ছেড়া দ্বীপ পরিচিতি
বাংলাদেশের মানচিত্রে সর্বদক্ষিণের বিন্দু হলো জাদুকরী সৌন্দর্যমণ্ডিত ছেড়া দ্বীপ। মূল সেন্টমার্টিন দ্বীপ থেকে প্রায় ৫ কিলোমিটার দক্ষিণে অবস্থিত এই ক্ষুদ্র দ্বীপটির আয়তন মাত্র তিন বর্গকিলোমিটার। ২০০০ সালের শুরুর দিকে এর পরিচিতি বাড়লেও বর্তমান সময়ে এটি ভ্রমণপিপাসুদের কাছে এক অবিসংবাদিত স্বর্গরাজ্য। এখানকার স্ফটিকস্বচ্ছ নীল জলরাশি, প্রবাল পাথরের কারুকাজ আর সাগরের ঢেউয়ের মিতালি যেকোনো পর্যটককে মুগ্ধ করতে বাধ্য। জোয়ার-ভাটার খেলায় চারপাশ বদলে যাওয়া এই দ্বীপে প্রকৃতির আসল রূপ খুঁজে পাওয়া যায়। বিশেষ করে পূর্ণিমার রাতে চাঁদের আলোয় প্রবাল পাথরের ওপর জোছনা স্নানের অনুভূতি সম্পূর্ণ আলাদা।
ছেড়া দ্বীপ যাওয়ার উপায় ও খরচ
ছেড়া দ্বীপে পৌঁছানোর যাত্রাটি বেশ রোমাঞ্চকর। প্রথমে আপনাকে দেশের যেকোনো প্রান্ত থেকে টেকনাফ পৌঁছাতে হবে। ঢাকা থেকে শ্যামলী, গ্রিন লাইন, এস আলম বা ইগল পরিবহনে (ভাড়া ১০০০-১৮০০ টাকা) সরাসরি টেকনাফ যাওয়া যায়। এরপর টেকনাফ জাহাজ ঘাট থেকে সেন্টমার্টিনের উদ্দেশ্যে ছেড়ে যাওয়া সী-ট্রাক, কেয়ারি সিন্দবাদ বা ওয়াটার বাসে (যাতায়াত খরচ ৪৫০-৫৫০ টাকা) চড়তে হবে। নভেম্বর থেকে মার্চ মাস পর্যন্ত এই জলযানগুলো চলাচল করে। সেন্টমার্টিন পৌঁছানোর পর সেখান থেকে ইঞ্জিন চালিত ট্রলার বা স্পিডবোটে চড়ে ছেড়া দ্বীপে যাওয়া যায়। সেন্টমার্টিন জেটি ঘাট থেকে ট্রলার ভাড়া বা প্রতি ব্যক্তি ১০০-১৫০ টাকা ভাড়ায় খুব সহজেই ছেড়া দ্বীপ ঘুরে আসা সম্ভব। বর্ষাকালে আবহাওয়া প্রতিকূল থাকায় সাধারণ পর্যটকদের জন্য এই পথ এড়িয়ে চলাই শ্রেয়।
ছেড়া দ্বীপের দর্শনীয় দিক ও আকর্ষণ
- প্রবাল পাথরের মেলা: দ্বীপটির পুরো সৈকত জুড়ে ছড়িয়ে আছে নানা আকৃতির মৃত প্রবাল ও পাথরের টুকরো।
- নারিকেল গাছের সারি: দ্বীপের বুক চিরে দাঁড়িয়ে থাকা প্রাকৃতিকভাবে জন্ম নেওয়া নারিকেল গাছের সারি চোখের শান্তি আনে।
- পূর্ণিমার রাত ও ক্যাম্পিং: জোছনা রাতে এখানকার পরিবেশ রূপকথার মতো মনে হয়। অনেকেই এখানে রাতে তাঁবুতে বা ক্যাম্পিং করে সময় কাটান।
- বিস্ময়কর জলরাশি: তিন দিক থেকেই সাগরের নীল জলরাশি দ্বীপটিকে ঘিরে রেখেছে, যা স্নান বা ছবি তোলার জন্য আদর্শ।
থাকা ও খাওয়ার ব্যবস্থা
ছেড়া দ্বীপে জোয়ারের পানি উঠে যাওয়ায় সেখানে রাত কাটানোর জন্য কোনো পাকা হোটেল বা রিসোর্ট নেই। তাই পর্যটকদের সেন্টমার্টিনেই ফিরে আসতে হয়। সেন্টমার্টিনে বাজেট থেকে প্রিমিয়াম ক্যাটাগরির নানা হোটেল ও রিসোর্ট রয়েছে। উল্লেখযোগ্য কিছু রিসোর্ট ও যোগাযোগের নম্বর নিচে দেওয়া হলো:
- অবকাশ পর্যটন লিমিটেড: পশ্চিম বিচ (ভাড়া ১৫০০-৩০০০ টাকা), যোগাযোগ: ০১৭১৬৭৮৯৬৩৪
- ব্যাগস বারী রিসোর্ট: পশ্চিম পাড়া (ভাড়া ১০০০-২০০০ টাকা), যোগাযোগ: ০১৭৮৭০২২২০
- কিংসুক ইকো রিসোর্ট: গলাচিপা (ভাড়া ১৫০০-৩০০০ টাকা), যোগাযোগ: ০১৭৫৩২২২২৮৬
খাওয়ার জন্য সেন্টমার্টিনের স্থানীয় রেস্তোরাঁগুলোতে সামুদ্রিক তাজা মাছ (রূপচাঁদা, কোরাল, লইট্টা) ও ডাবের পানির দারুণ ব্যবস্থা রয়েছে।
প্রায়শই জিজ্ঞাসিত প্রশ্নাবলী (FAQ)
ছেড়া দ্বীপে কি রাত কাটানো যায়?
না, ছেড়া দ্বীপে জোয়ারের কারণে থাকার কোনো স্থায়ী ব্যবস্থা নেই। সন্ধ্যার আগেই সেন্টমার্টিনে ফিরে আসতে হয়, তবে অনেকে অনুমতি সাপেক্ষে জোছনা রাতে ক্যাম্পিং করেন।
ছেড়া দ্বীপ যাওয়ার উপযুক্ত সময় কোনটি?
নভেম্বর থেকে মার্চ মাস পর্যন্ত সমুদ্র শান্ত থাকায় ছেড়া দ্বীপ ভ্রমণের জন্য এটিই সবচেয়ে উপযুক্ত সময়।
সেন্টমার্টিন থেকে ছেড়া দ্বীপের দূরত্ব কত?
সেন্টমার্টিন দ্বীপের জেটি ঘাট থেকে স্পিডবোট বা ট্রলারে করে ছেড়া দ্বীপ যেতে প্রায় ২০ থেকে ৩০ মিনিট সময় লাগে। দূরত্ব খুব বেশি না হলেও সাগরের ঢেউয়ের ওপর নির্ভর করে সময় কম-বেশি হতে পারে।


