• Home
  • Trip
  • হিমছড়ি ভ্রমণ গাইড: পাহাড় ও সমুদ্রের মিতালীতে এক রোমাঞ্চকর অভিজ্ঞতা

হিমছড়ি ভ্রমণ গাইড: পাহাড় ও সমুদ্রের মিতালীতে এক রোমাঞ্চকর অভিজ্ঞতা

হিমছড়ি পরিচিতি: পাহাড় ও সাগরের অনন্য মিলনমেলা

কক্সবাজার সমুদ্র সৈকত থেকে মাত্র ১২ কিলোমিটার দক্ষিণে প্রকৃতির এক অপূর্ব সৃষ্টি হিমছড়ি। একদিকে সুবিশাল সমুদ্রের গর্জন আর অন্যদিকে সবুজ পাহাড়ের সারি—এই দুইয়ের মাঝখানে মেরিন ড্রাইভ ধরে হিমছড়ির পথচলা যে কাউকে এক পলকে মোহিত করবে। কক্সবাজারের মূল সৈকতের তুলনায় এখানকার বিচ অনেক বেশি নির্জন, পরিষ্কার এবং শান্ত। যারা একটু নিরিবিলিতে প্রকৃতির রূপ উপভোগ করতে চান, তাদের জন্য হিমছড়ি আদর্শ একটি জায়গা। এখানকার পাহাড়ের গায়ে লুকিয়ে থাকা ঝরনা এবং চূড়া থেকে দেখা সমুদ্রের নীল দিগন্ত পর্যটকদের মনে আলাদা এক শিহরণ জাগায়।

মেরিন ড্রাইভের রোমাঞ্চকর যাত্রা

হিমছড়ি যাওয়ার অভিজ্ঞতা কেবল গন্তব্যে পৌঁছে শেষ হয় না, বরং যাওয়ার পথটিই এর সবচেয়ে বড় আকর্ষণ। কক্সবাজার থেকে হিমছড়ি যাওয়ার মেরিন ড্রাইভ রোডটি দেশের অন্যতম সুন্দর রাস্তা। রাস্তার দুই পাশের দৃশ্য এতটাই মনোমুগ্ধকর যে একে কোনো রূপকথার দেশের চেয়ে কম মনে হবে না।

  • খোলা জিপে রোমাঞ্চ: যারা বন্ধুদের সাথে হৈ-হুল্লোড় করতে পছন্দ করেন, তাদের জন্য খোলা ছাদের জিপ বা চান্দের গাড়ি সেরা বাহন। বাতাসের বেগে জিপ ছুটে চলার সময় চারপাশের সৌন্দর্য দেখতে দেখতে এক জাদুকরী অনুভূতি হয়।
  • পরিবার নিয়ে রিকশায় ভ্রমণ: যারা একটু শান্ত ও নিরিবিলি পরিবেশে পরিবার নিয়ে ভ্রমণ করতে চান, তারা রিকশা বা অটোরিকশা বেছে নিতে পারেন। চিংড়ি হ্যাচারি এবং পাহাড়ের কোল ঘেঁষে হেঁটে যাওয়ার অভিজ্ঞতা দারুণ।

হিমছড়ির দর্শনীয় দিক ও ইকোপার্ক

হিমছড়ি পাহাড়ি এলাকায় প্রবেশ করতে হলে নির্ধারিত মূল্যে টিকেট কেটে ইকোপার্কে প্রবেশ করতে হয়। এখানকার মূল আকর্ষণগুলো হলো:

  • হিমছড়ি পাহাড় ও সিড়ি বেয়ে ওঠা: ইকো পার্কের ভেতর প্রায় দুই শতাধিক সিঁড়ি বেয়ে পাহাড়ের উপরে উঠতে হয়। কিছুটা ক্লান্তি আসলেও চূড়ায় ওঠার পর যখন পুরো কক্সবাজার সৈকতের প্যানোরামিক ভিউ চোখে পড়ে, তখন সব ক্লান্তি নিমেষেই মিলিয়ে যায়।
  • পাহাড়ি ঝরনা: পাহাড়ের বুক চিরে নেমে আসা ছোট ছোট ঝরনাগুলো হিমছড়ির সৌন্দর্য বহুগুণ বাড়িয়ে দেয়। বিশেষ করে বর্ষাকালে এই ঝরনাগুলোর রূপ হয়ে ওঠে দেখার মতো।

টিকেট মূল্য: হিমছড়ি ইকোপার্কে প্রবেশের জন্য জনপ্রতি মাত্র ২০ টাকার টিকেট কাটতে হবে।

হিমছড়ি কীভাবে যাবেন এবং যাতায়াত খরচ

হিমছড়ি যাওয়ার জন্য প্রথমে আপনাকে বাসে, ট্রেনে বা বিমানে করে কক্সবাজার পৌঁছাতে হবে। নিচে বিস্তারিত দেওয়া হলো:

ঢাকা থেকে কক্সবাজার

  • বাসে: হানিফ, শ্যামলী, এস আলম, গ্রিন লাইন, সেন্টমার্টিনসহ বিভিন্ন এসি ও নন-এসি বাস নিয়মিত যাতায়াত করে। ভাড়া ৯০০ থেকে ২,০০০ টাকার মধ্যে।
  • বিমানে: ঢাকা থেকে নভোএয়ার বা অন্যান্য বিমানে মাত্র ৪৫ মিনিটে সরাসরি কক্সবাজার পৌঁছানো যায়। ভাড়া প্রায় ৬,৫০০ থেকে ৮,০০০ টাকা।

কক্সবাজার থেকে হিমছড়ি

  • খোলা জিপ: জনপ্রতি ভাড়া ৭০ থেকে ১০০ টাকা। রিজার্ভ নিলে ১৪ ইকোল থেকে ১৬০০ টাকা পর্যন্ত হতে পারে।
  • রিকশা/অটোরিকশা: রিকশায় যাওয়া-আসা ৩০০-৩৫০ টাকা এবং ব্যাটারিচালিত রিকশায় ৫০০-৬০০ টাকা খরচ হতে পারে।

থাকা ও খাওয়ার ব্যবস্থা

হিমছড়িতে থাকার জন্য বড় কোনো হোটেল বা রিসোর্ট নেই। পর্যটকরা সাধারণত কক্সবাজারের সুগন্ধা বা কলাতলী সৈকত এলাকার কোনো হোটেল, মোটেল বা রিসির্টে অবস্থান করেন। হিমছড়িতে সারাদিন ঘুরে আবার কক্সবাজারে ফিরে আসাটাই সবচেয়ে সুবিধাজনক। খাওয়ার জন্য মেরিন ড্রাইভের পাশে ও হিমছড়ি বাজারে কিছু স্থানীয় খাবারের হোটেল রয়েছে, যেখানে তাজা সামুদ্রিক মাছের স্বাদ নিতে পারেন।

সচরাচর জিজ্ঞাসিত প্রশ্নাবলী (FAQ)

১. হিমছড়ি যাওয়ার সবচেয়ে ভালো সময় কোনটি?

উত্তর: নভেম্বর থেকে মার্চ মাস পর্যন্ত অর্থাৎ শীতকাল হিমছড়ি ভ্রমণের জন্য সবচেয়ে উপযুক্ত সময়। তবে বর্ষাকালে এখানকার ঝরনাগুলোর রূপ দেখতে চাইলে বর্ষায়ও যেতে পারেন।

২. হিমছড়ির এন্ট্রি ফি কত?

উত্তর: হিমছড়ি ইকোপার্কে প্রবেশ করতে জনপ্রতি ২০ টাকার টিকেট কাটতে হয়।

৩. পরিবার নিয়ে কি হিমছড়ি যাওয়া নিরাপদ?

উত্তর: হ্যাঁ, সম্পূর্ণ নিরাপদ। রাস্তাঘাট চমৎকার এবং সেনাবাহিনীর ক্যাম্প থাকায় নিরাপত্তা ব্যবস্থা বেশ ভালো। তবে পাহাড়ি সিঁড়ি ওঠার সময় একটু সাবধানতা অবলম্বন করা উচিত।

0
0
অর্ডার লিস্ট
কার্টে কিছু নেইআবার অর্ডার করুন