সেন্টমার্টিন দ্বীপ পরিচিতি: বঙ্গোপসাগরের নীল জলরাশির প্রবাল স্বর্গ
বাংলাদেশের সর্ব দক্ষিণে বঙ্গোপসাগরের বুকে মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়ে থাকা একমাত্র প্রবাল দ্বীপ সেন্টমার্টিন। কক্সবাজার জেলার টেকনাফ থেকে প্রায় ৯ কিলোমিটার দক্ষিণে এবং মিয়ানমার উপকূলের ৮ কিলোমিটার পশ্চিমে নাফ নদীর মোহনায় এর অবস্থান। প্রচুর নারিকেল গাছের সমারোহ থাকার কারণে স্থানীয়ভাবে এই দ্বীপের অপর নাম ‘নারিকেল জিঞ্জিরা’। ইতিহাস ঘাঁটলে জানা যায়, বহু বছর আগে আরব বণিকদের দারুচিনিবোঝাই একটি জাহাজ পাথরের সাথে ধাকقা খেয়ে ডুবে যায় এবং জাহাজের দারুচিনি দ্বীপের সর্বত্র ছড়িয়ে পড়ে। সেই থেকে এর নাম হয় ‘দারুচিনির দ্বীপ’। জনপ্রিয় কথাসাহিত্যিক হুমায়ূন আহমেদের ‘দারুচিনির দ্বীপ’ উপন্যাসের সুবাদে এই দ্বীপের রূপালী পর্দার রূপ আমাদের সবারই চেনা।
সেন্টমার্টিন যাওয়ার উপায় ও খরচ
সেন্টমার্টিন যাওয়ার জন্য প্রথমে আপনাকে ঢাকা, চট্টগ্রাম বা কক্সবাজার থেকে বাসে করে সরাসরি টেকনাফ পৌঁছাতে হবে। টেকনাফ থেকে প্রতিদিন সকালে সেন্টমার্টিনের উদ্দেশ্যে বেশ কয়েকটি পর্যটকবাহী জাহাজ ছেড়ে যায়। জাহাজ ছাড়াও ট্রলার বা স্পিডবোটেও যাতায়াত করা যায়, তবে নিরাপদ ভ্রমণের জন্য জাহাজই সেরা মাধ্যম। ঢাকা থেকে রাউন্ড ট্রিপ বাস ও জাহাজের টিকিটের খরচ সাধারণত শ্রেণিভেদে ৩,০০০ থেকে ৬,০০০ টাকার মধ্যে হয়ে থাকে।
দর্শনীয় স্থান ও আকর্ষণ
সেন্টমার্টিন দ্বীপের আসল সৌন্দর্য উপভোগ করতে হলে অন্তত এক বা দুই রাত সেখানে অবস্থান করা উচিত। দিনের বেলার ভিড় কমে যাওয়ার পর বিকেলের সেন্টমার্টিন রূপ নেয় এক মায়াবী নগরীতে। বিশেষ করে ভরা পূর্ণিমার রাতে সমুদ্রের তীরে হেঁটে বেড়ানোর অনুভূতি আজীবন মনে রাখার মতো।
১. ছেঁড়া দ্বীপ
সেন্টমার্টিন থেকে মূল দ্বীপের দক্ষিণ প্রান্তে অবস্থিত বিচ্ছিন্ন এক টুকরো ভূমি হলো ছেঁড়া দ্বীপ। এখানকার প্রবাল, কেওড়া বন এবং নীল জলের খেলা পর্যটকদের প্রধান আকর্ষণ। সেন্টমার্টিন থেকে ট্রলার বা ইঞ্জিনচালিত নৌকায় সহজেই ছেঁড়া দ্বীপে ঘুরে আসা যায়।
২. স্কুবা ডাইভিং ও স্নোরকেলিং
যারা সমুদ্রের তলদেশের জগত দেখতে ভালোবাসেন, তাদের জন্য সেন্টমার্টিন এক দুর্দান্ত জায়গা। সাধারণত প্রতিবছর নভেম্বর থেকে ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত এখানে স্কুবা ডাইভিং করা যায়। পানির নিচে রঙিন কোরাল ও জলজ প্রাণীর সাথে সাঁতার কাটার অভিজ্ঞতা অনন্য। খরচ সম্পর্কে ধারণা নিতে পারেন:
- স্নোরকেলিং: ৭০০ টাকা
- স্কুবা ডাইভিং: ২৫০০ টাকা
- স্নোরকেলিং ও স্কুবা ডাইভিং কম্বো: ৩০০০ টাকা
ডাইভিংয়ের জন্য যোগাযোগ করতে পারেন:
- কোরাল ভিউ রিসোর্ট – 01796446653
- ঢাকা ডাইভার্স ক্লাব – 01711671130
- ওশেনিক স্কুবা ডাইভিং সার্ভিস – 01711867991
থাকা ও খাওয়ার ব্যবস্থা
সেন্টমার্টিনে আধুনিক সুযোগ-সুবিধা সম্পন্ন বেশ কিছু ভালো মানের হোটেল, কটেজ ও রিসোর্ট রয়েছে। সিজন অনুযায়ী রুমের ভাড়ায় তারতম্য হয় (১৫০০ থেকে ৫০০০ টাকা বা তার বেশি)। আর খাওয়ার জন্য এখানকার স্থানীয় মাছ (যেমন- কোরাল, রূপচাঁদা, লবস্টার) এবং ডাবের পানি বেশ জনপ্রিয়।
সেন্টমার্টিন ভ্রমণ সম্পর্কিত সাধারণ জিজ্ঞাসা (FAQ)
সেন্টমার্টিন যাওয়ার সেরা সময় কবে?
সাধারণত নভেম্বর থেকে ফেব্রুয়ারি মাস পর্যন্ত সেন্টমার্টিন ভ্রমণের জন্য সবচেয়ে উপযুক্ত সময়। এ সময় আবহাওয়া শান্ত থাকে এবং সমুদ্রের রূপও সুন্দর থাকে।
ঢাকা থেকে সেন্টমার্টিন যেতে কত সময় লাগে?
ঢাকা থেকে টেকনাফ পর্যন্ত বাসে প্রায় ১০-১২ ঘণ্টা এবং টেকনাফ থেকে জাহাজে সেন্টমার্টিন পৌঁছাতে আরও ২.৫ থেকে ৩ ঘণ্টা সময় লাগে। অর্থাৎ মোট ১৭-১৮ ঘণ্টার মতো সময় প্রয়োজন হয়।
ছেঁড়া দ্বීপে যাওয়ার উপায় কী?
সেন্টমার্টিন জেটিঘাট বা পশ্চিম বিচ থেকে ট্রলার, স্পিডবোট বা ইঞ্জিনচালিত নৌকায় খুব সহজেই ছেঁড়া দ্বීপে যাওয়া যায়।


