কির্সতং পাহাড় পরিচিতি
বান্দরবানের দুর্গম পাহাড়ি অঞ্চলে অবস্থিত কির্সতং (Kirs Taung) ট্রেকারদের কাছে এক রোমাঞ্চকর ও রহস্যঘেরা নাম। চিম্বুক রেঞ্জের অংশ এই পাহাড়টির আনুমানিক উচ্চতা প্রায় ২৯৮৯ ফুট। স্থানীয় মারমা ভাষা থেকে এই নামকরণ হয়েছে; যেখানে ‘কির্স’ হলো একটি বিলুপ্তপ্রায় পাখি এবং ‘তং’ অর্থ পাহাড়। একসময় এই চূড়ায় প্রচুর কির্স পাখির দেখা মিললেও কালের বিবর্তনে তা এখন বিরল। রুংরাং পাহাড়ের চেয়ে প্রায় ৩০০ ফুট উঁচুতে অবস্থিত এই চূড়ার চারপাশ ঘন বন ও মেঘের মিতালীতে ঢাকা থাকে। এখানকার বুনো পরিবেশ, সূর্যের আলো না পৌঁছানো গভীর জঙ্গল এবং নাম না জানা পাখির ডাক প্রকৃতিপ্রেমীদের মনে শিহরণ জাগায়।
- উচ্চতাঃ ২৯৮৯ ফুট
- ট্রেক সময়কালঃ ৪ দিন
- বেইসক্যাম্পঃ খেমচং পাড়া
- সেরা সময়ঃ বছরের যে কোন সময়
কির্সতং যাওয়ার উপায় ও খরচ
ঢাকা থেকে কির্সতং ট্র্যাকিংয়ের উদ্দেশ্যে রওনা দিতে হলে প্রথমে আপনাকে বান্দরবানের আলীকদম উপজেলায় পৌঁছাতে হবে। ঢাকার বিভিন্ন প্রান্ত থেকে সরাসরি আলীকদমের বাস পাওয়া যায় (ভাড়া সাধারণত ৮৫০ টাকা)। সরাসরি বাস না পেলে কক্সবাজারের বাসে চড়ে চকোরিয়া নেমে সেখান থেকেও লোকাল গাড়িতে আলীকদম যাওয়া সম্ভব।
আলীকদম পৌঁছে পানবাজার থেকে অবশ্যই একজন অভিজ্ঞ স্থানীয় গাইড ঠিক করে নিতে হবে। বাজার থেকে বাইক বা চান্দের গাড়িতে করে ১৩ কিলো পয়েন্টে যেতে হয়। বাইক ভাড়া জনপ্রতি প্রায় ২০০ টাকা এবং চান্দের গাড়ির ভাড়া ২৫০০ থেকে ৩০০০ টাকা পর্যন্ত হতে পারে। ১৩ কিলো থেকে দুসরি বাজার হয়ে ট্রেকিং শুরু হয় এবং মেনকিউ পাড়া ও মেনিয়াংক পাড়ায় প্রথম রাতের যাত্রাবিরতি করতে হয়।
প্রয়োজনীয় গাইড তালিকা
- গাইড ফারুক – 01869001454
- রাজু – 01890609437
- মানিক – 01826614935
দর্শনীয় দিক ও রোমাঞ্চকর অভিজ্ঞতা
মেনিয়াংক পাড়া থেকে মাত্র দেড় ঘণ্টা হাঁটলেই পৌঁছে যাবেন রুংরাং তং-এ। এর পরেই রয়েছে খেমচং পাড়া, যা এই ট্রেকের মূল বেইসক্যাম্প হিসেবে কাজ করে। খেমচং পাড়া পেরিয়ে কির্সতং সামিট জয় করা এক অপূর্ব অনুভূতি। সামিট থেকে দূরের পাহাড়ি উপত্যকা এবং তিন্দু এলাকার দারুণ দৃশ্য দেখা যায়। এখানকার আদিম ও বুনো প্রকৃতি, বিশাল সব মাদারগাছের ছাউনি এবং মেঘ-রোদের লুকোচুরি খেলা আপনার সমস্ত ক্লান্তি নিমিষেই দূর করে দেবে।
থাকার ও খাওয়ার ব্যবস্থা
এই দুর্গম এলাকায় কোনো আধুনিক হোটেল বা কটেজ নেই। তাই রাত্রিযাপনের জন্য আদিবাসী পাড়ার ওপরই ভরসা করতে হবে। প্রতিটি পাড়ায় পৌঁছানোর পর সেখানকার কারবারীর (গ্রামপ্রধান) সাথে কথা বলে তার বাড়িতে বা নির্ধারিত কোনো কুঁড়েঘরে থাকার ব্যবস্থা করে নিতে হয়। খাবারের জন্য স্থানীয় পাড়ার বাসিন্দাদের সহায়তা নিতে পারেন, তবে পাহাড়ি পথে খাবারের অপশন সীমিত থাকায় নিজ দায়িত্বে কিছু শুকনো খাবার ও এনার্জি ফুড সাথে রাখা বুদ্ধিমানের কাজ হবে।
সতর্কতা এবং প্রস্তুতি
পাহাড়ি ট্রেইলে হাঁটার সময় শরীর থেকে অতিরিক্ত ঘাম ঝরে এবং পানিশূন্যতা দেখা দিতে পারে। তাই সব সময় সাথে পর্যাপ্ত খাবার পানি ও ওরস্যালাইন রাখুন। অতি দুর্গম অঞ্চল হওয়ায় ফার্স্ট এইড বক্স, গ্লুকোজ এবং প্রয়োজনীয় ওষুধ সাথে রাখা বাধ্যতামূলক।
সচরাচর জিজ্ঞাসিত প্রশ্নাবলী (FAQ)
১. কির্সতং পাহাড়ের উচ্চতা কত?
কির্সতং পাহাড়ের আনুমানিক উচ্চতা ২৯৮৯ ফুট।
২. কির্সতং যেতে কত দিন সময় লাগে?
ঢাকা থেকে যাওয়া-আসা সহ সম্পূর্ণ ট্র্যাকিং শেষ করতে সাধারণত ৪ দিন সময় লাগে।
৩. কির্সতং যাওয়ার সেরা সময় কখন?
বছরের যেকোনো সময়ই যাওয়া যায়, তবে বর্ষা বা শরৎকালে এখানকার প্রাকৃতিক সৌন্দর্য ভিন্ন মাত্রা পায়।
৪. গাইড নেওয়া কি বাধ্যতামূলক?
হ্যাঁ, রাস্তাঘাট অত্যন্ত দুর্গম ও অচেনা হওয়ায় নিরাপত্তা এবং সঠিক পথ চেনার জন্য গাইড নেওয়া বাধ্যতামূলক।


