• Home
  • Trip
  • উত্তরবঙ্গের লুকিয়ে থাকা স্বর্গ তাবাকোশি: ভ্রমণ গাইড, খরচ ও দর্শনীয় স্থান

উত্তরবঙ্গের লুকিয়ে থাকা স্বর্গ তাবাকোশি: ভ্রমণ গাইড, খরচ ও দর্শনীয় স্থান

উত্তরবঙ্গের নতুন অফবিট ডেস্টিনেশন তাবাকোশি

শহরের যান্ত্রিক কোলাহল আর ব্যস্ততা থেকে কয়েকদিনের জন্য ছুটি নিয়ে যদি এমন কোথাও হারিয়ে যেতে চান, যেখানে কেবল সবুজ চা বাগান আর কুলকুল নদীর শব্দ আপনার সঙ্গী হবে, তবে উত্তরবঙ্গের দার্জিলিং জেলার তাবাকোশি (Tabakoshi) হতে পারে আপনার পরবর্তী গন্তব্য। সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে প্রায় ৩০০০ ফুট উঁচুতে মিরিকের ঠিক কাছেই রংভাং বা রাঙ্গভং নদীর তীরে অবস্থিত এই ছোট্ট পাহাড়ি জনপদটি প্রকৃতিপ্রেমীদের কাছে এক টুকরো স্বর্গ। জাপানি নামের মতো শোনালেও, এটি সম্পূর্ণ ভারতীয় এক পাহাড়ি গ্রাম, যা কমলালেবুর বাগান আর বিস্তীর্ণ চা পাতার সবুজ চাদরে ঢাকা।

নামকরণ ও ইতিহাস

তাবাকোশি নামের পেছনে রয়েছে এক দারুণ ইতিহাস। পূর্বে এই এলাকার নাম ছিল গোপালধারা। এই অঞ্চলেই রয়েছে বিখ্যাত গোপালধারা টি এস্টেট। চা বাগানের বুক চিরে বয়ে চলা ক্ষীণস্রোতা পাহাড়ি নদীর নেপালি নাম ‘তাম্বাকোশি’। বর্ষার সময়ে অতিরিক্ত বৃষ্টির কারণে নদীর জলের রঙ যখন তামাটে বা তামার মতো হয়ে যেত, স্থানীয়রা একে সেই নামেই ডাকত। নেপালি ভাষায় ‘কোশি’ শব্দের অর্থ নদী। লোকমুখে এই তাম্বাকোশি থেকেই আজকের ‘তাবাকোশি’ নামের উৎপত্তি হয়েছে।

তাবাকোশিতে কী কী দেখবেন?

এই ছোট্ট পাহাড়ি গ্রামে ঘোরার মতো অনেক সুন্দর জায়গা রয়েছে। এখানকার প্রধান আকর্ষণগুলো হলো:

  • চা বাগান ও নদী: দিগন্ত বিস্তৃত চা বাগানের মাঝ দিয়ে বয়ে চলা রংভাং নদীর রূপ যে কারও মন কেড়ে নেবে।
  • কমলালেবু ও মশলার বাগান: শীতকালে এখানকার কমলালেবু বাগানগুলো পাকা ফলে ভরে থাকে। পাশাপাশি এলাচ, ভুট্টা ও আদার খেতও দেখতে পাবেন।
  • টারজাম টি এস্টেট: তাবাকোশি থেকে মাত্র ৩০ মিনিটের দূরত্বে অবস্থিত টারজাম চা বাগান প্রকৃতির এক অপরূপ সৃষ্টি, যা ঘুরে আসা আবশ্যক।
  • কাছাকাছি দর্শনীয় স্থান: এখান থেকে খুব সহজেই ঘুরে আসতে পারেন মিরিক লেক, মিরিক মনাস্ট্রি, জোড়পোখরি, লেপচাজগৎ এবং ভারত-নেপাল সীমান্তের পশুপতি মার্কেট।
  • বন্যপ্রাণী ও ঝরনা: এখানকার ছোট ঝরনাগুলোর পাশে তাঁবুতে রাত কাটানোর দারুণ ব্যবস্থা রয়েছে। এছাড়া এখানকার জঙ্গলে মাঝেমধ্যে হরিণ দেখা মেলে।

ভ্রমণের সেরা সময়

বছরের যে কোনো সময়ই তাবাকোশি ভ্রমণ করা সম্ভব। তবে মার্চ থেকে জুন মাসের মাঝামাঝি সময় আবহাওয়া দারুণ থাকে। এছাড়া অক্টোবর থেকে নভেম্বরের মাঝামাঝি সময়ে এখানকার কমলালেবু বাগান দেখার অভিজ্ঞতা দারুণ। বর্ষাকালেও পাহাড়ের এক আলাদা রূপ দেখতে এখানে অনেক পর্যটক আসেন।

কীভাবে যাবেন তাবাকোশি?

তাবাকোশি যাওয়ার রুটটি বেশ সহজ:

  • প্রথমে আপনাকে নিউ জলপাইগুড়ি (NJP) রেলওয়ে স্টেশন বা শিলিগুড়ি পৌঁছাতে হবে।
  • এনজেপি থেকে অটো বা টোটো করে শিলিগুড়ি জংশন পৌঁছে সেখান থেকে মিরিকের শেয়ার গাড়ি ধরতে পারেন (ভাড়া প্রতি ব্যক্তি প্রায় ১৫০-১৭০ টাকা)।
  • মিরিক পৌঁছে সেখান থেকে আবার শেয়ার গাড়িতে বা রিজার্ভ গাড়িতে করে তাবাকোশি পৌঁছে যাওয়া যায়। মিরিক থেকে দূরত্ব মাত্র ৮ কিলোমিটার।

কোথায় থাকবেন ও খাবেন?

তাবাকোশিতে আধুনিক হোটেলের ভিড় নেই, তবে প্রকৃতির খুব কাছাকাছি থাকার জন্য রয়েছে বেশ কিছু সুন্দর হোমস্টে। এর মধ্যে ‘টি-ভিলেজ হোমস’ অত্যন্ত জনপ্রিয়। হোমস্টেগুলোতে পাহাড়ি আতিথেয়তার সাথে সুস্বাদু হোমমেড খাবার উপভোগ করতে পারবেন।

সচরাচর জিজ্ঞাসিত প্রশ্নাবলী (FAQ)

১. তাবাকোশি কোথায় অবস্থিত?

তাবাকোশি পশ্চিমবঙ্গের দার্জিলিং জেলার মিরিকের কাছে রংভাং নদীর তীরে অবস্থিত একটি পাহাড়ি গ্রাম।

২. তাবাকোশি যাওয়ার সেরা সময় কোনটি?

অক্টোবর থেকে নভেম্বর এবং মার্চ থেকে জুন মাস তাবাকোশি ভ্রমণের জন্য সেরা সময়।

৩. তাবাকোশিতে কি মোবাইল নেটওয়ার্ক পাওয়া যায়?

হ্যাঁ, জিও এবং এয়ারটেলের ভালো নেটওয়ার্ক পাওয়া যায়, তবে কিছু এলাকায় সিগন্যালের সমস্যা হতে পারে।

0
0
অর্ডার লিস্ট
কার্টে কিছু নেইআবার অর্ডার করুন