পরিচিতি
সিলেটের কোম্পানীগঞ্জ উপজেলায় অবস্থিত ভোলাগঞ্জ সাদা পাথর একটি জনপ্রিয় পর্যটন কেন্দ্র। ভারতের আসামের পাহাড় থেকে নেমে আসা ধলাই নদীর স্বচ্ছ পানি এবং হাজার হাজার সাদা পাথরের অপূর্ব মিতালি এই স্থানটিকে করেছে অনন্য। সিলেট শহর থেকে মাত্র ৩৩ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত এই স্থানে প্রতিদিন শত শত পর্যটক ভিড় জমান পাহাড়, নদী এবং পাথর রাজ্যর সৌন্দর্য উপভোগ করতে।
কখন যাবেন
মে থেকে অক্টোবর পর্যন্ত বর্ষাকাল ভোলাগঞ্জ সাদা পাথর ভ্রমণের জন্য সবচেয়ে উপযুক্ত সময়। এ সময় ধলাই নদীর পানি বৃদ্ধি পায় এবং চারপাশের পাহাড়গুলো সবুজ রূপ ধারণ করে, যা পর্যটকদের মুগ্ধ করে।
যাওয়া ও খরচ
সিলেটের আম্বরখানা পয়েন্ট থেকে সিএনজি বা লেগুনা রিজার্ভ করে সরাসরি ভোলাগঞ্জ জিরো পয়েন্ট বা ধলাই নদীঘাট পর্যন্ত যাওয়া যায়। যাওয়া-আসা ও রিজার্ভ খরচ সাধারণত ১,৫০০ থেকে ২,০০০ টাকার মধ্যে হয়ে থাকে। নদীঘাট থেকে সাদা পাথর এলাকায় যাওয়ার জন্য ইঞ্জিন চালিত নৌকা ভাড়া করতে হয়, যার খরচ ৩০০ থেকে ৫০০ টাকা পর্যন্ত হতে পারে।
ভোলাগঞ্জের দর্শনীয় স্থান
সাদা পাথর ও ধলাই নদী
নদীর স্বচ্ছ জলের নিচ থেকে উঁকি দেওয়া সাদা পাথরের স্তূপ এবং ভারতের পাহাড়ের দৃশ্য যে কারো মন কেড়ে নেবে।
ভোলাগঞ্জ রোপওয়ে
১৯৬৪-১৯৬৯ সালে নির্মিত দেশের সর্ববৃহৎ রোপওয়ে প্রজেক্টের টাওয়ার এবং এর ঐতিহাসিক গুরুত্ব পর্যটকদের আকর্ষণ করে। এলাকাটি দেখতে অনেকটা ব-দ্বীপের মতো।
পাথর আহরণের দৃশ্য
ধলাই নদীর চারপাশের প্রাকৃতিক পরিবেশে স্থানীয়দের পাথর আহরণ এবং প্রক্রিয়াজাতকরণের দৃশ্য বেশ উপভোগ্য।
থাকা-খাওয়ার তথ্য
ভোলাগঞ্জে রাত্রীযাপনের জন্য ভালো মানের হোটেল বা রিসোর্ট নেই। তাই পর্যটকদের সিলেট শহরে ফিরে এসে থাকাটাই বুদ্ধিমানের কাজ হবে। সিলেট শহরের মাজার রোড, জিন্দাবাজার বা আম্বরখানায় বিভিন্ন মানের বাজেট হোটেল পেয়ে যাবেন। খাওয়ার জন্য স্থানীয় কিছু সাধারণ খাবারের হোটেল ও রেস্টুরেন্ট রয়েছে যেখানে দেশীয় খাবার পাওয়া যায়।
FAQ
প্রশ্ন: সাদা পাথর যাওয়ার সেরা সময় কোনটি?
উত্তর: বর্ষাকাল অর্থাৎ মে থেকে অক্টোবর মাস।
প্রশ্ন: সিলেট থেকে ভোলাগঞ্জের দূরত্ব কত?
উত্তর: প্রায় ৩৩ কিলোমিটার।
প্রশ্ন: নৌকার ভাড়া কেমন?
উত্তর: আকার ভেদে নৌকার ভাড়া ৩০০ থেকে ৫০০ টাকা পর্যন্ত হতে পারে।


