• Home
  • Trip
  • মহেশখালী দ্বীপ ভ্রমণ গাইড: ইতিহাস, দর্শনীয় স্থান ও যাতায়াত খরচ

মহেশখালী দ্বীপ ভ্রমণ গাইড: ইতিহাস, দর্শনীয় স্থান ও যাতায়াত খরচ

মহেশখালী দ্বীপ পরিচিতি ও ইতিহাস

বাংলাদেশের একমাত্র পাহাড়ি দ্বীপ মহেশখালী পর্যটকদের কাছে এক অপার বিস্ময়ের নাম। কক্সবাজার শহর থেকে মাত্র ১২ কিলোমিটার পশ্চিমে সমুদ্রের বুকে মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়ে থাকা এই দ্বীপটির আয়তন প্রায় ৩৬২ বর্গকিলোমিটার। সোনালিয়া, মাতারবাড়ি ও ধলঘাটা—এই তিনটি দ্বীপ নিয়ে মহেশখালী উপজেলা গঠিত। এখানকার প্রাকৃতিক সৌন্দর্য, সুউচ্চ পাহাড়, ম্যানগ্রোভ বন এবং বিখ্যাত মিষ্টি পানের স্বাদ পর্যটকদের বারবার এখানে টেনে আনে। ইতিহাস ঘেঁটে জানা যায়, প্রায় ২০০ বছর আগে বৌদ্ধ সেন মহেশ্বরের নামানুসারে অথবা হিন্দু ধর্মানুসারীদের দেবাদিদেব মহাদেবের নামানুসারে এই দ্বীপের নাম ‘মহেশখালী’ রাখা হয়েছে। পান, শুটকি, লবণ ও মুক্তার জন্যও এই অঞ্চল দেশজুড়ে বেশ পরিচিত।

মহেশখালী দ্বীপের আকর্ষণীয় দর্শনীয় স্থানসমূহ

ঘুরে দেখার মতো বেশ কিছু চমৎকার ঐতিহাসিক ও প্রাকৃতিক স্থান রয়েছে মহেশখালীতে। ভ্রমণপিপাসুরা এক দিনেই ঘুরে দেখতে পারেন এখানকার প্রধান আকর্ষণগুলো:

  • শ্রী শ্রী আদিনাথ মন্দির ও মৈনাক পর্বত: মৈনাক পাহাড়ের চূড়ায় অবস্থিত ৫০০-৬০০ বছরের পুরনো এই মন্দিরটি হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের কাছে অত্যন্ত পবিত্র। প্রতি বছর ফাল্গুন মাসে এখানে বিখ্যাত আদিনাথ মেলা বসে।
  • বড় বৌদ্ধ কেয়াং: মহেশখালীর অন্যতম প্রাচীন বৌদ্ধ বিহার। এখানে রয়েছে ধ্যানমগ্ন, শায়িত ও দণ্ডায়মান পিতলের বেশ কিছু আকর্ষণীয় বুদ্ধ মূর্তি।
  • সোনাদিয়া দ্বীপ: সমুদ্র সৈকত, লাল কাঁকড়া আর পরিযায়ী পাখির কলকাকলিতে মুখরিত এক শান্ত ও সুন্দর দ্বীপ।
  • রাখাইন পাড়া ও স্বর্ণ মন্দির: স্থানীয় রাখাইন সম্প্রদায়ের সংস্কৃতি এবং অনন্য স্থাপত্যের স্বর্ণ মন্দির ভ্রমণ অভিজ্ঞতাকে আরও সমৃদ্ধ করবে।
  • ম্যানগ্রোভ বন ও লবণের মাঠ: দ্বীপের চারপাশের কেওড়া ও গোলপাতার বন এবং দিগন্তজোড়া লবণের মাঠ পর্যটকদের নজর কাড়ে।

কীভাবে যাবেন এবং যাতায়াত খরচ

মহেশখালী ভ্রমণ করতে হলে প্রথমে আপনাকে কক্সবাজার পৌঁছাতে হবে। ঢাকা বা দেশের যেকোনো প্রান্ত থেকে বাস বা বিমানে সরাসরি কক্সবাজার যাওয়া যায়।

  • ঢাকা থেকে কক্সবাজার: এসি বাসের ভাড়া ১৬০০ থেকে ২০০০ টাকা এবং নন-এসি বাসের ভাড়া ১০০০ থেকে ১২০০ টাকার মধ্যে। এছাড়া বিমানেও সরাসরি কক্সবাজার যাওয়া সম্ভব।
  • কক্সবাজার থেকে মহেশখালী: কক্সবাজারের কলাতলী বা সুগন্ধা পয়েন্ট থেকে অটোরিক্সায় ৬ নম্বর জেটি ঘাটে যেতে হবে। সেখান থেকে স্পিডবোটে নদী পার হয়ে মহেশখালীর ১ নম্বর জেটি ঘাটে পৌঁছানো যায়। স্পিডবোট ভাড়া প্রতি ব্যক্তি প্রায় ৭৫ টাকা। এছাড়া ট্রলার বা ইঞ্জিনচালিত নৌকাতেও পার হতে পারেন।

মহেশখালীতে থাকা ও খাওয়ার সুব্যবস্থা

মহেশখালীতে রাত্রিযাপনের জন্য খুব উন্নত মানের বিলাসবহুল হোটেল বা রিসোর্ট নেই। তাই সাধারণ মানের কিছু আবাসিক হোটেল বা গেস্টহাউসে থাকতে পারেন। তবে সবচেয়ে ভালো হয় সকালে কক্সবাজার থেকে রওনা হয়ে দিনব্যাপী মহেশখালী ঘুরে সন্ধ্যায় আবার কক্সবাজারে ফিরে আসা। খাওয়ার ক্ষেত্রে এখানকার ঐতিহ্যবাহী মিষ্টি পান তো খেতেই হবে, পাশাপাশি স্থানীয় সামুদ্রিক মাছ ও খাঁটি শুটকির স্বাদ নিতে একদম ভুলবেন না।

সচরাচর জিজ্ঞাসিত প্রশ্নাবলী (FAQ)

মহেশখালী কেন বিখ্যাত?

মহেশখালী মূলত এর মিষ্টি পান, আদিনাথ মন্দির, পাহাড়ি প্রকৃতি এবং বাংলাদেশের একমাত্র পাহাড়ি দ্বীপ হিসেবে দেশজুড়ে বিখ্যাত।

মহেশখালী যাওয়ার সেরা সময় কোনটি?

শীতকাল বা অক্টোবর থেকে মার্চ মাস মহেশখালী ভ্রমণের জন্য সবচেয়ে উপযুক্ত সময়। বিশেষ করে ফাল্গুন মাসের আদিনাথ মেলার সময় এখানে পর্যটকদের উপচে পড়া ভিড় থাকে।

কক্সবাজার থেকে মহেশখালী যেতে কত সময় লাগে?

কক্সবাজারের ৬ নম্বর জেটি ঘাট থেকে স্পিডবোটে করে মহেশখালী পৌঁছাতে মাত্র ১৫ থেকে ২০ মিনিট সময় লাগে।

0
0
অর্ডার লিস্ট
কার্টে কিছু নেইআবার অর্ডার করুন