• Home
  • Trip
  • দুমলং পর্বত ভ্রমণ গাইড: উচ্চতা, যাতায়াত, খরচ ও অজানাকথা

দুমলং পর্বত ভ্রমণ গাইড: উচ্চতা, যাতায়াত, খরচ ও অজানাকথা

দুমলং পর্বত পরিচিতি

বাংলাদেশের পার্বত্য জেলা রাঙ্গামাটির বিলাইছড়ি উপজেলায় মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়ে আছে রহস্যময় ও রোমাঞ্চকর এক পর্বতশৃঙ্গ—দুমলং। বেসরকারিভাবে এটিকে আমাদের দেশের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ পর্বত হিসেবে বিবেচনা করা হয়। প্রায় ৩,৩১৫ ফুট বা ১,০১০ মিটার উচ্চতার এই পর্বতটি রাঙ্গামাটি জেলার সর্বোচ্চ চূড়া। রেংত্লাং পর্বতমালার অংশ এই দুমলংয়ের রয়েছে তিনটি চমৎকার চূড়া। এর মূল চূড়ার উত্তর ও পশ্চিমে রয়েছে দুটি অপেক্ষাকৃত খাটো চূড়া। দুমলং নামের পেছনের ইতিহাসও বেশ আকর্ষণীয়; পাহাড়ের বুক চিরে বয়ে চলা ‘দুমলং’ নামের একটি ঝিরি বা পাহাড়ি নদী রাইক্ষ্যাং নদীতে গিয়ে মিশেছে। মূলত এই জলধারার উৎস থেকেই স্থানীয়রা পাহাড়ের এই চূড়াকে দুমলং নামে ডাকেন। যারা ট্রেকিং ভালোবাসেন, তাদের কাছে এটি এক পরম আর্শীবাদ।

দুমলং যাওয়ার উপায় ও রুট

ভৌগোলিকভাবে দুমলং রাঙ্গামাটির বিলাইছড়িতে অবস্থিত হলেও ট্রেকাররা সাধারণত বান্দরবান রুট ব্যবহার করতেই স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন। বিলাইছড়ি হয়ে যাতায়াত বেশ সময়সাপেক্ষ হওয়ায় রুমা হয়ে যাওয়াটাই সবচেয়ে জনপ্রিয় ও সুবিধাজনক। নিয়ম মেনে প্রশাসনের অনুমতি সাপেক্ষে সাধারণত এই ট্র্যাকিং রুটটি অনুসরণ করা হয়:

  • স্ট্যান্ডার্ড রুট: বান্দরবান সদর – রুমা বাজার – বগালেক – সাইকতপাড়া – রাইক্ষ্যাংলেক – প্রাঞ্জলপাড়া – দুমলং চূড়া।

রুমা বাজার থেকে বগালেক হয়ে প্রাঞ্জলপাড়া পৌঁছাতে হয়। সেখান থেকে এক দিনের ট্রেকিংয়ে দুমলং চূড়া জয় করে আবার ফিরে আসা সম্ভব। তবে পাহাড়ি অঞ্চলে ভ্রমণের পূর্বে অবশ্যই স্থানীয় প্রশাসন ও সেনাক্যাম্প থেকে প্রয়োজনীয় অনুমতি নিতে হবে এবং অভিজ্ঞ গাইড সাথে রাখতে হবে।

ভ্রমণ খরচ

দুমলং ট্রেকিংয়ের খরচ নির্ভর করে দলের সদস্য সংখ্যা এবং কত দিন ভ্রমণ করছেন তার ওপর। আনুমানিক একটি হিসাব নিচে দেওয়া হলো:

  • বান্দরবান থেকে রুমা ও বগালেক যাতায়াত (জিপ ভাড়া): ৫,০০০ – ৭,০০০ টাকা
  • গাইড খরচ (প্রতিদিন): ১,০০০ – ১,৫০০ টাকা
  • সেনাক্যাম্প ও স্থানীয় অনুমতি ফি: নির্ধারিত হার অনুযায়ী
  • থাকা ও খাওয়া (প্রতিদিন প্রতিবেলা): ১,০০০ – ১,৫০০ টাকা

দল বড় হলে জনপ্রতি খরচ অনেকটাই কমে আসে। সাধারণত ৫-৬ জনের একটি দলের জন্য জনপ্রতি ৫,০০০ থেকে ৭,০০০ টাকার মতো বাজেট রাখতে হতে পারে।

দর্শনীয় দিক

দুমলংয়ের পথিমধ্যে আপনার চোখ জুড়াবে মেঘের লুকোচুরি খেলা, আদিবাসীদের জীবনযাত্রা এবং সবুজ পাহাড়ের অবিরাম ঢেউ। চূড়ায় পৌঁছানোর পর চারপাশের মেঘের সমুদ্র দেখে আপনার সব ক্লান্তি নিমিষেই মিলিয়ে যাবে। রাইক্ষ্যাং লেকের স্নিগ্ধতা এবং পাহাড়ি ঝিরিপথ ধরে হাঁটার অভিজ্ঞতা আপনার জীবনজুড়ে স্মৃতির পাতায় জমা হয়ে থাকবে।

থাকা ও খাওয়ার তথ্য

পাহাড়ি এই ট্রেইলে বিলাসবহুল কোনো হোটেল বা রিসোর্টের সুযোগ নেই। বগালেক বা প্রাঞ্জলপাড়ায় স্থানীয় আদিবাসীদের কটেজ বা বাঁশ-কাঠের মাচাং ঘরে রাত্রিযাপন করতে হয়। বগালেকে কিছু কটেজ রয়েছে, যেমন লারাম বমের কটেজ (যোগাযোগ: ০১৫৫২৩৭৬৫৫১, তবে নেটওয়ার্ক সমস্যার কারণে অনেক সময় যোগাযোগ করা কঠিন হতে পারে)। এছাড়া পাহাড়ে স্থানীয়দের রান্না করা আদিবাসী খাবারই মূল ভরসা। যাত্রার আগেই গাইডের মাধ্যমে খাবারের ব্যবস্থা পাকা করে নেওয়া বুদ্ধিমানের কাজ হবে।

সচরাচর জিজ্ঞাস্য (FAQ)

দুমলং পর্বতের উচ্চতা কত?

দুমলং পর্বতের উচ্চতা প্রায় ৩,৩১৫ ফুট বা ১,০১০ মিটার। এটি বাংলাদেশের অন্যতম উঁচু একটি পর্বতশৃঙ্গ।

দুমলং যাওয়ার সেরা সময় কোনটি?

শীতকাল অর্থাৎ নভেম্বর থেকে ফেব্রুয়ারি মাস দুমলং ট্রেকিংয়ের জন্য সবচেয়ে উপযুক্ত সময়। বর্ষাকালে এই ট্রেইল অত্যন্ত পিচ্ছিল ও ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে ওঠে।

দুমলং যাওয়ার জন্য কি অনুমতি নিতে হয়?

হ্যাঁ, পার্বত্য অঞ্চলে ভ্রমণের নিরাপত্তা ও নিয়মের অংশ হিসেবে স্থানীয় প্রশাসন এবং সেনাক্যাম্প থেকে অনুমতি নিতে হয়। একা না গিয়ে অবশ্যই রেজিস্টার্ড গাইড নিয়ে ভ্রমণ করতে হবে।

0
0
অর্ডার লিস্ট
কার্টে কিছু নেইআবার অর্ডার করুন