জোতলাং বা মোদক মুয়াল পরিচিতি
বাংলাদেশের পাহাড়ি অঞ্চল মানেই রোমাঞ্চ আর রোমাঞ্চ। আর এই রোমাঞ্চপ্রেমীদের কাছে সবচেয়ে আকর্ষণীয় ও ভীতিকর নাম হলো জোতলাং (Zowtlang), যা স্থানীয়দের কাছে মোদক মুয়াল বা জোত্লং নামেও পরিচিত। একসময় একে দেশের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ চূড়া হিসেবে মনে করা হতো। যদিও নাসার স্যাটেলাইট ডেটা এবং বিভিন্ন গবেষণায় উচ্চতা নিয়ে ভিন্নমত রয়েছে, তবুও এর মূল আকর্ষণ এর উচ্চতা নয়, বরং এর আরোহণের চরম কঠিন পথ। দেশের অভিযাত্রী ও ট্রেকারদের মতে, জোতলাংয়ের ট্রেইল বাংলাদেশের সবচেয়ে দুর্গম এবং কঠিন ট্র্যাকিং রুটগুলোর একটি। এর উচ্চতা প্রায় ১০১৪ মিটার বা ৩৩২৮ ফুট এবং এর মূল বেইসক্যাম্প হলো দলিয়ান পাড়া।
কেন জোতলাং ট্র্যাকিং এত রোমাঞ্চকর?
অন্যান্য পাহাড়ের তুলনায় জোতলাংয়ের পথ কেন আলাদা, তা একবার ট্রেকিং করলেই বোঝা যায়। এর প্রধান বৈশিষ্ট্যগুলো হলো:
- অত্যন্ত ঢালু এবং পিচ্ছিল পথ।
- দীর্ঘ সময় ধরে রোদ, বৃষ্টি ও জঙ্গল ভেদ করে পথ চলা।
- অভিযাত্রীদের মতে, শারীরিক ও মানসিকভাবে সবচেয়ে কঠিন পরীক্ষা দিতে হয় এই ট্রেইলে।
- চূড়ায় ওঠার পর চারপাশের মেঘের সমুদ্র ও দিগন্তজোড়া পাহাড়ের রূপ সব ক্লান্তি দূর করে দেয়।
কীভাবে যাবেন এবং যাতায়াত খরচ
জোতলাং বা মোদক মুয়াল জয়ের যাত্রা শুরু হয় পার্বত্য জেলা বান্দরবান থেকে। নিচে ভ্রমণের রুট দেওয়া হলো:
- ধাপ ১: প্রথমে ঢাকা বা দেশের যেকোনো প্রান্ত থেকে বান্দরবান সদর। বাস ভাড়া ৬০০-১০০০ টাকা।
- ধাপ ২: বান্দরবান থেকে চান্দের গাড়ি (জীপ) বা লোকাল বাসে যেতে হবে থানচি উপজেলা।
- ধাপ ৩: থানচি বাজার থেকে ইঞ্জিন চালিত নৌকায় রেমাক্রি বাজার।
- ধাপ ৪: রেমাক্রি থেকে প্রায় ৩ ঘণ্টার রোমাঞ্চকর পাহাড়ি পথ হেঁটে পৌঁছাতে হবে বেইসক্যাম্প ‘দলিয়ান পাড়া’।
- চূড়ান্ত ধাপ: দলিয়ান পাড়া থেকে সাধারণত একদিনেই মোদক মুয়াল পাহাড়ে চড়ে আবার ফিরে আসা সম্ভব।
কোথায় থাকবেন এবং খাওয়া-দাওয়ার ব্যবস্থা
পাহাড়ের গহীনে বিলাসবহুল হোটেলের কোনো সুযোগ নেই। তাই ট্র্যাকিংয়ের প্রস্তুতি নিতে হবে আগে থেকেই:
- থাকার জায়গা: দলিয়ান পাড়াসহ স্থানীয় বম বা ত্রিপুরা পাড়াগুলোতে আদিবাসীদের ঐতিহ্যবাহী কাঠের মাচাং ঘরে রাতে থাকার ব্যবস্থা রয়েছে। এ ছাড়া আপনি যদি প্রকৃতিকে আরও কাছ থেকে উপভোগ করতে চান, তবে নিজের সাথে পর্যাপ্ত তাবু (Camping Tent) নিয়ে যেতে পারেন।
- খাওয়া-দাওয়া: পাড়ার স্থানীয়দের সাথে কথা বলে বা নিজ দায়িত্বে রান্নার ব্যবস্থা করতে হবে। পাহাড়ি চালের ভাত, ডাল ও স্থানীয় শুঁটকি বা ডিম দিয়ে meals সেরে নিতে পারেন। শুকনো খাবার, পর্যাপ্ত স্যালাইন ও গ্লুকোজ অবশ্যই সাথে রাখবেন।
সচেতনতা ও জরুরি টিপস
- অভিজ্ঞ গাইড ছাড়া জোতলাং ট্রেইলে যাওয়া সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ ও বিপজ্জনক।
- হালকা ও মজবুত ট্রেকিং জুতো ব্যবহার করুন।
- ফার্স্ট এইড বক্স, টর্চলাইট এবং প্রয়োজনীয় ওষুধ সাথে রাখুন।
- প্লাস্টিক বা অপচনশীল বর্জ্য পাহাড়ে ফেলে পরিবেশ নষ্ট করবেন না।
সচরাচর জিজ্ঞাসিত প্রশ্নাবলী (FAQ)
১. জোতলাং পাহাড়ের উচ্চতা কত?
<প>জোতলাং বা মোদক মুয়ালের উচ্চতা প্রায় ১০১৪ মিটার বা ৩৩২৮ ফুট।প>
২. জোতলাংয়ের বেইসক্যাম্প কোনটি?
<প>এই পাহাড়ের ট্রেকিংয়ের জন্য মূল বেইসক্যাম্প হলো ‘দলিয়ান পাড়া’।প>
৩. জোতলাং ট্র্যাকিং কি বিগিনারদের জন্য উপযুক্ত?
<প>না, এর পথ অত্যন্ত দুরূহ ও কঠিন হওয়ায় এটি শুধুমাত্র অভিজ্ঞ ট্রেকারদের জন্যই উপযুক্ত।প>


