মেঘের ডানা মেলে হারিয়ে যান চিম্বুক পাহাড়ে
বাংলাদেশের পর্যটকদের কাছে বান্দরবান এক অন্যরকম ভালোবাসার নাম। আর এই পাহাড়ি জেলার সৌন্দর্যকে দ্বিগুণ বাড়িয়ে দিয়েছে দেশের তৃতীয় সর্বোচ্চ পর্বত চিম্বুক পাহাড় (Chimbuk Hill)। সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে প্রায় ২৫০০ ফুট উঁচুতে অবস্থিত এই পাহাড়ে দাঁড়িয়ে মেঘের সাথে মিতালি করার আনন্দই আলাদা। চারপাশের সবুজ প্রকৃতি, সাঙ্গু নদীর এঁকেবেঁকে চলা রূপ এবং মেঘের ভেলার ওড়াউড়ি পর্যটকদের মন কেড়ে নেয় নিমিষেই।
চিম্বুকের দর্শনীয় দিক ও প্রাকৃতিক সৌন্দর্য
বান্দরবান জেলা সদর থেকে মাত্র ২৬ কিলোমিটার দূরে থানছি রোডের চিম্বুক পাহাড়ে যাওয়ার পথটি রোমাঞ্চকর। পাহাড়ের বুক চিরে চলে যাওয়া বাংলাদেশের সর্বোচ্চ পিচঢালা সড়ক দিয়ে যখন জিপ গাড়িটি এগিয়ে চলে, তখন মনে হয় আপনি বুঝি কোনো রূপকথার রাজ্যে প্রবেশ করছেন।
- মেঘের স্বর্গরাজ্য: বর্ষাকালে এখানে এলে মনে হবে মেঘগুলো আপনার ছোঁয়া দূরত্বে ভেসে বেড়াচ্ছে।
- দূরবর্তী দৃশ্যপট: চিম্বুকের চূড়া থেকে পরিষ্কার দিনে পাশের জেলা কক্সবাজার এবং চট্টগ্রামের বিভিন্ন উপজেলার মনোরম দৃশ্য দেখা যায়।
- পথের সৌন্দর্য: যাতায়াতের সময় রাস্তার দুই পাশের পাহাড়ের সারি এবং সাঙ্গু নদীর রূপ আপনার ক্লান্তি দূর করে দেবে।
কীভাবে যাবেন ও যাতায়াত খরচ
চিম্বুক যাওয়ার জন্য প্রথমে আপনাকে বান্দরবান পৌঁছাতে হবে। নিচে যাতায়াতের বিস্তারিত দেওয়া হলো:
ঢাকা থেকে বান্দরবান
ঢাকার কলাবাগান, সায়দাবাদ বা ফকিরাপুল থেকে শ্যামলি, হানিফ, ইউনিক, এস আলম কিংবা ডলফিনের মতো বাসে চড়ে সরাসরি বান্দরবান যেতে পারেন। নন-এসি বাসের ভাড়া সাধারণত ৫৫০ থেকে ৬০০ টাকা এবং এসি বাসের ভাড়া ৯৫০ থেকে ১২০০ টাকার মধ্যে হয়ে থাকে।
চট্টগ্রাম থেকে বান্দরবান
চট্টগ্রামের বদ্দারহাট বাস টার্মিনাল থেকে পূর্বানী বা পূবালী পরিবহনের বাসে করে জনপ্রতি ২২০ থেকে ২৫০ টাকা ভাড়ায় বান্দরবান পৌঁছাতে পারবেন।
বান্দরবান শহর থেকে চিম্বুক
শহরের রুমা বাসস্ট্যান্ড বা জিপ স্টেশন থেকে চাঁদের গাড়ি (ল্যন্ড ক্রুজার/পাজেরো) বা রিজার্ভ জিপ ভাড়া করে চিম্বুক যাওয়া যায়। পাহাড়ি রাস্তা বেশ দুর্গম হওয়ায় লোকাল বাসের চেয়ে জিপ বা চাঁদের গাড়ি ভাড়া করা নিরাপদ ও সুবিধাজনক। মনে রাখবেন, বিকেল ৪টার পর এই সড়কে গাড়ি চলাচল সীমিত হয়ে যায়, তাই সন্ধ্যার আগেই ফিরে আসা বুদ্ধিমানের কাজ হবে।
কোথায় থাকবেন এবং খাওয়ার ব্যবস্থা
চিম্বুক পাহাড়ে পর্যটকদের জন্য পর্যাপ্ত হোটেল না থাকলেও জেলা প্রশাসনের একটি রেস্টহাউস রয়েছে, যার জন্য পূর্বানুমতি নিতে হয়। এ ছাড়া সেনাবাহিনীর পরিচালিত একটি ক্যান্টিন রয়েছে যেখানে হালকা খাবার ও নাস্তা পাওয়া যায়। তবে থাকার জন্য বান্দরবান শহরে ফিরে আসাটাই সবচেয়ে ভালো।
- হোটেল ও রিসোর্ট: বান্দরবান শহরে ৬০০ টাকা থেকে ৩,০০০ টাকার মধ্যে অনেক মানসম্মত হোটেল ও রিসোর্ট রয়েছে। যেমন—হোটেল ফোর স্টার, হোটেল থ্রি স্টার, হিলসাইড রিসোর্ট (মিলনছড়ি) এবং মেঘলা সংলগ্ন হলিডে ইন রিসোর্ট।
- খাবারদাবার: চিম্বুক যাওয়ার পথে মিলনছড়ি ও শাকুরা পর্যটন কেন্দ্রে ভালো মানের রেস্টুরেন্ট পাবেন। বান্দরবান শহর থেকেও প্রয়োজনীয় খাবার বা স্ন্যাক্স সাথে নিয়ে নেওয়া ভালো।
সচারাচর জিজ্ঞাসিত প্রশ্নাবলী (FAQ)
৩.১ চিম্বুক পাহাড়ের উচ্চতা কত?
সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে চিম্বুক পাহাড়ের উচ্চতা প্রায় ২৫০০ ফুট। এটি বাংলাদেশের তৃতীয় সর্বোচ্চ পর্বতশৃঙ্গ।
৩.২ চিম্বুক ভ্রমণের সেরা সময় কোনটি?
বর্ষাকাল চিম্বুক ভ্রমণের জন্য সেরা সময়। এ সময় পাহাড়ের চারপাশে মেঘের লুকোচুরি খেলা ও সবুজ রূপ সবচেয়ে বেশি উপভোগ করা যায়।
৩.৩ চিম্বুক যাওয়ার পথে কি অনুমতি লাগে?
সাধারণত চিম্বুক যাওয়ার জন্য কোনো বিশেষ অনুমতির প্রয়োজন হয় না, তবে প্রশাসনের রেস্টহাউসে রাত কাটাতে চাইলে অনুমতি নিতে হয়।


