• Home
  • Trip
  • থাইল্যান্ডের রত্ন চিয়াং মাই ভ্রমণ গাইড: ইতিহাস, দর্শনীয় স্থান ও খরচ

থাইল্যান্ডের রত্ন চিয়াং মাই ভ্রমণ গাইড: ইতিহাস, দর্শনীয় স্থান ও খরচ

1 Day

চিয়াং মাই পরিচিতি

থাইল্যান্ডের উত্তরভাগের পাহাড়ি জনপদ চিয়াং মাই যেন এক টুকরো স্বর্গ। রাজধানী ব্যাংকক থেকে প্রায় ৭০০ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত এই ঐতিহাসিক শহরটি ১২৯৬ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়। হিমালয়ের পাদদেশে সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে প্রায় ৩০০ মিটার উঁচুতে অবস্থিত হওয়ায় এখানকার আবহাওয়া সবসময়ই বেশ মনোরম ও শীতল। প্রাচীন লান না থাই রাজ্যের রাজধানী থাকা অবস্থায় এই অঞ্চলটি সংস্কৃতি, ধর্ম ও বাণিজ্যের এক বিশাল কেন্দ্র ছিল। পাহাড়ি জঙ্গল, জলপ্রপাত, গুহা আর প্রাচীন মন্দিরের নান্দনিকতায় ঘেরা চিয়াং মাইকে অনেক সময় থাইল্যান্ডের ‘শাংগ্রী লা’ বলেও অভিহিত করা হয়। এখানকার স্থানীয় মানুষের ঐতিহ্য, হস্তশিল্প এবং মন, বার্মিজ ও লান না স্থাপত্যের সংমিশ্রণ পর্যটকদের মুগ্ধ করে।

চিয়াং মাই যাওয়ার উপায় ও যাতায়াত

বাংলাদেশ বা ব্যাংকক থেকে খুব সহজেই চিয়াং মাই পৌঁছানো যায়। ব্যাংকক থেকে চিয়াং মাই যাওয়ার বেশ কয়েকটি মাধ্যম রয়েছে:

  • বিমান পথ: ব্যাংককের সুবর্ণভূমি বা ডন মুয়াং বিমানবন্দর থেকে থাই এয়ারওয়েজ বা এয়ারএশিয়ার ফ্লাইটে মাত্র ৫৫ মিনিটেই পৌঁছে যাবেন চিয়াং মাই আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে।
  • ট্রেন পথ: ব্যাংককের হুয়া লমপোং স্টেশন থেকে ট্রেনে চড়ে পাহাড়ি সুন্দর দৃশ্য উপভোগ করতে করতে প্রায় ১৪ ঘণ্টায় পৌঁছানো যায়।
  • বাস পথ: ব্যাংককের ফাহেনিওথিন রোড থেকে এসি লং-ডিসটেন্স বাস ছাড়ে, চিয়াং মাই পৌঁছাতে সময় লাগে প্রায় ১২ ঘণ্টা।

শহরের ভেতরে ঘুরে বেড়ানোর জন্য পায়ে হাঁটার পাশাপাশি টুকটুক (ত্রিচক্রযান), লাল রঙের সংথাইও (মিনিবাস) এবং গাইডসহ গাড়ি ভাড়া পাওয়া যায়।

প্রধান দর্শনীয় স্থান ও উৎসব

চিয়াং মাইয়ে দেখার মতো অনেক কিছু রয়েছে। এখানকার বনাঞ্চলে এখনও হাতির ঐতিহ্যবাহী ব্যবহার দেখা যায়। এছাড়া রয়েছে চমৎকার সব জলপ্রপাত এবং ১৩ শতকের প্রাচীন মন্দিরসমূহ। চিয়াং মাইয়ের বার্ষিক উৎসবগুলো এই ভ্রমণকে আরও রোমাঞ্চিত করে তোলে:

  • ফুলের উৎসব: প্রতি বছর ফেব্রুয়ারি মাসের প্রথম সপ্তাহে এই উৎসব হয়, যেখানে হরেক রকমের নাতিশীতোষ্ণ ও গ্রীষ্মমন্ডলীয় ফুলের সমারোহে বর্ণাঢ্য প্যারেড বের হয়।
  • সংক্রান উৎসব: ১৩ থেকে ১৫ এপ্রিল থাই নববর্ষ উপলক্ষে এই উৎসবে ৩ দিন ধরে জল ছিটানো উৎসব, নাচ ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান হয়।
  • লয় ক্রাথং: মধ্য নভেম্বরের পূর্ণিমা রাতে কলাগাছের তৈরি ছোট ভেলায় মোমবাতি, ফুল ও ধূপ জ্বালিয়ে নদীর জলে ভাসিয়ে দেওয়া হয়। বিশ্বাস করা হয়, এর মাধ্যমে বিগত বছরের পাপ ধুয়ে যায়।

থাকা ও খাওয়ার খরচ

বাজেট ট্রভেলার থেকে শুরু করে লাক্সারি পর্যটকদের জন্য চিয়াং মাইয়ে প্রচুর হোটেল ও রিসোর্ট রয়েছে। প্রথম ও দ্বিতীয় শ্রেণীর এসি হোটেলগুলোতে বেশ আরামদায়ক ও সাশ্রয়ী মূল্যে থাকা যায়। খাওয়া-দাওয়ার ক্ষেত্রে এখানকার স্থানীয় উত্তর থাই খাবার যেমন- ‘কাও সোই’ (Khao Soi) খুবই জনপ্রিয় এবং খরচ বেশ কম। বাজেট অনুযায়ী প্রতিদিন ১,৫০০ থেকে ৩,০০০ বাথ খরচ করলেই চমৎকার ভ্রমণ সম্পন্ন করা সম্ভব।

সচরাচর জিজ্ঞাসিত প্রশ্নাবলী (FAQ)

৩. ১. চিয়াং মাই ভ্রমণের সেরা সময় কোনটি?

নভেম্বর থেকে ফেব্রুয়ারি মাস পর্যন্ত আবহাওয়া সবচেয়ে ঠাণ্ডা ও মনোরম থাকে। এছাড়া এই সময়ে এখানকার বিখ্যাত উৎসবগুলোও অনুষ্ঠিত হয়।

৩. ২. ব্যাংকক থেকে চিয়াং মাই যেতে কত সময় লাগে?

বিমানে মাত্র ৫৫ মিনিট, বাসে ১২ ঘণ্টা এবং ট্রেনে প্রায় ১৪ ঘণ্টা সময় লাগে।

৩. ৩. চিয়াং মাই কি পরিবার নিয়ে ভ্রমণের জন্য নিরাপদ?

হ্যাঁ, থাইল্যান্ডের এই শহরটি অত্যন্ত শান্ত, নিরাপদ এবং পরিবার বা কাপলদের ভ্রমণের জন্য আদর্শ।

Free
/ এডাল্ট
0
0
অর্ডার লিস্ট
কার্টে কিছু নেইআবার অর্ডার করুন