• Home
  • Trip
  • পাগলা বড় জামে মসজিদ: সুনামগঞ্জের ঐতিহাসিক স্থাপত্যশৈলীর পূর্ণাঙ্গ ভ্রমণ গাইড

পাগলা বড় জামে মসজিদ: সুনামগঞ্জের ঐতিহাসিক স্থাপত্যশৈলীর পূর্ণাঙ্গ ভ্রমণ গাইড

পাগলা বড় জামে মসজিদ: এক নজরে ঐতিহ্য ও ইতিহাস

সুনামগঞ্জ জেলার শান্তিগঞ্জ (সাবেক দক্ষিণ সুনামগঞ্জ) উপজেলার পাগলা বাজারে মহাসিং নদীর তীরে অবস্থিত ‘পাগলা বড় জামে মসজিদ’। এটি স্থানীয়ভাবে ‘রায়পুর বড় জামে মসজিদ’ নামেও ব্যাপকভাবে পরিচিত। নান্দনিক নির্মাণশৈলী এবং রাজকীয় সৌন্দর্যের কারণে এই ঐতিহাসিক মসজিদটি সিলেট বিভাগের অন্যতম প্রধান পর্যটন আকর্ষণ হয়ে উঠেছে।

১৯৩১ সালে (১৩৩১ বঙ্গাব্দের ৫ই আশ্বিন) এলাকার দানবীর ও ধনাঢ্য ব্যবসায়ী ইয়াসীন মির্জা এই মসজিদটি নির্মাণের উদ্যোগ নেন। টানা ১০ বছর ধরে রাজকীয় এই মসজিদের নির্মাণকাজ চলে। তৎকালীন সময়ে এটি নির্মাণে খরচ হয়েছিল প্রায় ১০ লাখ টাকা, যা ছিল এক বিশাল অঙ্কের অর্থ।

স্থাপত্যশিল্পের এক অনন্য বিস্ময়

পাগলা বড় জামে মসজিদের সবচেয়ে বড় চমক হলো—এটি কোনো ধরনের লোহার রড ব্যবহার না করেই সম্পূর্ণ ইটের ওপর নির্মিত একটি দ্বি-তল ভবন। মসজিদটি শক্ত ভূমির ওপর বিশেষ পাত বসিয়ে এমনভাবে তৈরি করা হয়েছে, যাতে এটি ভূমিকম্প প্রতিরোধী হয়। যে কারণে বড় বড় ভূমিকম্পেও এর গ গায়ে কোনো ফাটল ধরেনি এবং আজ অব্দি বড় ধরনের কোনো সংস্কারের প্রয়োজন পড়েনি।

  • মিনার ও গম্বুজ: মসজিদটিতে রয়েছে ৩টি মূল বড় গম্বুজ, ৬টি সুউচ্চ মিনার এবং ছোট সাইজের আরও ১২টি সৌন্দর্যবর্ধক মিনার।
  • ছাদের গঠন: দোতলার ছাদে তৎকালীন সময়ে বিশেষ প্রযুক্তিতে রেললাইনের স্লিপার ব্যবহার করা হয়েছিল।
  • দেয়ালের পুরুত্ব: মসজিদটির দেয়ালগুলো প্রায় ১০ ফুট পুরু, যা গ্রীষ্মকালেও মসজিদের ভেতরের পরিবেশকে শীতল ও আরামদায়ক রাখে।

মসজিদের অভ্যন্তরীণ নান্দনিকতা

মসজিদের প্রধান প্রার্থনাকক্ষটি দোতলায় অবস্থিত। ভেতরের মিহরাব অংশে চমৎকার পাথর কেটে চোখধাঁধানো নকশা করা হয়েছে। মসজিদের চারপাশের তিন ফুট উচ্চতা পর্যন্ত জার্মানি, ইতালি এবং ইংল্যান্ড থেকে আনা উঁচুমানের রঙিন কারুকার্যখচিত টাইলস বসানো হয়েছে।

সবচেয়ে বিস্ময়কর বিষয় হলো—দোতলার মেঝেতে যে দুর্লভ শ্বেতপাথর ও কালো পাথর (Black Stone) ব্যবহৃত হয়েছে, তা ভারতের জয়পুর থেকে আনা হয়েছিল। প্রচলিত আছে, এই জাতীয় দুর্লভ শ্বেতপাথর বিশ্ববিখ্যাত তাজমহল তৈরিতে ব্যবহৃত হয়েছিল। প্রধান স্থপতি ‘মুমিন আস্তাগার’ নিজেই তাজমহল নির্মাতাদের বংশধর ছিলেন বলে জানা যায়।

কীভাবে যাবেন পাগলা বড় জামে মসজিদে?

ঢাকা বা দেশের যেকোনো প্রান্ত থেকে প্রথমে সিলেট বা সুনামগঞ্জ জেলায় পৌঁছাতে হবে।

  • সুনামগঞ্জ সদর থেকে: সুনামগঞ্জ শহরের পুরাতন বাসস্ট্যান্ড থেকে সিএনজি, অটোরিকশা বা স্থানীয় বাসে উঠে সিলেট-সুনামগঞ্জ মহাসড়ক দিয়ে সরাসরি পাগলা বাজারে নামা যায়। দূরত্ব মাত্র ১৬-১৮ কিলোমিটার।
  • সিলেট থেকে: সিলেটের কদমতলী বাস টার্মিনাল থেকে সুনামগঞ্জগামী যেকোনো বাসে উঠে পাগলা বাজারে নেমে যাওয়া যায়। মহাসড়কের পাশেই নদী ঘেঁষে মসজিদটি অবস্থিত।

কোথায় থাকবেন ও খাবেন

মসজিদের আশপাশে সাধারণ খাবার হোটেল থাকলেও রাতে থাকার মতো ভালো ব্যবস্থা সুনামগঞ্জ শহরে বা সিলেট শহরে পাওয়া যাবে। সুনামগঞ্জ শহরে বেশ কিছু বাজেট ফ্রেন্ডলি হোটেল রয়েছে:

  • হোটেল নূর (পূর্ববাজার স্টেশন রোড, সুনামগঞ্জ)
  • হোটেল সারপিনিয়া (জগন্নাথবাড়ী রোড, সুনামগঞ্জ)
  • হোটেল নূরানী (পুরাতন বাস স্ট্যান্ড, সুনামগঞ্জ)

সাধারণ জিজ্ঞাসা (FAQ)

১. পাগলা বড় জামে মসজিদ কোথায় অবস্থিত?

এটি সুনামগঞ্জ জেলার শান্তিগঞ্জ উপজেলার পাগলা বাজারের কাছে সিলেট-সুনামগঞ্জ মহাসড়কের পাশে মহাসিং নদীর তীরে অবস্থিত।

২. এই মসজিদটির বিকল্প নাম কী?

মসজিদটি ‘রায়পুর বড় জামে মসজিদ’ নামেও পরিচিত।

৩. মসজিদটি তৈরিতে কি রড ব্যবহার করা হয়েছিল?

না, ১৯৩১ সালে নির্মিত এই দোতলা মসজিদটিতে কোনো রড ব্যবহার করা হয়নি। এটি কেবল ইট, চুন-সুরকি ও বিশেষ প্রথাবদ্ধ প্রযুক্তিতে নির্মিত।

0
0
অর্ডার লিস্ট
কার্টে কিছু নেইআবার অর্ডার করুন