• Home
  • Trip
  • হিমাচলের রত্ন চেইল: নিষিদ্ধ প্রেমের শহর ও বিশ্বের উচ্চতম ক্রিকেট মাঠের অজানা গল্প

হিমাচলের রত্ন চেইল: নিষিদ্ধ প্রেমের শহর ও বিশ্বের উচ্চতম ক্রিকেট মাঠের অজানা গল্প

হিমাচল প্রদেশের বুক চিরে গড়ে ওঠা এক টুকরো স্বর্গের নাম চেইল (Chail)। সোলান জেলার অন্তর্গত এই ছোট্ট পাহাড়ি শহরটি সিমলার কোলাহল থেকে দূরে নিরালা পরিবেশে সময় কাটানোর জন্য এক আদর্শ জায়গা। একে অনেকেই ভালোবেসে ‘লিটল মাউন্টেন অফ হেভেন’ বলে ডাকেন। ওক, পাইন এবং রডোডেনড্রন বনে ঘেরা ২২৫০ মিটার উচ্চতার এই শৈলশহরটির সাথে জড়িয়ে রয়েছে এক রোমাঞ্চকর প্রেমের ইতিহাস এবং ব্রিটিশ আমলের নানা স্মৃতি।

চেইলের ইতিহাস: এক নিষিদ্ধ প্রেমের পরিণতি

আজ যে সুন্দর পর্যটন কেন্দ্র হিসেবে চেইল পরিচিত, তার পেছনে রয়েছে এক দারুণ প্রেমের গল্প। উনবিংশ শতাব্দীর শেষের দিকে পাতিয়ালার মহারাজা ভূপেন্দ্র সিং ব্রিটিশ কমান্ডার-ইন-চিফের সুন্দর কন্যার প্রেমে পড়েন। এই খবর চাউর হতেই ক্ষিপ্ত ব্রিটিশরা সিমলায় মহারাজার প্রবেশাধিকার নিষিদ্ধ করে দেয়। রাগে ও অভিমানে মহারাজা পতিয়ালা ছেড়ে গোর্খাদের কাছ থেকে ৭৫ একর জমি কিনে গড়ে তোলেন এই নতুন শহর—চেইল। তিনটি মনোরম পাহাড় নিয়ে গঠিত এই শৈলশহরেই তিনি তৈরি করেন তাঁর সামার ক্যাপিটাল বা গ্রীষ্মকালীন রাজধানী।

চেইলের প্রধান দর্শনীয় স্থানসমূহ

পাহাড়ের কোলে ঘেরা এই পর্যটন কেন্দ্রে রয়েছে বেশ কিছু দর্শনীয় স্থান, যা আপনার ভ্রমণকে করে তুলবে স্মরণীয়:

  • চেইল প্যালেস (Chail Palace): মহারাজা ভূপেন্দ্র সিংয়ের তৈরি এই রাজপ্রাসাদটি পুরনো ও নতুন শিল্পকলার এক অপূর্ব নিদর্শন। ১৯৫১ সালে অগ্নিকাণ্ডে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পর এটি পুনর্নির্মাণ করা হয়। বর্তমানে এটি হিমাচল প্রদেশ ট্যুরিজমের হোটেল হিসেবে পরিচালিত হয়। বিখ্যাত হিন্দি সিনেমা ‘থ্রি ইডিয়টস’-এর ‘চাঁচড় ভবন’ হিসেবেও এই প্যালেসটিকে দেখানো হয়েছিল।
  • বিশ্বের উচ্চতম ক্রিকেট স্টেডিয়াম: সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে প্রায় ২১৪৪ মিটার উচ্চতায় অবস্থিত এই স্টেডিয়ামটি বিশ্বের সর্বোচ্চ ক্রিকেট মাঠ হিসেবে গিনেস বুক অব ওয়ার্ল্ড রেকর্ডসে স্থান পাওয়ার দাবিদার। মহারাজার তৈরি এই মাঠে ক্রিকেট ছাড়াও ফুটবল ও বাস্কেটবল খেলার ব্যবস্থাও রয়েছে।
  • চেইল অভয়ারণ্য (Chail Sanctuary): মহারাজার পুরনো মৃগয়া ক্ষেত্রটি এখন একটি সংরক্ষিত অভয়ারণ্য। গাইড নিয়ে ২-৩ ঘণ্টার ট্রেকিংয়ে এখানে দেখতে পাবেন চিতা, সাম্বার, ইউরোপিয়ান রেড ডেয়ার, তিব্বতি নেকড়ে এবং নানা প্রজাতির রঙিন পাহাড়ি পাখি। এখানে প্রবেশমূল্য মাত্র ২০ টাকা।
  • কালী কা টিব্বা: এক সাধু মহারাজার স্বপ্নোপদেশ পেয়ে এই মন্দিরটি নির্মাণ করা হয়। মূল মন্দিরে দেবী কালীর পাশাপাশি রয়েছে শিব এবং পঞ্চমুখী হনুমান মন্দির। এখান থেকে শিবালিক পাহাড়ের প্যানোরামিক ভিউ এবং সূর্যাস্তের দৃশ্য এককথায় অভাবনীয়।

কীভাবে যাবেন ও যাতায়াত খরচ

সিমলা না গিয়ে সরাসরি কালকা থেকেও চেইল যাওয়া সম্ভব। কালকা থেকে চেইলের দূরত্ব প্রায় ৮৪ কিলোমিটার।

  • রেলপথে: নিকটবর্তী প্রধান রেলওয়ে স্টেশন কালকা। এছাড়া খেলনা ট্রেনে কান্দাঘাট পর্যন্ত যাওয়া যায়।
  • সড়কপথে: কালকা-সিমলা হাইওয়ে ধরে কান্দাঘাট পর্যন্ত এসে, সেখান থেকে সিমলার দিকে না গিয়ে ডানদিকের পাহাড়ি রাস্তা ধরে প্রায় ৬০ কিমি এগোলেই পৌঁছে যাবেন চেইল। কান্দাঘাট বা সিমলা থেকে সহজেই ক্যাব বা বাস পেয়ে যাবেন।

থাকা ও খাওয়ার সুব্যবস্থা

চেইলে বাজেট হোটেল থেকে শুরু করে হিমাচল ট্যুরিজমের লাক্সারি প্রপার্টি (চেইল প্যালেস) উপলব্ধ। এছাড়া হোমস্টের ব্যবস্থাও রয়েছে। পাহাড়ি মোমো, ম্যাগি, হিমাচলী ধাম এবং উত্তর ভারতীয় খাবার এখানে সহজেই পেয়ে যাবেন। বাজেট অনুযায়ী প্রতি রাতে ১৫০০ থেকে ৫০০০ টাকার মধ্যে ভালো থাকার জায়গা পেয়ে যাবেন।

সচরাচর জিজ্ঞাসিত প্রশ্নাবলী (FAQ)

১. চেইল ভ্রমণের সেরা সময় কোনটি?

সারা বছরই চেইলের আবহাওয়া মনোরম থাকে। তবে মার্চ থেকে জুন এবং সেপ্টেম্বর থেকে নভেম্বর মাস চেইল ভ্রমণের জন্য সেরা সময়। শীতকালে বরফ পড়ার অভিজ্ঞতাও পেতে পারেন।

২. সিমলা থেকে চেইলের দূরত্ব কত?

সিমলা বা কুফরী থেকে চেইলের দূরত্ব মাত্র ৪৫ কিলোমিটার। ক্যাব বা বাসে দেড় থেকে দুই ঘণ্টায় পৌঁছে যাওয়া যায়।

৩. চেইলে কি স্নো-ফল বা তুষারপাত হয়?

হ্যাঁ, ডিসেম্বর থেকে ফেব্রুয়ারি মাসের দিকে চেইলে ভালোই তুষারপাত হয়, যা স্নো-লাভারদের দারুণ আকৃষ্ট করে।

0
0
অর্ডার লিস্ট
কার্টে কিছু নেইআবার অর্ডার করুন