একদিকে ভারত আর অন্যদিকে মিয়ানমার—এই দুই দেশের সীমানা ছোঁয়া এক অবিশ্বাস্য অনুভূতি পেতে এখানে ছুটে যান অ্যাডভেঞ্চারপ্রেমীরা।

যাওয়ার উপায় ও রুট প্ল্যান

তিনমুখ পিলারের যাত্রা বেশ কঠিন এবং দীর্ঘমেয়াদী। নিচে এর রুট প্ল্যান দেওয়া হলো:

  • প্রথম দিন: বান্দরবান শহর থেকে চান্দের গাড়িতে প্রায় ৪ ঘণ্টার পথ পাড়ি দিয়ে পৌঁছে যান রুমা বাসস্ট্যান্ড। সেখান থেকে গাইড নিয়ে ঝিরিপথ ধরে হাঁটা শুরু। পাহাড়ি ঝিরির হাঁটু থেকে কোমর সমান পানি পেরিয়ে পৌঁছাতে হবে বগামুখপাড়ায়। প্রথম রাতের তাবুর বা স্থানীয়দের ঘরে রাত্রিযাপন।
  • দ্বিতীয় দিন: ভোরে রওনা হয়ে সাইকতপাড়া ও এ্যানোপাড়া পেরিয়ে রেমাক্রি খালের অংশ পার হতে হবে। এরপর প্রায় আড়াই ঘণ্টার কঠিন উজানমুখী ট্রেকিং শেষে পৌঁছাবেন পার্বত্য চট্টগ্রামের বৃহত্তম প্রাকৃতিক লেক ‘রাইক্ষ্যং লেক’-এর পূর্ব পাড়ে অবস্থিত ত্রিপুরা পাড়া ‘প্রাঞ্জনপাড়া’। এখানে দ্বিতীয় রাতের যাপন।
  • তৃতীয় দিন: প্রাঞ্জনপাড়া থেকে যাত্রা শুরু করে চাজিংপাড়ায় বিরতি। এরপর পাহাড়ি খাল ধরে সংরক্ষিত বনাঞ্চলের উঁচুতে অবস্থিত ‘শেপ্রুপাড়া’য় পৌঁছে তৃতীয় রাতের ক্যাম্পিং।
  • চতুর্থ দিন: শেপ্রুপাড়া থেকে মাত্র ৩ ঘণ্টার ট্রেকিংয়ে পৌঁছাবেন শেষ পাড়া ‘ধুপপানিছড়া’য়। সেখান থেকে বাঁশ ও লতাপাতা কেটে জঙ্গল পরিষ্কার করে শুরু হয় চূড়ান্ত অভিযান। দুর্গম পথ পেরিয়ে অবশেষে দেখা মেলে সেই কাঙ্ক্ষিত তিনমুখ পিলারের।

থাকা ও খাওয়ার তথ্য

এই রুটে কোনো আধুনিক হোটেল বা রিসোর্টের সুযোগ নেই। সম্পূর্ণ পথেই আদিবাসীদের পাড়ায় বাঁশ ও কাঠের তৈরি মাচাং ঘরে রাত্রিযাপন করতে হবে। খাবারের জন্য স্থানীয়দের সাথে কথা বলে ভাত, ডাল বা পাহাড়ি উপায়ে রান্না করা খাবার খেতে পারবেন। ট্রেইলে পর্যাপ্ত শুকনা খাবার, স্যালাইন, গ্লুকোজ এবং বিশুদ্ধ পানির ফিল্টার বা পিউরিফায়ার ট্যাবলেট সাথে রাখা বাধ্যতামূলক।

ভ্রমণ খরচ ও অন্যান্য প্রস্তুতি

গ্রুপের আকার এবং ভ্রমণের দিনের ওপর ভিত্তি করে খরচ নির্ভর করে। সাধারণত ৫-৭ দিনের এই ট্রিপে জনপ্রতি ১০,০০০ থেকে ১৫,০০০ টাকা পর্যন্ত খরচ হতে পারে। প্রধান খরচের খাতগুলো হলো:

  • গাইড ফি ও আর্মি পারমিশন খরচ
  • চান্দের গাড়ি বা লোকাল ট্রান্সপোর্ট ভাড়া
  • স্থানীয় পাড়ায় থাকা ও খাওয়ার খরচ

সতর্কতা ও প্রয়োজনীয় টিপস

ভারী বর্ষার সময়ে এই ট্রেইলে যাওয়া অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ, তাই শীতকালই ভ্রমণের সেরা সময়। অবশ্যই অভিজ্ঞ গাইড সাথে রাখবেন এবং প্রয়োজনীয় ট্রেকিং গিয়ার (ভালো গ্রিপের জুতো, রেইনকোট, ব্যাকপ্যাক) সাথে রাখবেন।

সচরাচর জিজ্ঞাসিত প্রশ্নাবলী (FAQ)

৩. তিনমুখ পিলার কোথায় অবস্থিত?

এটি রাঙ্গামাটি জেলার বিলাইছড়ি উপজেলায় বাংলাদেশ, ভারত ও মিয়ানমার সীমান্তে অবস্থিত। তবে বান্দরবানের রুমা হয়ে এখানে যাতায়াত করতে হয়।

৩. তিনমুখ পিলারের উচ্চতা কত?

তিনমুখ পিলারের আনুমানিক উচ্চতা সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে প্রায় ২৯১৫ ফুট।

৩. এই ভ্রমণে কত দিন সময় লাগে?

ঢাকা থেকে যাওয়া-আসা সহ সম্পূর্ণ ট্রেকিং সম্পন্ন করতে সাধারণত ৫ থেকে ৬ দিন সময় লাগে।

0
0
অর্ডার লিস্ট
কার্টে কিছু নেইআবার অর্ডার করুন