পরিচিতি
বান্দরবানের গহীনে অবস্থিত লাংলোক ঝর্ণা (Langlok Jhorna) বর্তমানে অ্যাডভেঞ্চার প্রেমীদের কাছে এক দারুণ আকর্ষণের নাম। এটি কিছুদিন আগে লোকচক্ষুর সামনে এসেছে। লাংলোক ঝর্ণার উচ্চতা প্রায় ৩৮৮.৯ ফুট। মূলত গভীর জঙ্গল, দুর্গম পথ আর লোকালয়ের বেশ বাইরে থাকার কারণে খুব কম মানুষের চোখে পড়েছে এটি। চারিদিক ঘন জঙ্গলে ঘেরা উঁচু-নিচু আঁকাবাঁকা পথ ও বিল্ডিং সমান পিচ্ছিল পাথর পেরিয়ে লাংলোক বা লিলুক ঝর্ণার দর্শনে আপনিও মুগ্ধ হয়ে যাবেন। সিজনাল জলপ্রপাতের মধ্যে এটিকে অন্যতম সর্বোচ্চ জলপ্রপাত বলা যায়। থানচি এলাকার এই ঝর্ণার স্থানে একটি বাদুড় গুহা থাকার ফলে মারমা ভাষায় এই ঝর্ণাকে লাংলোক অর্থাৎ বাদুড় বলে ডাকে। এর পাশে ছোট্ট একটি বাদুরছড়া বা লাংলোক-২ ঝর্ণাও রয়েছে।
- উচ্চতাঃ ৩৮৮.৯ ফুট
- ট্রেক সময়কালঃ ২-৩ ঘন্টা
- বেইসক্যাম্পঃ থানচি
- সেরা সময়ঃ বর্ষাকাল
কিভাবে যাবেন ও খরচ
ঢাকা থেকে প্রথমে আপনাকে বান্দরবান সদর যেতে হবে। বান্দরবান থেকে বাস বা চাঁদের গাড়িতে করে থানচি পৌঁছাতে হবে। থানচি থেকে একটি নৌকা ভাড়া করতে হবে যা তিন্দু পর্যন্ত যাওয়া-আসা করবে। থানচি থেকে তিন্দু পর্যন্ত যাওয়া-আসার নৌকা ভাড়া প্রায় ৩৫০০ টাকা। তিন্দু থেকে প্রায় ২ ঘন্টা অতি দুর্গম পাহাড়ী পথ ও ঝিরি পথ পাড়ি দিয়ে লাংলোক ঝর্ণায় পৌঁছাতে হয়। রুটটি হলো: ঢাকা – বান্দরবান – থানচি – তিন্দু – বড় পাথর – লাংলোক ঝর্ণা। ভ্রমণের সময় অবশ্যই একজন অভিজ্ঞ ও স্থানীয় গাইড সাথে নিতে হবে। গাইড খরচ প্রতিদিন ৮০০ থেকে ১০০০ টাকা। তবে মনে রাখবেন, বর্তমানে এই এলাকায় যাওয়ার ক্ষেত্রে প্রশাসনিক বিধিনিষেধ থাকতে পারে, তাই ভ্রমণের পূর্বে স্থানীয় প্রশাসন ও পরিস্থিতি সম্পর্কে নিশ্চিত হয়ে নিন।
দর্শনীয় দিক
লাংলোক ঝর্ণার চারপাশের প্রকৃতি অত্যন্ত বুনো ও মোহনীয়। ঝিরিপথ ধরে হাঁটার সময় চারপাশের পাহাড়ের সৌন্দর্য এবং ঝর্ণার গর্জন আপনার সমস্ত ক্লান্তি দূর করে দেবে। এর আশেপাশের পাথুরে দেওয়াল এবং সবুজ বনানী আপনাকে অন্য এক দুনিয়ায় নিয়ে যাবে। বর্ষাকালে ঝর্ণার পানির প্রবাহ সবচেয়ে বেশি থাকে, যা এর সৌন্দর্য কয়েকগুণ বাড়িয়ে দেয়।
থাকা-খাওয়ার তথ্য
লাংলোক ঝর্ণা এলাকাটি অত্যন্ত দুর্গম হওয়ায় সেখানে আধুনিক কোনো আবাসিক হোটেল বা রিসোর্ট নেই। সাধারণত থানচি বা তিন্দু বাজার কেন্দ্রিক থাকতে হয়। থানচি বাজারে সাধারণ মানের কিছু গেস্টহাউস ও কটেজ রয়েছে যেখানে রাতে থাকা সম্ভব। খাওয়ার জন্য স্থানীয় ছোট হোটেলগুলোতে দেশীয় খাবার যেমন পাহাড়ি মোরগ বা সাধারণ বাঙালি খাবার পাওয়া যায়। বেইসক্যাম্প থানচি থেকেই প্রয়োজনীয় শুকনা খাবার ও পানি সাথে নিয়ে নেওয়া উচিত।
FAQ
প্রশ্ন ১: লাংলোক ঝর্ণার উচ্চতা কত?
উত্তর: লাংলোক ঝর্ণার উচ্চতা প্রায় ৩৮৮.৯ ফুট।
প্রশ্ন ২: লাংলোক ঝর্ণা যাওয়ার সেরা সময় কোনটি?
উত্তর: বর্ষাকালে ঝর্ণায় পানির প্রবাহ বেশি থাকে, তাই বর্ষাকালই এই ঝর্ণা ভ্রমণের সেরা সময়।
প্রশ্ন ৩: থানচি থেকে তিন্দু নৌকার ভাড়া কত?
উত্তর: থানচি থেকে তিন্দু যাওয়া-আসার নৌকা ভাড়া সাধারণত ৩৫০০ টাকা।
প্রশ্ন ৪: গাইড ছাড়া কি লাংলোক ঝর্ণা যাওয়া সম্ভব?
উত্তর: না, পথটি অত্যন্ত দুর্গম ও জটিল হওয়ায় অবশ্যই একজন অভিজ্ঞ গাইড নেওয়া বাধ্যতামূলক।


