• Home
  • Trip
  • পূর্বের সুইজারল্যান্ড গ্যাংটক ভ্রমণ গাইড: খরচ, দর্শনীয় স্থান ও প্রয়োজনীয় টিপস

পূর্বের সুইজারল্যান্ড গ্যাংটক ভ্রমণ গাইড: খরচ, দর্শনীয় স্থান ও প্রয়োজনীয় টিপস

ভূমিকা

মেঘালয়, কাশ্মীর কিংবা দার্জিলিং তো অনেক ঘুরলেন, তবে ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের আসল রত্ন সিকিম কি ঘুরে দেখেছেন? আর সিকিম ভ্রমণের পরিকল্পনা মানেই তার রাজধানী গ্যাংটক (Gangtok)। সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে প্রায় ১৪৩৭ মিটার উচ্চতায় পূর্ব হিমালয়ের কোলে অবস্থিত এই পাহাড়ি শহরটি তার আলপাইন সৌন্দর্যের জন্য বিশ্বজুড়ে পরিচিত। একে অনেকেই ভালোবেসে ‘পূর্বের সুইজারল্যান্ড’ বলে থাকেন। পাহাড়ি আঁকাবাঁকা পথ, মেঘের লুকোচুরি খেলা আর বরফে ঢাকা কাঞ্চনজঙ্ঘার হাতছানি—সব মিলিয়ে গ্যাংটক ভ্রমণ আপনার জীবনের অন্যতম সেরা অভিজ্ঞতা হতে পারে।

গ্যাংটকের আকর্ষণীয় দর্শনীয় স্থানসমূহ

প্রকৃতির অপরূপ সৌন্দর্যে ভরপুর গ্যাংটকে ঘুরে দেখার মতো রয়েছে অসংখ্য জায়গা। নিচে প্রধান দর্শনীয় স্থানগুলোর তালিকা দেওয়া হলো:

  • এম.জি. মার্গ (MG Marg): গ্যাংটকের হার্ট বলা চলে এই মহাত্মা গান্ধী মার্গকে। পরিপাটি ও গাড়ি-মুক্ত এই স্ট্রিটটি নানা রঙের ফুলে সাজানো। শপিং এবং আড্ডার জন্য এটি পর্যটকদের প্রধান আকর্ষণের কেন্দ্রবিন্দু।
  • সোমগো বা ছাঙ্গু লেক (Tsomgo Lake): গ্যাংটক শহর থেকে ৩৮ কিমি দূরে ১২,৪০০ ফুট উচ্চতায় অবস্থিত এই হ্রদের সৌন্দর্য ভাষায় প্রকাশ করার মতো নয়। শীতকালে এর পানি বরফে জমে যায়। এখানে ইয়াকের পিঠে চড়ার দারুণ সুযোগ রয়েছে।
  • বাবা মন্দির (Baba Mandir): ছাঙ্গু লেক যাওয়ার পথেই পড়ে ঐতিহাসিক বাবা হরভাজন সিংয়ের মন্দির। এর আশেপাশে পাহাড়ের ভিউ দুর্দান্ত।
  • নাথু লা পাস (Nathu La Pass): ভারত-চীন সীমান্ত সংলগ্ন এই পাসটি প্রায় ১৪,৪০০ ফুট উঁচুতে অবস্থিত। স্নো-লাভারদের জন্য এটি স্বর্গরাজ্য।
  • রোপওয়ে রাইড: গ্যাংটক রোপওয়ে থেকে পুরো শহরটিকে পাখির চোখে দেখার অভিজ্ঞতা দারুণ রোমাঞ্চকর।

কীভাবে যাবেন এবং খরচ কেমন হবে

গ্যাংটক যাওয়ার সবচেয়ে সুবিধাজনক উপায় হলো শিলিগুড়ি বা বাগডোগরা হয়ে যাওয়া।

যাতায়াত:

কলকাতা বা অন্য রাজ্য থেকে ট্রেনে চেপে নামতে হবে নিউ জলপাইগুড়ি (NJP) স্টেশনে কিংবা বিমানে বাগডোগরা বিমানবন্দরে। সেখান থেকে শেয়ার জিপ, প্রি-পেইড ট্যাক্সি বা বাসে চড়ে গ্যাংটক পৌঁছানো যায়। এনজেপি থেকে গ্যাংটকের দূরত্ব প্রায় ১২০ কিলোমিটার, সময় লাগে ৪ থেকে ৫ ঘণ্টা।

আনুমানিক খরচ:

মাঝারি মানের বাজেটে জনপ্রতি ৩ দিনের গ্যাংটক ভ্রমণে ৫,০০০ থেকে ৮,০০০ টাকা (যাতায়াত বাদে) খরচ হতে পারে। শেয়ার কারে ঘুরলে খরচ বেশ কম পড়ে। তবে নাথু লা পাস বা বিশেষ এলাকায় যাওয়ার জন্য পারমিট বা অনুমতির প্রয়োজন হয়, যা স্থানীয় ট্রাভেল এজেন্টদের মাধ্যমে করা যায়।

কোথায় থাকবেন এবং কী খাবেন

গ্যাংটকে বাজেট হোটেল থেকে শুরু করে ফাইভ স্টার লাক্সারি রিসোর্ট—সব ধরনের থাকার ব্যবস্থা রয়েছে। এম.জি.মার্গের আশেপাশে হোটেল নিলে যাতায়াত এবং খাওয়া-দাওয়ার সুবিধা সবচেয়ে বেশি পাওয়া যায়।

খাবারের ক্ষেত্রে এখানকার স্থানীয় তিব্বতি ও সিকিমিজ খাবার ট্রাই করতে পারেন। বিশেষ করে মোমো, থুকা, গ্যানথুক এবং সেলের রোটি বেশ জনপ্রিয়। এছাড়া বাঙালি খাবার পাওয়া যায় এমন অনেক রেস্তোরাঁও এখানে রয়েছে।

সচরাচর জিজ্ঞাসিত প্রশ্নাবলী (FAQ)

১. গ্যাংটক ভ্রমণের সেরা সময় কোনটি?

মার্চ থেকে জুন এবং সেপ্টেম্বর থেকে মধ্য ডিসেম্বর পর্যন্ত সময় গ্যাংটক ভ্রমণের জন্য সেরা। এ সময় আবহাওয়া অনুকূল থাকে এবং কাঞ্চনজঙ্ঘা পরিষ্কার দেখা যায়।

২. ছাঙ্গু লেক বা নাথু লা যাওয়ার জন্য কি পারমিটের প্রয়োজন হয়?

হ্যাঁ, ভারতীয় নাগরিকদের জন্যও ছাঙ্গু লেক এবং নাথু লা পাস ভিজিট করতে স্পেশাল পারমিট বা অনুমতির প্রয়োজন হয়। এটি হোটেল বা রেজিস্টার্ড ট্যুর অপারেটরদের মাধ্যমে সংগ্রহ করা যায়।

৩. গ্যাংটকের নাইটলাইফ কেমন?

বড় শহরগুলোর মতো গ্যাংটকের নাইটলাইফ খুব বেশি জমজমাট না হলেও, এম.জি.মার্গের কিছু রেস্তোরাঁ, পাব এবং রয়্যাল প্লাজা হোটেলের ক্যাসিনো সিকিমে পর্যটকরা চমৎকার সময় কাটাতে পারেন।

0
0
অর্ডার লিস্ট
কার্টে কিছু নেইআবার অর্ডার করুন