পরিচিতি
সান্দাকফু-ফালুট ট্রেকের সর্বশেষ আকর্ষণীয় গন্তব্য ফালুট। সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে ৩৬০০ মিটার বা ১১৭৯০ ফিট উচ্চতায় অবস্থিত ফালুট পশ্চিমবঙ্গের দ্বিতীয় উচ্চতম শৃঙ্গ। মেঘের লুকোচুরি আর কাঞ্চনজঙ্ঘা ও এভারেস্টের দুই শৃঙ্গের স্পষ্ট দৃশ্য দেখতে ট্রেকাররা এখানে ছুটে আসেন। রডোডেনড্রন ও পাইন বনের মধ্য দিয়ে যাওয়া এই ট্রেইলটি প্রকৃতিপ্রেমীদের জন্য এক স্বর্গরাজ্য।
যাওয়ার উপায় ও খরচ
ফালুট যাওয়ার মূল যাত্রা শুরু হয় মানেভাঞ্জন থেকে। সান্দাকফু হয়ে ২৩ কিমি পথ হেঁটে বা ল্যান্ডরোভারে ফালুট পৌঁছানো যায়। এছাড়া রামাম, রিম্বিক বা শ্রীখোলা হয়েও রুট ধরে ট্রেকিং করা যায়। মানেভাঞ্জন থেকে গাইড ও পোর্টার নিয়ে ট্রেক শুরু করতে হয়। যাতায়াত, পারমিট, গাইড এবং থাকা-খাওয়া মিলিয়ে জনপ্রতি ৪ দিনের ট্রেকের জন্য আনুমানিক ১০,০০০ থেকে ১৫,০০০ টাকা খরচ হতে পারে।
দর্শনীয় দিক
ফালুটের সবচেয়ে বড় আকর্ষণ হলো এখান থেকে দেখা হিমালয়ের প্যানোরামিক ভিউ। আবহাওয়া পরিষ্কার থাকলে কাঞ্চনজঙ্ঘা এবং মাউন্ট এভারেস্টের চূড়া খালি চোখেই দেখা যায়। এখানকার সূর্যোদয় ও সূর্যাস্তের দৃশ্য ভাষায় প্রকাশ করার মতো নয়। পথের মাঝে সামানদেন উপত্যকা, রামাম, সিংগালিলা পাস এবং সাবারগ্রামের এসএসবি ক্যাম্প আপনার ভ্রমণকে আরও রোমাঞ্চকর করে তুলবে।
থাখা-খাওয়ার তথ্য
ফালুট এবং এর আশেপাশের ট্রেইলে থাকার জন্য সরকারি ও বেসরকারি ট্রেকার্স হাট বা হোমস্টে রয়েছে। সেখানে সাধারণ কিন্তু গরম বাঙালি খাবার যেমন ভাত, ডাল, ডিম বা সবজি পাওয়া যায়। ট্রেকের এই রুটে পর্যাপ্ত পানির অভাব থাকায় সাথে ওয়াটার বটল ও রিফিল করার ব্যবস্থা রাখা আবশ্যক। সাবারগ্রামের এসএসবি ক্যাম্পে খাবার ও বিশ্রামের ভালো ব্যবস্থা রয়েছে।
FAQ
প্রঃ ফালুট যাওয়ার সেরা সময় কোনটি?
উঃ ক্রিস্টাল ক্লিয়ার ভিউয়ের জন্য অক্টোবর থেকে নভেম্বর মাস সেরা। স্নোফলের জন্য জানুয়ারি থেকে মার্চ এবং রডোডেনড্রন দেখতে এপ্রিল থেকে মে মাস ভালো।
প্রঃ ফালুট ট্রেকের উচ্চতা কত?
উঃ ফালুট টপের উচ্চতা ৩৬০০ মিটার বা ১১৭৯০ ফিট।
প্রঃ ফালুট ট্রেকের জন্য কি পারমিট লাগবে?
উঃ হ্যাঁ, মানেভাঞ্জন চেকপোস্ট থেকে সিংগালিলা ন্যাশনাল পার্কের জন্য পারমিট নিতে হবে।


