• Home
  • Trip
  • সোনাংপেডেং ট্রাভেল গাইড: মেঘালয়ের স্বচ্ছ জলের স্বর্গে এক দিন

সোনাংপেডেং ট্রাভেল গাইড: মেঘালয়ের স্বচ্ছ জলের স্বর্গে এক দিন

সোনাংপেডেং পরিচিতি: মেঘালয়ের লুকানো রত্ন

ভারতের মেঘালয় রাজ্যের ডাউকি এলাকার একটি ছোট ও শান্ত গ্রাম হলো সোনাংপেডেং বা শ্নোনেংপেডেং। জৈন্তা হিলস জেলার এই গ্রামটি পর্যটকদের কাছে পরিচিত এর অসাধারণ সুন্দর উমাংগট নদীর জন্য। শিলং থেকে প্রায় ৯৫ কিলোমিটার এবং ডাউকি বর্ডার থেকে মাত্র ৫ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত এই স্থানটি প্রকৃতিপ্রেমীদের জন্য একটি স্বর্গরাজ্য। এখানকার মূল আকর্ষণ হলো কাঁচের মতো স্বচ্ছ জলের নদী, যার ওপর নৌকা ভাসলে মনে হয় নৌকাটি বাতাসে উড়ছে। পাহাড়ের কোলে ঘেরা এই গ্রামে কাটা কয়েকটা দিন আপনার জীবনের অন্যতম সেরা অভিজ্ঞতা হয়ে থাকবে।

যাওয়ার উপায় ও বাজেট খরচ

বাংলাদেশ থেকে সোনাংপেডেং যাওয়ার পথ বেশ সহজ। ডাউকি বর্ডার দিয়ে ভারতে প্রবেশ করে সহজেই লোকাল বাহনে চড়ে পৌঁছে যাওয়া যায়। আপনি যদি ৬ জনের একটি বাজেট ফ্রেন্ডলি গ্রুপের অংশ হন, তবে জনপ্রতি সম্ভাব্য খরচের একটি ধারণা নিচে দেওয়া হলো:

  • ঢাকা থেকে সিলেট ট্রেন ভাড়া: ২৮৫ টাকা
  • সকালের নাস্তা: ৪০ টাকা
  • সিলেট থেকে তামাবিল লোকাল যাতায়াত: ১০০ টাকা
  • তামাবিল থেকে সোনাংপেডেং ট্রান্সপোর্ট: ২৫০ টাকা
  • দুপুরের খাবার: ১৫০ টাকা
  • কটেজ বা তাঁবুতে রাত্রিযাপন: ৩৫০ টাকা
  • রাতের খাবার: ১৫০ টাকা
  • রিটার্ন খরচ (তামাবিল ও সিলেট হয়ে ঢাকা): প্রায় ৭৬০ টাকা

সব মিলিয়ে খুব কম খরচে অসাধারণ একটি আন্তর্জাতিক ভ্রমণ সম্পন্ন করা সম্ভব।

দর্শনীয় দিক ও রোমাঞ্চকর এক্টিভিটিজ

সোনাংপেডেং মানেই রোমাঞ্চ আর শিহরণ। এখানকার প্রধান দর্শনীয় স্থান ও কার্যক্রমগুলো একনজরে দেখে নিন:

  • স্বচ্ছ জলের উমাংগট নদী: দিনের আলোয় নদীর এতই স্বচ্ছতা থাকে যে নৌকার ছায়া তলায় স্পষ্ট দেখা যায়।
  • নৌকা বিহার ও কায়াকিং: ৫০০ রুপিতে নৌকা রিজার্ভ করে উজান থেকে ঘুরে আসতে পারেন। এছাড়া কায়াকিংয়ের জন্য ঘণ্টাভিত্তিক কায়াক ভাড়া পাওয়া যায়।
  • জিপ লাইন ও স্কুবা ডাইভিং: ৩০০ রুপিতে জিপ লাইনিং এবং প্রায় ৩০০০ রুপিতে ২৫-৩০ মিনিটের স্কুবা ডাইভিংয়ের সুযোগ রয়েছে।
  • স্নোরকেলিং ও ক্লিফ জাম্পিং: সাঁতারপ্রেমীদের জন্য নদীর স্বচ্ছ জলে স্নোরকেলিং ও ক্লিফ জাম্পিং দারুণ অভিজ্ঞতা দেয়।
  • ঝুলন্ত সেতু: নদীর ওপর দুটি ঝুলন্ত ব্রিজ রয়েছে, যেখান থেকে পুরো এলাকার প্যানোরামিক ভিউ পাওয়া যায়।

থাকা ও খাওয়ার তথ্য

রাত্রিযাপনের জন্য নদীর তীরেই রয়েছে চমৎকার সব কটেজ ও ক্যাম্পিংয়ের ব্যবস্থা। তাঁবুতে বা কটেজে রাত কাটানোর অনুভূতি দারুণ। রাতের বেলা নদীর তীরে ফায়ারক্যাম্প ও বারবিকিউ পার্টির আয়োজন করা যায়। খাবারের জন্য স্থানীয় ছোট ছোট রেস্তোরাঁগুলোতে দেশীয় স্বাদের সুস্বাদু খাবার বেশ কম খরচে পেয়ে যাবেন। পাহাড়ি আবহে নদীর কুলকুল ধ্বনি শুনতে শুনতে রাতের খাবার খাওয়ার অভিজ্ঞতা সত্যিই ভোলার নয়।

সচরাচর জিজ্ঞাসিত প্রশ্নাবলী (FAQ)

১. সোনাংপেডেং যাওয়ার সেরা সময় কোনটি?

নভেম্বর থেকে এপ্রিল মাস সোনাংপেডেং ভ্রমণের জন্য সেরা সময়। এই সময়ে নদীর জল সবচেয়ে বেশি স্বচ্ছ থাকে।২. সোনাংপেডেংয়ে লাইফ জ্যাকেট পরা কি বাধ্যতামূলক?

হ্যাঁ, উমাংগট নদীতে বোটিং, কায়াকিং বা সাঁতার কাটতে নামার সময় লাইফ জ্যাকেট পরা বাধ্যতামূলক ও নিরাপত্তার স্বার্থে অত্যন্ত জরুরি।৩. ডাউকি বর্ডার থেকে সোনাংপেডেং কীভাবে যাব?

ডাউকি বর্ডার পার হওয়ার পর সেখান থেকে শেয়ারিং জিপ বা ট্যাক্সি ভাড়া করে সহজেই সোনাংপেডেং পৌঁছে যাওয়া যায়।

0
0
অর্ডার লিস্ট
কার্টে কিছু নেইআবার অর্ডার করুন