• Home
  • Trip
  • লাসুবন গিরিখাত শ্রীমঙ্গল: রহস্যময় পাহাড়ি গুহা ও অ্যাডভেঞ্চার গাইড

লাসুবন গিরিখাত শ্রীমঙ্গল: রহস্যময় পাহাড়ি গুহা ও অ্যাডভেঞ্চার গাইড

ভূমিকা

বাংলাদেশের চা বাগান ও সবুজ পাহাড়ের রাজ্য শ্রীমঙ্গল মানেই অন্যরকম এক ভালোলাগা। তবে সাধারণ পর্যটন স্পটগুলোর ভিড় ঠেলে যারা একটু রোমাঞ্চকর ও অচেনা জায়গায় ঘুরতে পছন্দ করেন, তাদের জন্য শ্রীমঙ্গলের নতুন আকর্ষণ লাসুবন গিরিখাত। খাসি ভাষায় ‘লাসুবন’ অর্থ জংলি বা পাহাড়ি ফুল। সীমান্তঘেঁষা এই রহস্যময় গিরিখাত প্রকৃতিপ্রেমীদের হৃদয়ে এক অদ্ভুত রোমাঞ্চ জাগায়। আজকের এই লেখায় আমরা জানবো লাসুবন গিরিখাতের বিস্তারিত ভ্রমণ গাইড।

লাসুবন গিরিখাতের পরিচিতি ও অবস্থান

মৌলভীবাজার জেলার শ্রীমঙ্গল উপজেলা সদর থেকে প্রায় ২৫ কিলোমিটার দূরে সিন্দুরখান ইউনিয়নে অবস্থিত এই প্রাচীন গিরিখাত। ভারতের ত্রিপুরা রাজ্যের সীমান্তবর্তী ঘন জঙ্গলঘেরা পাহাড়ি এই এলাকাটি স্থানীয়দের কাছে ‘শ্রীমঙ্গল গিরিখাত’ নামেই বেশি পরিচিত। এখানকার নাহার খাসিয়া পুঞ্জির ভেতরে লুকিয়ে রয়েছে অসাধারণ সব পাথুরে ছড়া ও গিরিখাত। ভারতের ত্রিপুরা থেকে নেমে আসা লাংগুলিয়া ছড়া ধরে এই পুরো অঞ্চলের সৌন্দর্য উপভোগ করা যায়।

প্রধান আকর্ষণসমূহ

লাংগুলিয়া ছড়ার আঁকাবাঁকা পথ ধরে এগোলে চোখে পড়বে প্রকৃতির অদ্ভুত শিল্পকর্ম। এখানকার প্রধান আকর্ষণগুলো হলো:

  • ক্রেম ক্লু, ক্রেম কেরি ও ক্রেম উল্কা: সম্প্রতি আবিষ্কৃত এই তিনটি বড় গিরিখাত পর্যটকদের প্রধান আকর্ষণের কেন্দ্রবিন্দু।
  • রহস্যময় পরিবেশ: পাহাড়ের প্রায় শ’পাঁচেক ফুট নিচে অবস্থিত এসব গিরিখাতের ভেতরে সূর্যের আলো পৌঁছায় না বললেই চলে। পাথরের গা বেয়ে টুপটুপ করে পানি পড়ার শব্দ এক অন্যরকম অনুভূতি দেয়।
  • ঝিরিপথ ও পাথুরে ছড়া: শ’খানেক ছোট-বড় পাথুরে ছড়া ছড়িয়ে আছে এই পুরো এলাকায়।

লাসুবন গিরিখাত যাওয়ার উপায় ও খরচ

এই রোমাঞ্চকর স্থানে পৌঁছাতে হলে আপনাকে প্রথমে শ্রীমঙ্গল আসতে হবে। নিচে যাতায়াতের মাধ্যম ও খরচ দেওয়া হলো:

ঢাকা থেকে শ্রীমঙ্গল

ট্রেনে: কমলাপুর বা বিমানবন্দর স্টেশন থেকে পারাবত, জয়ন্তিকা, কালনী বা উপবন এক্সপ্রেসে শ্রীমঙ্গল যেতে পারেন। ট্রেনভেদে শোভন চেয়ারের ভাড়া ২৪০ টাকা থেকে শুরু করে এসি সিটের ভাড়া ৫৫০ টাকার মতো।

বাসে: ফকিরাপুল বা সায়েদাবাদ থেকে হানিফ, শ্যামলী বা এনা পরিবহনের বাসে সরাসরি শ্রীমঙ্গল পৌঁছানো যায়। বাস ভাড়া সাধারণত ৪৫০ থেকে ৬০০ টাকার মধ্যে।

শ্রীমঙ্গল থেকে গিরিখাত

শ্রীমঙ্গল শহর থেকে সিএনজি বা জিপ ভাড়া করে সিন্দুরখান বাজার হয়ে নাহার খাসিয়া পুঞ্জি বা লাসুবন গিরিখাত এলাকায় পৌঁছানো যায়। যাতায়াতের জন্য স্থানীয় গাইড নেওয়া বাধ্যতামূলক, কারণ গাইড ছাড়া বনের ভেতরে পথ হারানো বা দুর্ঘটনার ঝুঁকি থাকে।

থাকা ও খাওয়ার সুব্যবস্থা

লাসুবন গিরিখাত এলাকায় রাতে থাকার কোনো ব্যবস্থা নেই। তাই আপনাকে শ্রীমঙ্গল শহরেই ফিরে আসতে হবে। শ্রীমঙ্গলে বিভিন্ন মানের হোটেল, রিসোর্ট এবং কটেজ রয়েছে:

  • বাজেট হোটেল: শ্রীমঙ্গল শহর জিরো পয়েন্টের আশেপাশে অনেক মানসম্মত সাধারণ হোটেল পাওয়া যায় (ভাড়া ১০০০-২৫০০ টাকা)।
  • রিসোর্ট: গ্রিন লিফ গেস্ট হাউস, টি টাউন রেস্টসহ বেশ কিছু ভালো মানের রিসোর্ট রয়েছে।

খাওয়ার জন্য শ্রীমঙ্গলের ঐতিহ্যবাহী সাত রঙের চা এবং খাসিয়াদের বা স্থানীয় রেস্তোরাঁর পাহাড়ি খাবার চেখে দেখতে পারেন।

ভ্রমণ সতর্কতা

  • বর্ষাকালে গিরিখাতের ভেতরে পানির প্রবাহ অনেক বেড়ে যায়, তাই এই সময়ে যাওয়া অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ।
  • হঠাৎ ওপর থেকে পানি নামলে ওঠার কোনো পথ থাকে না, তাই আবহাওয়া দেখে ভ্রমণ করুন।
  • অতিরিক্ত খাড়া পাথুরে পাহাড়ে সাবধানে চলুন।
  • স্থানীয় গাইড সাথে রাখুন এবং পরিবেশ নষ্ট হয় এমন কিছু করা থেকে বিরত থাকুন।

FAQ

১. লাসুবন গিরিখাত কোথায় অবস্থিত?

এটি মৌলভীবাজার জেলার শ্রীমঙ্গল উপজেলার সিন্দুরখান ইউনিয়নে অবস্থিত।

২. গিরিখাত ভ্রমণের উপযুক্ত সময় কোনটি?

শুকনো মৌসুম অর্থাৎ শীতকাল এই গিরিখাত ভ্রমণের জন্য সবচেয়ে নিরাপদ ও উপযুক্ত সময়।

৩. গাইড ছাড়া কি যাওয়া সম্ভব?

না, ঘন জঙ্গল ও ভেতরের রাস্তা জটিল হওয়ায় নিরাপত্তার স্বার্থে স্থানীয় গাইড নেওয়া আবশ্যক।

0
0
অর্ডার লিস্ট
কার্টে কিছু নেইআবার অর্ডার করুন