• Home
  • Trip
  • শংকরপাশা শাহী মসজিদ: হবিগঞ্জের ৫০০ বছরের ঐতিহ্যবাহী লাল টিলা মসজিদের ইতিহাস ও ভ্রমণ গাইড

শংকরপাশা শাহী মসজিদ: হবিগঞ্জের ৫০০ বছরের ঐতিহ্যবাহী লাল টিলা মসজিদের ইতিহাস ও ভ্রমণ গাইড

হবিগঞ্জের আড়ালে থাকা ৫০০ বছরের প্রাচীন বিস্ময়

হবিগঞ্জ বললেই চোখ ভেসে ওঠে দুটি জিনিস—চা বাগানের সবুজ গালিচা আর সাতছড়ি জাতীয় উদ্যান। তবে এই প্রকৃতির কোলঘেঁষেই দাঁড়িয়ে আছে ইতিহাস ও সুলতানি স্থাপত্যের এক অনন্য নিদর্শন—শংকরপাশা শাহী মসজিদ। প্রায় সাড়ে ৫০০ বছরের প্রাচীন এই মসজিদটি স্থানীয়ভাবে ‘লাল টিলা মসজিদ’ বা ‘গাইবি মসজিদ’ নামেও বহুল পরিচিত। টিলার চূড়ায় অবস্থিত হওয়ায় বহুদূর থেকেই এই লাল ইটের চমৎকার স্থাপনাটি দর্শনার্থীদের নজর কাড়ে।

শংকরপাশা শাহী মসজিদের ইতিহাস ও স্থাপত্যশৈলী

উইকিপিডিয়া ও ঐতিহাসিক নথিপত্র অনুসারে, ১৫১৩ সালে সুলতান আলাউদ্দিন হোসেন শাহের আমলে তাঁর প্রশাসনিক কর্মকর্তা শাহ মজলিস আমিন (রহ.) এই ঐতিহাসিক মসজিদটির নির্মাণ সম্পন্ন করেন। একসময় এলাকাটি ঘন জঙ্গলে ঢেকে গেলেও পরবর্তীতে জনবসতি স্থাপনের সময় এই রত্নটি উন্মোচিত হয়।

  • পোড়ামাটির অলংকরণ: স্থাপত্যটির সবচেয়ে বড় বৈশিষ্ট্য হলো এর দেয়ালে কোনো বাহ্যিক প্রলেপ বা প্লাস্টার নেই। উন্নতমানের পোড়ামাটির ইট কেটে কেটে জ্যামিতিক ও লতাপাতার মনোরম নকশা ফুটিয়ে তোলা হয়েছে।
  • গঠন ও নকশা: প্রায় ২১ ফুট ৬ ইঞ্চি আয়তনের এই মসজিদে রয়েছে একটি বড় মূল গম্বুজ এবং বারান্দার ওপর তিনটি ছোট গম্বুজ। এজন্য এটিকে চারগম্বুজ মসজিদও বলা হয়ে থাকে।
  • দেয়ালের স্থায়ীত্ব: সুরক্ষার জন্য মসজিদের দেয়ালগুলো অত্যন্ত সুদৃঢ় করা হয়েছে। তিনদিকের দেয়াল প্রায় ৫ ফুট এবং পশ্চিম দিকের দেয়াল প্রায় ১০ ফুট পুরু।
  • দিঘি ও মাজার: মসজিদের দক্ষিণ পাশে রয়েছে একটি মনোরম বিশাল দিঘি, যা স্থানটির পরিবেশকে আরও প্রশান্তময় করে তোলে। পাশেই রয়েছে সুফি সাধক শাহ মজলিস আমিনের (রহ.) মাজার।

কীভাবে যাবেন এবং আনুমানিক খরচ

ঢাকার সায়দাবাদ, মহাখালী বা ফকিরাপুল থেকে সরাসরি হবিগঞ্জের বাস পাওয়া যায়। এ ছাড়া ট্রেনে যেতে চাইলে শায়েস্তাগঞ্জ জংশনে নামতে হবে।

  • বাসে ঢাকা থেকে হবিগঞ্জ: ভাড়া ৪০০ থেকে ৭০০ টাকার মধ্যে (নন-এসি/এসি)।
  • ট্রেনে আসা: ঢাকা থেকে কালনী, পারাবত বা জয়ন্তিকা এসি/নন-এসি ট্রেনে শায়েস্তাগঞ্জ স্টেশন (ভাড়া ১৭০-৪৫০ টাকা)।
  • মসজিদে পৌঁছানো: হবিগঞ্জ সদর অথবা শায়েস্তাগঞ্জ থেকে উচাইল-রাজিউড়া সংলগ্ন শংকরপাশা গ্রামে যাওয়ার জন্য সিএনজি বা অটো-রিকশা পাওয়া যায়। রিজার্ভ সিএনজি ভাড়া পড়বে ১৫০ থেকে ২৫০ টাকা।

থাকা ও খাওয়ার ব্যবস্থা

শংকরপাশা এলাকায় থাকার মতো কোনো হোটেল নেই, তাই আপনাকে হবিগঞ্জ শহরে ফিরতে হবে। হবিগঞ্জ শহরে বিভিন্ন মানের আবাসিক হোটেল রয়েছে (যেমন: হোটেল সোনারগাঁও, হোটেল আমীর, হোটেল আল-মুসলিম)। এক রাতের জন্য রুম ভাড়া ৩০০ থেকে ১৫০০ টাকার মধ্যে।

খাবারের জন্য হবিগঞ্জ শহরের ঐতিহ্যবাহী রেস্তোরাঁগুলোতে সিলেটের স্থানীয় খাবার উপভোগ করতে পারেন। শাহী মসজিদের পাশে ছোটখাটো চা-নাশতার দোকান পাবেন।

ভ্রমণে কিছু বিশেষ টিপস

  • এটি একটি সচল মসজিদ ও পবিত্র স্থান, তাই পোশাকের শালীনতা বজায় রাখুন।
  • মসজিদের পরিবেশ ও দিঘির পানি পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন রাখতে সাহায্য করুন।
  • ছবি তোলার ক্ষেত্রে স্থানীয় মুসল্লিদের যেন কোনো সমস্যা না হয় সেদিকে খেয়াল রাখুন।

সাধারণ জিজ্ঞাসিত প্রশ্নাবলী (FAQ)

প্রশ্ন ১: শংকরপাশা শাহী মসজিদকে ‘লাল টিলা মসজিদ’ বলা হয় কেন?

উত্তর: মসজিদটি উঁচুটিলার ওপর নির্মিত এবং এর বহির্ভাগ লাল পোড়ামাটির ইট দিয়ে কারুকার্য করা, তাই এটি ‘লাল টিলা মসজিদ’ নামে পরিচিত।

প্রশ্ন ২: এখানে পরিদর্শনের সেরা সময় কোনটি?

উত্তর: বছরের যেকোনো সময় যাওয়া যায়, তবে শীতকালে আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় ভ্রমণের সেরা সময়। বিকেলের রোদ যখন লাল ইটের ওপর পড়ে, তখন অসাধারণ দৃশ্যের সৃষ্টি হয়।

0
0
অর্ডার লিস্ট
কার্টে কিছু নেইআবার অর্ডার করুন