পরিচিতি
মৌলভীবাজার জেলার বড়লেখা উপজেলায় অবস্থিত প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের এক অপার আধার হলো পাথারিয়া পাহাড়, যার পূর্ব নাম ছিল আদম আইল। এই পাহাড়ের বুক চিরে পতিত পানিতেই সৃষ্টি হয়েছে বিখ্যাত মাধবকুণ্ড জলপ্রপাত। প্রায় এক হাজার বছর আগে এই অঞ্চলটি গভীর অরণ্যে পূর্ণ ছিল এবং এখানে পাথরি নামক নাগা জনগোষ্ঠীর বসবাস ছিল। তাদের নামানুসারেই এই অঞ্চলের নাম হয় পাথারিয়া। ২৪ কিলোমিটার জুড়ে বিস্তৃত এই পাহাড়টি ভারতের আসাম পর্যন্ত বিস্তৃত। এখানকার উঁচুচূড়া থেকে ভারতের করিমগঞ্জ জেলা স্পষ্টভাবে দেখা যায়। পাথারিয়া পাহাড় তার দুর্গম ট্রেইল, স্বচ্ছ পানির ঝরনা এবং আগর-আতর গাছের জন্য বিশেষভাবে পরিচিত।
যাওয়ার উপায় ও খরচ
ঢাকা থেকে সড়ক ও রেলপথে খুব সহজেই পাথারিয়া পাহাড়ে যাওয়া যায়। ঢাকা থেকে ট্রেনে যেতে চাইলে কমলাপুর বা বিমানবন্দর স্টেশন থেকে সিলেট বা কুলাউড়াগামী আন্তঃনগর ট্রেনে (উপবন, পারাবত, জয়ন্তিকা বা কালনী এক্সপ্রেস) চড়ে কুলাউড়া রেলওয়ে জংশনে নামতে হবে। কুলাউড়া থেকে সিএনজি বা লোকাল বাসে বড়লেখা হয়ে ডিমাই বাজারে পৌঁছানো যায়। এছাড়া ঢাকা থেকে ফকিরাপুল, সায়েদাবাদ বা মহাখালী বাস টার্মিনাল থেকে এনা, শ্যামলী বা রূপসী বাংলা বাসে সরাসরি বড়লেখা বা কাঁঠালতলী যাওয়া সম্ভব। কাঁঠালতলী বা ডিমাই থেকে সিএনজি রিজার্ভ করে পাথারিয়া পাহাড় বা মাধবকুণ্ডের কাছাকাছি যাওয়া যায়। জনপ্রতি যাতায়াত খরচ যাতায়াত মাধ্যম ভেদে ১০০০ থেকে ২৫০০ টাকার মতো হতে পারে।
দর্শনীয় দিক
পাথারিয়া পাহাড়ের প্রধান আকর্ষণ হলো এর গোপন ও চমৎকার সব ঝর্ণা। এখানে রয়েছে ঝেরঝেরি, কাখড়া ছড়ি, ফুল ঢালনি ঝেরঝেরি এবং ইটাউরি ফুলবাগিচা ঝর্ণা। স্থানীয় মানুষ এসব ঝর্ণার দারুণ সব নাম দিয়েছেন। উঁচু-নিচু টিলা এবং সবুজ বৃক্ষরাজির বুক চিরে বয়ে চলা ছড়ার ঠাণ্ডা পানি পর্যটকদের মুগ্ধ করে। এছাড়া ১৯৩৩ সালে স্থাপিত ব্রিটিশ আমলের একটি পরিত্যক্ত তেলকূপ এখানকার ঐতিহাসিক নিদর্শন। এই কূপের কাছাকাছি কান পাতলে এখনও মাটির নিচের গমগম শব্দ শোনা যায়। পাহাড়ি বনাঞ্চলে নাগকেশর, বাঁশ, বেত এবং শাসনি লেবুর সুবাস ভ্রমণকে আরও রোমাঞ্চকর করে তোলে।
থাকা-খাওয়ার তথ্য
পাথারিয়া পাহাড়ের ভেতরে সরাসরি থাকার কোনো আধুনিক আবাসিক হোটেল নেই। তাই পর্যটকদের মৌলভীবাজার শহর, শ্রীমঙ্গল বা বড়লেখা উপজেলা সদরে অবস্থান করতে হয়। বড়লেখা ও কুলাউড়াতে সাধারণ মানের কিছু গেস্টহাউস ও হোটেল পাওয়া যায়। উন্নতমানের রিসোর্ট বা হোটেলের জন্য শ্রীমঙ্গল বা মৌলভীবাজার শহরে থাকা ভালো। খাওয়ার জন্য বড়লেখা বাজার ও ডিমাই বাজারে স্থানীয় বাঙালি খাবার হোটেল রয়েছে যেখানে পাহাড়ি মাছ এবং সাধারণ গ্রামীণ খাবার পাওয়া যায়।
FAQ
প্রশ্ন ১: পাথারিয়া পাহাড়ে যাওয়ার সেরা সময় কোনটি?
উত্তর: বর্ষাকাল এবং শীতকাল পাথারিয়া পাহাড় ভ্রমণের জন্য সেরা সময়। বর্ষায় ঝর্ণাগুলো পূর্ণ যৌবন লাভ করে এবং শীতে আবহাওয়া অনুকূলে থাকে।
প্রশ্ন ২: পাথারিয়া পাহাড়ে কি গাইড নেওয়া জরুরি?
উত্তর: হ্যাঁ, ভেতরের দুর্গম ঝরনাগুলো যেমন ঝেরঝেরি বা কাখড়া ছড়িতে যাওয়ার জন্য স্থানীয় একজন গাইড নেওয়া নিরাপদ ও বুদ্ধিমানের কাজ।
প্রশ্ন ৩: পাথারিয়া পাহাড়ের কাছে বিখ্যাত কি রয়েছে?
উত্তর: পাথারিয়া পাহাড়ের উপর থেকে পতিত পানিতেই বিখ্যাত মাধবকুণ্ড জলপ্রপাত সৃষ্টি হয়েছে, যা এর সবচেয়ে নিকটবর্তী প্রধান আকর্ষণ।


