কংদুক বা যোগী হাফং পরিচিতি
পাহাড়প্রেমী এবং রোমাঞ্চপ্রিয় ট্রেকারদের কাছে অত্যন্ত রোমাঞ্চকর ও চ্যালেঞ্জিং একটি নাম যোগী হাফং, যা কংদুক নামেও পরিচিত। বান্দরবান ও মিয়ানমার সীমান্তে মোদক রেঞ্জের দুর্গম অঞ্চলে এর অবস্থান। বাংলাদেশের চতুর্থ সর্বোচ্চ এই পাহাড়টির উচ্চতা প্রায় ৯৮৩ মিটার বা ৩২২২ ফুট। মোদক রেঞ্জের পাহাড়গুলো এতটাই উচু যে তা বাংলাদেশ ও মায়ানমারকে প্রাকৃতিক সীমানায় বিভক্ত করেছে। ট্রেকারদের কাছে এর চূড়ার বিশেষ সুনাম রয়েছে, যদিও এর একাধিক সাব-সামিট থাকায় অনেকেই আসল চূড়া চেনার ক্ষেত্রে বিভ্রান্তিতে পড়েন। তরুণ পর্বতারোহী সালেহীন আরশাদীর হাত ধরে এর বেশ কিছু চূড়া নতুন করে পরিচিতি লাভ করেছে। শীতকাল এই দুর্গম ট্রেইলে ভ্রমণের জন্য সবচেয়ে উপযোগী সময়।
ট্রেক সারসংক্ষেপ
- উচ্চতা: ৩২২২ ফুট (৯৮৩ মিটার)
- ট্রেক সময়কাল: ১৩ ঘণ্টা (যাতায়াত মিলিয়ে)
- বেইসক্যাম্প: দলিয়ানপাড়া
- সেরা সময়: শীতকাল
যাওয়ার উপায় ও রুট
যোগী হাফং জয় করতে হলে আপনাকে একটি নির্দিষ্ট রুট ধরে এগোতে হবে। ঢাকার ফকিরাপুল বা সায়েদাবাদ থেকে রাতে বাসে চড়ে প্রথমে পৌঁছাতে হবে বান্দরবান। সেখান থেকে বাস কিংবা চাঁদের গাড়িতে চেপে যেতে হবে থানচি বাজারে। থানচি ঘাট থেকে বোট বা ট্রলারে চড়ে পাড়ি জমাতে হবে রেমাক্রি পর্যন্ত। রেমাক্রি থেকে প্রায় তিন ঘণ্টার রোমাঞ্চকর পাহাড়ি পথ হেঁটে পৌঁছাতে হবে মূল বেইসক্যাম্প দলিয়ানপাড়ায়। পরদিন দলিয়ানপাড়া থেকে স্থানীয় গাইডের সহায়তা নিয়ে যোগী হাফং চূড়ার উদ্দেশ্যে রওনা হতে হবে।
সম্ভাব্য খরচ
৪ থেকে ৫ জনের একটি দল হলে খরচ অনেক সাশ্রয়ী হয়। ঢাকা থেকে ঢাকা যাওয়া-আসা, থানচির যাতায়াত, গাইড খরচ, বোট ভাড়া, এবং ৪ দিন ৩ রাতের থাকা-খাওয়া মিলিয়ে জনপ্রতি আনুমানিক ৪৫০০ থেকে ৫০০০ টাকা খরচ হতে পারে।
সম্ভাব্য ট্যুর প্লান (৪ দিন ৩ রাত)
- ০ তম দিন: রাতের বাসে ঢাকা থেকে বান্দরবানের উদ্দেশ্যে রওনা।
- ১ম দিন: সকালে বান্দরবান পৌঁছে লোকাল বাসে থানচি, সেখান থেকে বোটে রেমাক্রি এবং ট্রেকিং করে দলিয়ানপাড়ায় পৌঁছানো।
- ২য় দিন: ভোরবেলা গাইড নিয়ে দলিয়ানপাড়া থেকে যোগী হাফং চূড়ার উদ্দেশ্যে রওনা এবং সারাদিন ট্রেইল শেষ করে আবার দলিয়ানপাড়ায় ফেরা।
- ৩য় দিন: দলিয়ানপাড়া থেকে নেমে বিখ্যাত নাফাখুম ঝরনা ঘুরে রেমাক্রি ও থানচি হয়ে বান্দরবান ফিরে আসা।
- ৪র্থ দিন: রাতের বাসে বান্দরবান থেকে ঢাকার উদ্দেশ্যে যাত্রা এবং ব্যাক টু ঢাকা।
পরামর্শ ও সতর্কতা
মোদক রেঞ্জের এই ট্রেইলটি বেশ দুর্গম। তাই পর্যাপ্ত পানি, স্যালাইন, শুকনো খাবার এবং ফার্স্ট এইড কিট সাথে রাখা আবশ্যক। পাহাড়ের আবহাওয়া ও ট্রেইলের কঠিন পরিস্থিতি মাথায় রেখে অভিজ্ঞ গাইড ছাড়া কোনোভাবেই এগোবেন না। এছাড়া স্থানীয় সংস্কৃতির প্রতি শ্রদ্ধাশীল থাকুন এবং প্রকৃতির সৌন্দর্য রক্ষায় প্লাস্টিক যত্রতত্র ফেলা থেকে বিরত থাকুন।
সচরাচর জিজ্ঞাসিত প্রশ্নাবলী (FAQ)
১. যোগী হাফং পাহাড়ের উচ্চতা কত?
যোগী হাফং বা কংদুক পাহাড়ের উচ্চতা প্রায় ৯৮৩ মিটার বা ৩২২২ ফুট। এটি বাংলাদেশের চতুর্থ সর্বোচ্চ পাহাড়।
২. ট্র্যাকিংয়ের জন্য সেরা সময় কোনটি?
শুকনো মৌসুম অর্থাৎ শীতকালই যোগী হাফং ট্র্যাকিংয়ের জন্য সবচেয়ে উপযুক্ত ও নিরাপদ সময়।
৩. দলিয়ানপাড়া কীভাবে যেতে হয়?
থানচি থেকে রেমাক্রি পর্যন্ত বোটে গিয়ে, সেখান থেকে প্রায় ৩ ঘণ্টা পায়ে হেঁটে দলিয়ানপাড়ায় পৌঁছাতে হয়।


