ভূমিকা: ভক্তপুরের অপরূপ রূপ
নেপাল বলতেই চোখের সামনে ভেসে ওঠে হিমালয়ের বরফাবৃত চূড়া আর প্রাচীন সংস্কৃতির নান্দনিক রূপ। কাঠমান্ডু উপত্যকার ঠিক ১৫ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত এমনই এক ঐতিহাসিক জনপদের নাম ভক্তপুর (Bhaktapur)। প্রাচীন এই শহরটিকে স্থানীয়রা ভালোবেসে ‘খৌপা’ বা ‘বুদগাঁও’ নামেও ডাকেন। একসময় এটি ছিল পুরো নেপালের রাজধানী এবং প্রাচীন রাজাদের রাজকীয় আবাসস্থল। মধ্যযুগের শিল্প, সাহিত্য, কাঠের সুনিপুণ কারুকাজ এবং ধাতব ভাস্কর্যের এক বিশাল মুক্তাঙ্গন যাদুঘর হলো এই ভক্তপুর। আপনি যদি ইতিহাস ও প্রাচীন সংস্কৃতির টানে ঘুরে বেড়াতে ভালোবাসেন, তবে ভক্তপুর ভ্রমণ আপনার জন্য হতে পারে একটি রোমাঞ্চকর অভিজ্ঞতা।
ভক্তপুরের দর্শনীয় স্থানসমূহ: যা না দেখলেই নয়
মধ্যযুগীয় স্থাপত্যকলায় ভরপুর ভক্তপুর শহরে রয়েছে অসংখ্য ঐতিহাসিক মন্দির, রাজপ্রাসাদ ও চত্বর। ঘুরে দেখার মতো প্রধান দর্শনীয় স্থানগুলো হলো:
- ভক্তপুর দরবার স্কয়ার: শহরের কেন্দ্রবিন্দু এবং প্রাচীন রাজাদের স্মৃতিবিজড়িত প্রধান ঐতিহাসিক চত্বর।
- পটার্স স্কয়ার: ঐতিহ্যবাহী মৃৎশিল্প ও কুমারদের প্রাচীন জীবনধারা কাছ থেকে দেখার দারুণ জায়গা।
- নয়া তাপোলা মন্দির ও ভৈরবনাথ মন্দির: এখানকার বিখ্যাত ধর্মীয় স্থাপত্য ও শৈল্পিক নিদর্শন।
- গোল্ডেন গেট ও রাজভবন: কারুকার্যখচিত সোনালী ফটক এবং রাজকীয় প্রাসাদের সৌন্দর্য আপনাকে মুগ্ধ করবে।
- ন্যাশনাল আর্ট গ্যালারি ও তাচুপাল জাদুঘর: প্রাচীন নেপালি শিল্পকর্ম ও ইতিহাসের চমৎকার সংগ্রহশালা।
- অন্যান্য উল্লেখযোগ্য স্থানের মধ্যে রয়েছে সিদ্ধি লক্ষ্মী মন্দির, দত্তনারায়ণ মন্দির, উগরাচান্দি এবং ভৈরব মূর্তি, এবং বিখ্যাত তেলেজু ঘণ্টা।
ঢাকা থেকে ভক্তপুর যাওয়ার উপায় ও খরচ
বাংলাদেশ থেকে ভক্তপুর যাওয়ার সবচেয়ে সহজ মাধ্যম হলো আকাশপথ।
- বিমান ভ্রমণ: প্রথমে ঢাকা থেকে বিমানে চেপে পৌঁছে যাবেন নেপালের রাজধানী কাঠমান্ডুর ত্রিভুবন আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে।
- স্থানীয় যাতায়াত: কাঠমান্ডু শহর থেকে খুব সহজেই মাইক্রোবাস বা ট্যাক্সি ভাড়া করে ভক্তপুর চলে যাওয়া যায়। কাঠমান্ডু থেকে ভক্তপুরের লোকাল মাইক্রোবাস ভাড়া সাধারণত ৫০০ থেকে ৭০০ নেপালি রুপির মধ্যে হয়ে থাকে।
ভক্তপুরে কোথায় থাকবেন: হোটেল ও রিসোর্ট গাইড
বেশিরভাগ পর্যটক সাধারণত কাঠমান্ডু থেকে ১ দিনের ডে-ট্রিপ হিসেবে ভক্তপুর ঘুরে আসেন। তবে আপনি চাইলে রাতেও এখানে থাকতে পারেন। এখানে সব ধরণের বাজেট অনুযায়ী থাকার ব্যবস্থা রয়েছে:
- বাজেট হোটেল: কম খরচে থাকার জন্য বেছে নিতে পারেন শিভা গেস্ট হাউজ (ভাড়া প্রায় ১২০০ টাকা), প্লানেট ভক্তপুর হোটেল (ভাড়া প্রায় ২৬০০ টাকা) কিংবা ভক্তপুর প্যারাডাইস হোটেল (ভাড়া প্রায় ২৭০০ টাকা)।
- লাক্সারি হোটেল: একটু আয়েসী ও প্রিমিয়াম অভিজ্ঞতার জন্য থাকতে পারেন বিলাসবহুল হোটেল হ্যারিটেজে, যেখানে খরচ পড়বে প্রায় ৭৪০০ টাকার মতো।
FAQ (সচরাচর জিজ্ঞাসিত প্রশ্নাবলী)
১. ভক্তপুর শহরটি কাঠমান্ডু থেকে কত দূরে?
কাঠমান্ডু থেকে ভক্তপুরের দূরত্ব প্রায় ১৫ কিলোমিটার। সড়কপথে যেতে সময় লাগে ৩০ থেকে ৪৫ মিনিটের মতো।
২. ভক্তপুর যাওয়ার সেরা সময় কোনটি?
সেপ্টেম্বর থেকে মে মাস পর্যন্ত আবহাওয়া অনুকূলে থাকে, তাই এই সময়টি ভক্তপুর ভ্রমণের জন্য সবচেয়ে সেরা।
৩. ভক্তপুরকে কী বলা হয়?
ভক্তপুরকে মধ্যযুগীয় শিল্প-সাহিত্য, কাঠের কারুকাজ এবং ধাতব মূর্তির যাদুঘর বলা হয়।


