• Home
  • Trip
  • নাথাং ভ্যালি ভ্রমণ গাইড: ১৩,৫০০ ফিটে সিকিমের স্বর্গরাজ্য

নাথাং ভ্যালি ভ্রমণ গাইড: ১৩,৫০০ ফিটে সিকিমের স্বর্গরাজ্য

পরিচিতি

স্বর্গ যদি পৃথিবীর কোথাও থেকে থাকে, তবে তার একটি রূপ হয়তো দেখা মিলবে পূর্ব সিকিমের মেঘ-পাহাড়ে ঘেরা ছোট্ট গ্রাম নাথাং ভ্যালিতে। সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে প্রায় ১৩,৫০০ ফুট উচ্চতায় অবস্থিত এই উপত্যকাটি পর্যটকদের কাছে ক্রমেই জনপ্রিয় হয়ে উঠছে। জলপাইগুড়ি বা এনজেপি থেকে পাহাড়ি আঁকাবাঁকা পথ পেরিয়ে এর দূরত্ব প্রায় ১৭৫ কিলোমিটার। সিল্ক রুটের অন্যতম আকর্ষণ এই নাথাং ভ্যালি সম্পর্কে একটি জনপ্রিয় প্রবাদ রয়েছে— ‘If you do not like Nathang Valley, you would not like paradise।’ গাছের দেখা মিলবে না এমন এই আদিগন্ত বরফাবৃত উপত্যকায় পৌঁছালে শহুরে কোলাহল ছেড়ে এক অদ্ভুত মানসিক শান্তি মিলবে। তিব্বত থেকে ইয়াক পালকদের আনাগোনা এবং এখানকার পাহাড়ি ঝরনাগুলো এই স্থানটিকে রূপকথার মতো সুন্দর করে তুলেছে। ছাঙ্গু বা ইয়ুমথাংয়ের মতো অতিরিক্ত ভিড়ভাট্টা না থাকায় যারা শান্তিতে প্রকৃতি উপভোগ করতে চান, তাদের জন্য নাথাং এক আদর্শ ঠিকানা।

দর্শনীয় দিক

নাথাং ভ্যালিতে ঘুরে দেখার মতো অনেক আকর্ষণীয় জায়গা রয়েছে। এখানকার মূল জনবসতিতে রয়েছে একটি পুরোনো বৌদ্ধ মনাস্ট্রি এবং একটি ছোট হিন্দু মন্দির, যেখানে পতপত করে ওড়ে রঙিন প্রার্থনা পতাকা। নাথাং থেকে মাত্র পাঁচ মাইল উত্তরে রয়েছে বিখ্যাত ঈগল নেস্ট বাঙ্কার। এখান থেকে কাঞ্চনজঙ্ঘার ৩৬০ ডিগ্রি প্যানোরামিক ভিউ পাওয়া যায়। আবহাওয়া পরিষ্কার থাকলে এখান থেকে পশ্চিম ভুটান, তিব্বত সীমান্ত এমনকি ব্রহ্মপুত্র নদের দিগন্তরেখাও চোখে পড়ে। এছাড়া একটু দূরেই রয়েছে লুংথাং গ্রাম, যেখানকার আবহাওয়া যেন মেঘের লুকোচুরি খেলা। মেঘ এসে যখন গাড়ির উইন্ডস্ক্রিন ঢেকে দেয়, সে এক রোমাঞ্চকর অনুভূতি। নাথাংয়ের আশেপাশেই রয়েছে ওল্ড বাবা মন্দির, মেমেনচো লেক, হাতি লেক বা এলিফেন্ট লেক এবং জোড়পোখরি। ১৪,৪০০ ফুট উঁচুতে নাথুলা পাস এবং ইন্দো-চীন সীমান্তও ঘুরে দেখে নেওয়া সম্ভব এই সফরকালেই।

যাওয়ার উপায় ও খরচ

নাথাং ভ্যালি যাওয়ার জন্য প্রথমে আপনাকে পশ্চিমবঙ্গের নিউ জলপাইগুড়ি (NJP) রেল স্টেশন বা বাগডোগরা বিমানবন্দরে পৌঁছাতে হবে। এছাড়া সরাসরি সিকিমের পাকিয়ং বিমানবন্দরেও নেমে পড়তে পারেন। এনজেপি বা শিলিগুড়ি থেকে রেন্টাল কার বা শেয়ার জিপ বুক করে সিল্ক রুট হয়ে নাথাং পৌঁছানো যায়। গ্যাংটক থেকে নাথাংয়ের দূরত্ব মাত্র ৬০ কিলোমিটার। জুলুক হয়ে লুংফুং ও লক্ষীচক পার হয়ে এই উপত্যকায় পৌঁছাতে হয়। গাড়ি ভাড়া করার ক্ষেত্রে পুরো সিল্ক রুটের প্যাকেজ করে নেওয়া বুদ্ধিমানের কাজ হবে, যার খরচ লোকসংখ্যা ও মৌসুমের ওপর ভিত্তি করে সাধারণত ৫,০০০ থেকে ১০,০০০ টাকার মধ্যে হতে পারে। তবে পাহাড়ি রাস্তায় ভ্রমণের জন্য অবশ্যই প্রয়োজনীয় পারমিট বা অনুমতিপত্র আগে থেকেই সংগ্রহ করে নিতে হবে।

থাকা-খাওয়ার তথ্য

নাথাং ভ্যালিতে বড় কোনো ফাইভ স্টার হোটেল বা বিলাসবহুল রিসোর্ট পাওয়ার সুযোগ নেই। এখানে রাত কাটানোর জন্য মূলত স্থানীয় মানুষের তৈরি হোমস্টে এবং সরকারি বা বেসরকারি ডাফটার বাংলোর ওপর ভরসা করতে হবে। পিনাশা হোমস্টে কিংবা ডাফটার বাংলোতে থাকা ও খাওয়ার চমৎকার ব্যবস্থা রয়েছে। এই গণ্ডগ্রামে লাক্সারি রেস্তোরাঁ না থাকলেও হোমস্টের মালকিনদের হাতের জাদুতে আপনি পেয়ে যাবেন ধোঁয়া ওঠা গরম ভাত, পাহাড়ি স্টাইলে তৈরি ডিমের ঝোল, লোকাল চিকেন কারি, তাওয়া রুটি, মোমো কিংবা গরম চা ও ম্যাগি। বরফে ঢাকা এই উপত্যকায় হোমস্টের কাঠের আগুনে বসে গরম খাবার খাওয়ার অভিজ্ঞতা আজীবন মনে রাখার মতো। অন্তত দুটি রাত নাথাংয়ে কাটিয়ে এই অঞ্চলের সৌন্দর্য সম্পূর্ণভাবে উপভোগ করা উচিত।

সচরাচর জিজ্ঞাসিত প্রশ্নাবলী (FAQ)

নাথাং ভ্যালি ভ্রমণের সেরা সময় কোনটি?

অক্টোবর থেকে মার্চ মাস পর্যন্ত নাথাংয়ে বরফ পড়ার সেরা সময়। যারা বরফ দেখতে ভালোবাসেন তারা এই সময়ে যেতে পারেন। আর সবুজ প্রকৃতি ও পরিষ্কার আকাশের জন্য মে থেকে সেপ্টেম্বর মাস উপযুক্ত।

নাথাং ভ্যালিতে কি এএমএস (AMS) বা উচ্চতাজনিত সমস্যা হতে পারে?

হ্যাঁ, নাথাং ১৩,৫০০ ফুট উঁচুতে অবস্থিত হওয়ায় অনেকেরই হালকা মাথা ব্যথা বা শ্বাসকষ্টের মতো উচ্চতাজনিত সমস্যা হতে পারে। তাই পর্যাপ্ত জল খাওয়া, ভারী পরিশ্রম না করা এবং প্রয়োজনীয় ওষুধ ও অক্সিজেন সিলক্যাট সঙ্গে রাখা জরুরি।

নাথাং যাওয়ার জন্য কি কোনো বিশেষ পারমিটের প্রয়োজন হয়?

অবশ্যই। পূর্ব সিকিমের সিল্ক রুট বা নাথাং ভ্যালিতে প্রবেশ করতে হলে ইনার লাইন পারমিট (ILP) নিতে হয়, যা গ্যাংটক বা স্থানীয় রেজিস্টার্ড ট্যুর অপারেটরদের মাধ্যমে সংগ্রহ করা যায়।

0
0
অর্ডার লিস্ট
কার্টে কিছু নেইআবার অর্ডার করুন