• Home
  • Trip
  • সাকা হাফং পর্বত জয়: বাংলাদেশের সর্বোচ্চ শৃঙ্গ ভ্রমণের সম্পূর্ণ গাইড

সাকা হাফং পর্বত জয়: বাংলাদেশের সর্বোচ্চ শৃঙ্গ ভ্রমণের সম্পূর্ণ গাইড

সাকা হাফং পর্বত পরিচিতি

কে কেওক্রাডং বা তাজিংডংকেই বাংলাদেশের সর্বোচ্চ পর্বত মনে করেন? এই ধারণা এখন অতীত! জিপিএস রিডিং এবং আধুনিক জরিপ অনুযায়ী, সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে প্রায় ১০৫০ মিটার বা ৩৪৪৫ ফুট উঁচুতে অবস্থিত সাকা হাফং (Saka Haphong) বর্তমানে বাংলাদেশের অবিসংবাদিত সর্বোচ্চ পর্বত শৃঙ্গ। স্থানীয় মুরং উপজাতির কাছে এটি ‘বর্ডার হুম’ এবং বম সম্প্রদায়ের কাছে ‘ক্ল্যাংময়’ নামে পরিচিত। মদক তং বা মোদক তুয়াং নামেও এর পরিচিতি রয়েছে। রোমাঞ্চপ্রেমী ও ট্র্যাকারদের কাছে এটি একটি আল্টিমেট ড্রিম ডেস্টিনেশন। দুর্গম পথ, মেঘের লুকোচুরি আর রোমাঞ্চকর ট্রেইল এই পাহাড়কে করে তুলেছে অন্যরকম আকর্ষণীয়।

সাকা হাফং যাওয়ার উপায় ও খরচ

সাকা হাফংয়ের অভিযান শুরু করতে হবে পার্বত্য জেলা বান্দরবান থেকে। ঢাকা বা চট্টগ্রাম থেকে সরাসরি বাসে বান্দরবান পৌঁছানো যায়। এস. আলম, হানিফ, সৌদিয়া বা শ্যামলীর মতো বাসগুলোর ভাড়া ৫৫০ থেকে ১৫০০ টাকার মধ্যে। চট্টগ্রাম থেকেও বাসে বা প্রাইভেট কারে (২৫০০-৩৫০০ টাকা) বান্দরবান যাওয়া সম্ভব।

বান্দরবান পৌঁছানোর পর থানচি বা রুমা রুট ধরে সাকা হাফংয়ের দিকে অগ্রসর হতে হয়। থানচি পর্যন্ত লোকাল বাস ভাড়া ২০০ টাকা (সময় লাগে ৪-৫ ঘণ্টা) এবং রিজার্ভ জীপ বা চান্দের গাড়ি ভাড়া ৫৫০০০-৬০০০ টাকা (১২-১৪ জন বসা যায়)।

জনপ্রিয় ট্র্যাকিং রুটসমূহ

১. থানচি রুট: থানচি – বোর্ডিং পাড়া – শেরকর পাড়া – তাজিংডং – সিম্পাম্পি পাড়া – হান্জরাই পাড়া – নেফিউ পাড়া – সামিট। অথবা জিরি পথ ধরে কাইতং পাড়া হয়ে সিম্পাম্পি পাড়া দিয়েও যাওয়া যায়।

২. রুমা রুট: বগা লেক – কেওক্রাডং – থাইক্যাং পাড়া – দুলাচরণ পাড়া – হান্জরাই পাড়া – নিফিউ পাড়া হয়ে সামিট। এই রুটেও বেশ কিছু অল্টারনেটিভ ট্রেইল রয়েছে যা অভিজ্ঞ গাইডদের সহায়তায় বেছে নেওয়া যায়।

থাকা ও খাওয়ার তথ্য

সাকা হাফং ট্রেইলে কোনো আধুনিক হোটেল বা রিসোর্টের সুযোগ নেই। থানচি বা রুমা বাজারে কিছু সাধারণ মানের গেস্টহাউস পেলেও মূল পাহাড়ি ট্রেইলে আপনাকে নির্ভর করতে হবে আদিবাসীদের পাড়ার ওপর। স্থানীয় মুরং বা বম পাড়ার কাঠের মাচাঘরে (টিনশেড বা বাঁশের ঘর) রাত্রিযাপনের ব্যবস্থা করতে হয়। এজন্য স্থানীয় গাইড আগে থেকেই পাড়ার লোকজনের সাথে কথা বলে রাখেন। খাবারের ক্ষেত্রে পাড়ার স্থানীয়দের রান্না করা ভাত, ডাল, আলু ভর্তা বা পাহাড়ি মোরগের মাংসের ওপর ভরসা করতে হবে। পাহাড়ে ওঠার সময় শুকনো খাবার, পর্যাপ্ত গ্লুকোজ, স্যালাইন এবং প্রয়োজনীয় বিশুদ্ধ পানির ব্যবস্থা নিজেদেরই ব্যাগে রাখতে হবে।

সাকা হাফং ভ্রমণের কিছু জরুরি টিপস

  • অভিজ্ঞ গাইড ও সেনাবাহিনীর অনুমতি ছাড়া একা সাকা হাফং ট্রেইলে যাওয়া সম্পূর্ণ নিষেধ এবং ঝুঁকিপূর্ণ।
  • ট্র্যাকিংয়ের জন্য ভালো মানের গ্রিপযুক্ত ট্র্যাকিং শু বা কেডস ব্যবহার করুন।
  • পাহাড়ে মশার উপদ্রব থেকে বাঁচতে ও ওয়ান্টমেন্ট বা ওডোমস সাথে রাখুন।
  • প্লাস্টিক বা অপচনশীল বর্জ্য পাহাড়ে ফেলে পরিবেশ নষ্ট করবেন না।

সচরাচর জিজ্ঞাসিত প্রশ্নাবলী (FAQ)

সাকা হাফংয়ের প্রকৃত উচ্চতা কত?

গুগল আর্থ ও জিপিএস রিডিং অনুযায়ী সাকা হাফংয়ের উচ্চতা প্রায় ১০৫০ মিটার বা ৩৪৪৫ ফুট।

সাকা হাফং যাওয়ার সেরা সময় কোনটি?

শীতকাল বা বর্ষার ঠিক পরপরই অর্থাৎ নভেম্বর থেকে ফেব্রুয়ারি মাস সাকা হাফং ট্র্যাকিংয়ের জন্য সেরা সময়।

সাকা হাফং যেতে কত দিন সময় লাগে?

বান্দরবান থেকে শুরু করে যাতায়াত ও সামিট মিলিয়ে সাধারণত ৫ থেকে ৭ দিনের একটি লম্বা ছুটির পরিকল্পনা করতে হয়।

0
0
অর্ডার লিস্ট
কার্টে কিছু নেইআবার অর্ডার করুন