পাহাড়, ঝর্ণা আর নদীপ্রেমীদের জন্য বান্দরবান এক অন্যরকম অনুভূতির নাম। নাফাখুম কিংবা রেমাক්රীর চেয়ে কম সময়ে ও সহজে ঘুরে আসার মতো একটি চমৎকার ডেস্টিনেশন হলো বান্দরবানের রোয়াংছড়ির শীলবান্ধা ঝর্ণা। এর পাশেই রয়েছে রহস্যময় ও রোমাঞ্চকর দেবতাখুম। কম দূরত্বের কারণে আজকাল ভ্রমণপিপাসুদের প্রথম পছন্দ হয়ে উঠেছে এই রুটটি। চলুন জেনে নেওয়া যাক শীলবান্ধা ঝর্ণা ও দেবতাখুম ভ্রমণের আদ্যোপান্ত।
পরিচিতি ও দর্শনীয় দিক
বান্দরবান জেলার রোয়াংছড়ি উপজেলার কচ্ছপতলী ইউনিয়নে শীলবান্ধা ঝর্ণার অবস্থান। বান্দরবান সদর থেকে প্রায় ২০ কিলোমিটার দূরে রোয়াংছড়ি উপজেলা এবং সেখান থেকে আরও ১০ কিলোমিটার দূরে কচ্ছপতলী ইউনিয়ন। কচ্ছপতলী থেকে সামান্য পথ হেঁটে গেলেই শীলবান্ধা পাড়া এবং এর কাছাকাছি রয়েছে সুন্দর এই ঝর্ণাটি।
শীলবান্ধা ঝর্ণা ঘুরে তারাছা খালের পাড় ধরে কিছুদূর হাঁটলেই দেখা মিলবে বিখ্যাত দেবতাখুমের প্রথম অংশ। খাড়া পাহাড়ের খাঁদ, পাথরের গায়ে বুনো ফুল, ছোট ঝর্ণার কলতান এবং বাঁশের ভেলায় চড়ে দেবতাখুম পার হওয়ার অভিজ্ঞতা আপনার জীবনের অন্যতম সেরা একটি স্মৃতি হয়ে থাকবে।
যাওয়ার উপায় ও খরচ
ঢাকা বা চট্টগ্রাম থেকে প্রথমে আপনাকে বান্দরবান সদরে পৌঁছাতে হবে। চট্টগ্রাম বহদ্দারহাট টার্মিনাল থেকে বাসে বান্দরবান যেতে ভাড়া ১৩০ টাকা এবং সময় লাগবে আড়াই ঘণ্টার মতো।
বান্দরবান সদর থেকে রোয়াংছড়ি যাওয়ার জন্য বাস (ভাড়া ৬০-৮০ টাকা) অথবা চাঁদের গাড়ি/সিএনজি রিজার্ভ নিতে পারেন। রোয়াংছড়ি থেকে পুলিশ ক্লিয়ারেন্স নিয়ে কচ্ছপতলী বাজারে পৌঁছাতে হবে। কচ্ছপতলী বাজার থেকে আর্মি ক্যাম্পে নাম এন্ট্রি করে এবং স্থানীয় গাইড নিয়ে ট্রেকিং শুরু করতে হয়।
- বাস ভাড়া: ৬০-৮০ টাকা (বান্দরবান থেকে রোয়াংছড়ি)
- চাঁদের গাড়ি রিজার্ভ: ৪০০০-৪৫০০ টাকা (১৪ জন)
- সিএনজি রিজার্ভ: ২০০০ টাকা (যাতায়াত, ৪-৫ জন)
- মোটরসাইকেল: ১৫০ টাকা প্রতি জন (বান্দরবান থেকে কচ্ছপতলী)
খাওয়া-দাওয়া ও থাকার ব্যবস্থা
কচ্ছপতলী বাজার বা শীলবান্ধা পাড়াতেই স্থানীয়দের সহায়তায় খাবারের ব্যবস্থা করা যায়। শীলবান্ধা পাড়ায় প্রতিবেলা সাধারণ খাবারের খরচ বেশ সাশ্রয়ী:
- ভাত ও মুরগির মাংস: ২০০ টাকা
- ভাত ও ডিম: ১০০ টাকা
ডে ট্রিপের জন্য কচ্ছপতলী বাজারেই দুপুরের খাবারের অর্ডার করে যাওয়া বুদ্ধিমানের কাজ হবে। রাত্রীযাপনের জন্য বান্দরবান সদরে ফিরে আসাই উত্তম, কারণ স্থানীয় পাড়াগুলোতে আধুনিক হোটেল সুবিধা নেই।
নিরাপত্তা ও জরুরি টিপস
দুর্গম পাহাড়ি এলাকা হওয়ায় এখানে নিরাপত্তার বিষয়টি অত্যন্ত কড়াকড়ি। কচ্ছপতলী আর্মি ক্যাম্পে পর্যটকদের নাম ও পরিচয়পত্র এন্ট্রি করতে হয়। কমিউনিটি পুলিশ ও স্থানীয় গাইডরা সার্বক্ষণিক আপনাদের নিরাপত্তায় নিয়োজিত থাকেন।
- অবশ্যই জাতীয় পরিচয়পত্র (NID) অথবা এর ফটোকপি ও ছবি সাথে রাখবেন।
- সন্ধ্যা ৫:৩০ টার মধ্যে নির্দিষ্ট এলাকার কার্যক্রম শেষ করে নিরাপদ আশ্রয়ে ফিরে আসতে হবে।
- হাঁটার উপযোগী ভালো গ্রিপের কেডস বা ট্রেকিং স্যান্ডেল ব্যবহার করুন।
- প্লাস্টিক বা অপচনশীল বর্জ্য প্রকৃতিতে ফেলবেন না।
FAQ (সচরাচর জিজ্ঞাসিত প্রশ্নাবলী)
১. শীলবান্ধা ঝর্ণা কোথায় অবস্থিত?
এটি বান্দরবান জেলার রোয়াংছড়ি উপজেলার কচ্ছপতলী ইউনিয়নে অবস্থিত।
২. শীলবান্ধা ঝর্ণার সাথে কি দেবতাখুম ঘুরে দেখা সম্ভব?
হ্যাঁ, শীলবান্ধা ঝর্ণা ঘুরে খুব সহজেই হেঁটে দেবতাখুমের প্রথম অংশে যাওয়া যায় এবং ভেলায় চড়ে পুরো দেবতাখুম ঘুরে দেখা যায়।
৩. গাইড নেওয়া কি বাধ্যতামূলক?
নিরাপত্তা এবং সঠিক পথ চেনার জন্য স্থানীয় গাইড নেওয়া বাধ্যতামূলক এবং এটি বেশ উপকারী।
৪. ন্যূনতম কত খরচ হতে পারে?
দলগতভাবে গেলে যাতায়াত ও খাওয়া বাবদ প্রতি জন ১,০০০ থেকে ১,৫০০ টাকার মধ্যে ঘুরে আসতে পারবেন।


