• Home
  • Trip
  • হযরত শাহজালাল (রঃ) মাজার ভ্রমণ গাইড: ইতিহাস, দর্শনীয় স্থান ও যাতায়াত

হযরত শাহজালাল (রঃ) মাজার ভ্রমণ গাইড: ইতিহাস, দর্শনীয় স্থান ও যাতায়াত

হযরত শাহজালাল (রঃ) মাজার শরীফ: আধ্যাত্মিক ও ঐতিহাসিক পূর্ণভূমি

বাংলাদেশের আধ্যাত্মিক রাজধানী হিসেবে পরিচিত সিলেট। আর এই পুণ্যভূমির সাথে ওতপ্রোতভাবে জড়িয়ে আছে হযরত শাহজালাল (রঃ)-এর নাম। ওলিকুল শিরোমণি এই মহান সাধক ৩৬০ জন আউলিয়া নিয়ে সিলেট অঞ্চলে ইসলাম প্রচার ও ইসলামের আলো ছড়িয়ে দিতে এসেছিলেন। তৎকালীন রাজা গৌর গোবিন্দের অন্যায় ও অত্যাচারের শিকার শেখ বুরহান উদ্দিনকে সহায়তা করতে এবং নির্যাতিত মানুষের পাশে দাঁড়াতে তাদের এই ঐতিহাসিক আগমন ঘটেছিল। আজও প্রতিদিন দেশ-বিদেশের হাজারো ভক্ত-পাচক ও পর্যটক এই মহামানবের মাজার জিয়ারত করতে ছুটে আসেন। তবে মনে রাখবেন, দরগা শরীফ অত্যন্ত পবিত্র একটি স্থান হওয়ায় পর্যটন স্পটের মতো এখানে বিনোদনের সুযোগ নেই। দর্শনার্থীদের শালীন পোশাক পরে দরগায় প্রবেশ করতে হয়।

মাজার চত্বরের আকর্ষণীয় দর্শনীয় দিকসমূহ

হযরত শাহজালাল (রঃ)-এর মাজার প্রাঙ্গণে রয়েছে বেশ কিছু ঐতিহাসিক ও দর্শনীয় নিদর্শন যা যেকোনো ভ্রমণপিপাসুর মন কেড়ে নেবে। নিচে প্রধান আকর্ষণগুলো তুলে ধরা হলো:

১. পবিত্র গজার মাছের পুকুর

মাজার চত্বরের উত্তর দিকে অবস্থিত পুকুরটিতে রয়েছে শত শত বিখ্যাত গজার মাছ। ভক্তরা এই মাছগুলোকে পবিত্র মনে করে ছোট ছোট মাছ খাবার হিসেবে দেয়। পুকুরের পশ্চিম পাশেই মাছ কেনার ব্যবস্থা রয়েছে। ২০০৩ সালে এক অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনায় পুকুরের অনেক মাছ মারা গেলেও, পরবর্তীতে ২০০৪ সালে মৌলভীবাজারের শাহ মোস্তফা (রঃ)-এর মাজার থেকে নতুন মাছ এনে বংশবৃদ্ধি করা হয়। বর্তমানে পুকুরে প্রচুর গজার মাছ দেখতে পাওয়া যায়।

২. ঐতিহাসিক জালালী কবুতর

দিল্লির প্রখ্যাত সাধক হযরত নিজামুদ্দিন আউলিয়া (রঃ) হযরত শাহজালালকে ভালোবেসে একজোড়া সুরমা রঙের কবুতর উপহার দিয়েছিলেন। এই কবুতরগুলোই পরবর্তীতে ‘জালালী কবুতর’ নামে পরিচিতি লাভ করে। পুরো মাজার চত্বরজুড়ে দলবেধে উড়ে বেড়ানো এই কবুতরগুলোকে স্থানীয় কেউ হত্যা করে না বা খায় না। মাজার কর্তৃপক্ষ নিয়মিত এদের খাবারের ব্যবস্থা করে থাকে।

৩. ঐতিহাসিক চিল্লাখানা

মাজারের দক্ষিণ দিকে গ্রিল দিয়ে ঘেরা তারকা খচিত অত্যন্ত ক্ষুদ্র একটি ঘর রয়েছে, যা হযরত শাহজালালের চিল্লাখানা নামে পরিচিত। মাত্র দুই ফুট চওড়া এই চিল্লাখানায় তিনি দীর্ঘ ২৩ বছর ধরে ইবাদত-বন্দেগি ও সাধনা করেছিলেন বলে জনশ্রুতি রয়েছে।

৪. ব্যবহৃত ঐতিহাসিক দ্রব্যাদি

হযরত শাহজালাল (রঃ) কেবল একজন পীরই ছিলেন না, তিনি ছিলেন একাধারে এক বীর মুজাহিদ। তাঁর ব্যবহৃত বিভিন্ন নিদর্শন আজও সযত্নে সংরক্ষিত আছে। এর মধ্যে তাঁর ব্যবহৃত তলোয়ার ও খড়ম সংরক্ষিত আছে মুফতি নাজিমুদ্দিন আহমদের বাড়িতে এবং প্লেট ও বাটি সংরক্ষিত রয়েছে মোতওয়াল্লির বাড়িতে। এগুলো দেখার জন্য প্রতিদিন দর্শনার্থীদের উপচে পড়া ভিড় লক্ষ্য করা যায়।

ঢাকা থেকে সিলেটে যাওয়ার উপায় ও খরচ

বাংলাদেশের যেকোনো প্রান্ত থেকেই খুব সহজে সিলেটে যাওয়া যায়। ঢাকা থেকে যোগাযোগের তিনটি মাধ্যম রয়েছে:

  • বাসে যাতায়াত: ঢাকার গাবতলী, সায়েদাবাদ ও মহাখালী বাস টার্মিনাল থেকে প্রতিদিন সকাল থেকে রাত ১২:৪৫ পর্যন্ত সিলেটের উদ্দেশ্যে এসি ও নন-এসি বাস ছেড়ে যায়। বাস ভেদে ভাড়া সাধারণত ৬০০ থেকে ১৫০০ টাকা পর্যন্ত হতে পারে।
  • ট্রেনে যাতায়াত: কমলাপুর রেলওয়ে স্টেশন থেকে পারাবত, জয়ন্তীকা, উপবন বা কালনী এক্সপ্রেস ট্রেনে সরাসরি সিলেট যাওয়া যায়। সিট ভেদে ট্রেনের ভাড়া ৪৫০ থেকে ১৫০০ টাকার মতো।
  • বিমানে যাতায়াত: সময় বাঁচাতে ঢাকা থেকে বিমানযোগে সরাসরি সিলেট ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছাতে পারেন।

স্টেশন বা বাস টার্মিনাল থেকে রিকশা বা সিএনজিযোগে সরাসরি দরগা বাজার বা হযরত শাহজালাল (রঃ) মাজারে পৌঁছানো সম্ভব।

সিলেটে থাকা ও খাওয়ার ব্যবস্থা

মাজার এলাকার আশপাশে এবং জিন্দাবাজার, আম্বরখানা এলাকায় অনেক মানসম্মত আবাসিক হোটেল রয়েছে। কম খরচে সিঙ্গেল রুম থেকে শুরু করে লাক্সারি হোটেলও পেয়ে যাবেন। মাজার জিয়ারত শেষে সিলেটের ঐতিহ্যবাহী ‘পাঁচ ভাই’ বা ‘পানসী’ রেস্তোরাঁয় গিয়ে বিখ্যাত সাতকরা দিয়ে গরুর মাংস বা হাঁসের মাংস এবং ঐতিহ্যবাহী চা খেয়ে দেখতে পারেন, যা আপনার ভ্রমণকে পরিপূর্ণ করবে।

সচরাচর জিজ্ঞাসিত প্রশ্নাবলী (FAQ)

১. মাজার শরীফে প্রবেশের জন্য কি কোনো নির্দিষ্ট পোশাকবিধি আছে?

হ্যাঁ, এটি একটি পবিত্র ধর্মীয় স্থান। তাই নারী ও পুরুষ উভয়কেই শালীন পোশাক পরে দরগায় প্রবেশ করতে হবে। পোশাক শালীন না হলে অনেক সময় দর্শনার্থীদের ভেতরে প্রবেশ করতে দেওয়া হয় না।

২. গজার মাছের পুকুরে কি মাছ খাওয়ানো যায়?

অবশ্যই। পুকুরের পশ্চিম কোণেই মাছের খাবার বিক্রির ব্যবস্থা রয়েছে। আপনি সেখান থেকে খাবার কিনে গজার মাছগুলোকে খাওয়াতে পারবেন।

৩. মাজারের কাছে থাকার ভালো হোটেল কোথায় পাবো?

মাজার সংলগ্ন দরগা গেট এলাকা এবং একটু দূরে জিন্দাবাজার এলাকায় বাজেট ও লাক্সারি দুই ধরনের বহু হোটেল রয়েছে।

0
0
অর্ডার লিস্ট
কার্টে কিছু নেইআবার অর্ডার করুন