• Home
  • Trip
  • ইন্দোনেশিয়ার স্বর্গরাজ্য গিলি আইল্যান্ডস ভ্রমণ গাইড: খরচ, যাতায়াত ও দর্শনীয় স্থান

ইন্দোনেশিয়ার স্বর্গরাজ্য গিলি আইল্যান্ডস ভ্রমণ গাইড: খরচ, যাতায়াত ও দর্শনীয় স্থান

1 Day

গিলি আইল্যান্ডস: বঙ্গোপসাগরের নীল জলরাশির বাইরে এক টুকরো স্বর্গ

বালি দ্বীপপুঞ্জের ঠিক পূর্ব দিকে লম্বক দ্বীপের উপকূলে অবস্থিত জাদুকরী তিন দ্বীপের সমষ্টি হলো গিলি আইল্যান্ডস। স্থানীয় সাসাক ভাষায় ‘গিলি’ শব্দের অর্থ ছোট দ্বীপ। গিলি ত্রাওয়ানগান, গিলি মেনো এবং গিলি এয়ার—এই তিনটি চমৎকার দ্বীপ নিয়ে গঠিত গিলি আইল্যান্ডস। বালিতে ছুটি কাটাতে গেলে এই দ্বীপগুলোর নাম শুনেননি এমন ভ্রমণপিপাসু পাওয়া কঠিন। দিনের আলোয় সমুদ্রের জলের মোহনীয় নীল রং, ঘোড়ার গাড়ির ছকছক শব্দ, সাইকেল নিয়ে পর্যটকদের ব্যস্ততা এবং বিচ সাইড রেস্টুরেন্টগুলোর সামুদ্রিক খাবারের সুবাস—সব মিলিয়ে গিলি আইল্যান্ডস আপনার জীবনভর মনে রাখার মতো একটি অভিজ্ঞতা উপহার দেবে।

গিলি আইল্যান্ডসের চমৎকার দর্শনীয় দিকসমূহ

গিলির সৌন্দর্য শুধু এর সৈকতেই সীমাবদ্ধ নয়, এর আসল আকর্ষণ লুকিয়ে আছে পানির নিচে এবং দ্বীপগুলোর শান্ত পরিবেশে। এখানে ঘুরে দেখার মতো দারুণ কিছু জায়গা ও অ্যাক্টিভিটি রয়েছে:

  • গিলি ত্রাওয়ানগান: সবচেয়ে বড় এবং জনপ্রিয় দ্বীপ। এটি হানিমুন কাপলদের জন্য পারফেক্ট একটি ডেস্টিনেশন। রাতের বেলা বিচ পার্টি এবং ডিজে মিউজিকে মেতে ওঠার জন্য এর জুড়ি মেলা ভার।
  • গিলি মেনো ও গিলি এয়ার: তুলনামূলক শান্ত এবং নিরিবিলি দ্বীপ। প্রকৃতির কাছাকাছি সময় কাটাতে চাইলে এখানে আসতেই হবে।
  • রোমাঞ্চকর ওয়াটার স্পোর্টস: স্কুবা ডাইভিং, স্নরকেলিং, আন্ডার ওয়াটার ওয়াকিং এবং গ্লাস বোট রাইড। প্রতিটি অ্যাক্টিভিটির খরচ সাধারণত ২০ থেকে ৫০ মার্কিন ডলারের মধ্যে হয়ে থাকে (অবশ্যই দরদাম করে নেবেন)।
  • স্নরকেলিং ট্রিপ: মাত্র দেড় লাখ ইন্দোনেশিয়ান রুপিয়ায় ৪ ঘণ্টার স্পিডবোট ট্যুরে আপনি ঘুরে দেখতে পারেন টার্টেল রিফ, ফিশ রিফ এবং চোখ জুড়ানো কোরাল আইল্যান্ড।

গিলি আইল্যান্ডসে যাতায়াত ও খরচ

বালি থেকে গিলি যাওয়ার প্রক্রিয়া বেশ রোমাঞ্চকর। বালির কুটা বা এর আশপাশের এলাকায় অসংখ্য ট্যুর ইনফরমেশন বুথ পেয়ে যাবেন। সেখান থেকে প্যাকেজ বুক করতে পারেন।

  • ফাস্ট বোট টিকেট: বালি থেকে ফাস্ট বোটে রিটার্ন টিকেটসহ জনপ্রতি প্রায় ৫ লাখ রুপিয়া (বাংলাদেশী মুদ্রায় প্রায় ৩,০০০ টাকা) খরচ পড়বে। অনলাইনে বা সরাসরি গাইড থেকেও টিকিট কাটতে পারেন, তবে দরদাম করে নেওয়া বুদ্ধিমানের কাজ হবে।
  • যাতায়াত প্রক্রিয়া: ট্রাভেল এজেন্সিগুলো আপনার হোটেল থেকে পিক করে তাদের গাড়িতে পাদাম হারবারে পৌঁছে দেবে। গাড়ি থেকে জেটিতে পৌঁছাতে সময় লাগে প্রায় ১ ঘণ্টা ৩০ মিনিট। এরপর বোট বা স্পিডে করে গিলি পৌঁছাতে আরও ২ থেকে ২ ঘণ্টা ৩০ মিনিট সময় লাগে।
  • দ্বীপের অভ্যন্তরীণ যাতায়াত: মজার ব্যাপার হলো, গিলি আইল্যান্ডসে কোনো motorised যানবাহন বা গাড়ি চলার অনুমতি নেই। এখানকার একমাত্র বাহন হলো ঘোড়ার গাড়ি (সাসাক ভাষায় ‘টক টক’) এবং সাইকেল। ঘণ্টা হিসেবে সাইকেল ভাড়া নিয়ে পুরো দ্বীপ ঘুরে দেখতে পারবেন।
  • থাকা ও খাওয়ার খরচ: গিলি ত্রাওয়াংগানে চমৎকার সব রিসোর্ট পেয়ে যাবেন। সুন্দর ও মানসম্মত রিসোর্টে এক রাত থাকার খরচ বাংলাদেশি টাকায় প্রায় ২০০০ থেকে ৬০০০ টাকার মধ্যে।

সচরাচর জিজ্ঞাসিত প্রশ্নাবলী (FAQ)

১. গিলি আইল্যান্ডস যাওয়ার সেরা সময় কোনটি?

মে থেকে সেপ্টেম্বর মাস পর্যন্ত শুষ্ক মৌসুমে গিলি আইল্যান্ডস ভ্রমণ করা সবচেয়ে ভালো। এ সময় আবহাওয়া অনুকূল থাকে এবং সমুদ্র শান্ত থাকে।

২. গিলি আইল্যান্ডসে কি কোনো গাড়ি চলে?

না, পরিবেশ রক্ষার স্বার্থে গিলি আইল্যান্ডসে কোনো মোটরচালিত গাড়ি বা বাইক চলাচল নিষিদ্ধ। যাতায়াতের জন্য শুধু সাইকেল এবং ঘোড়ার গাড়ি ব্যবহার করা হয়।

৩. গিলি আইল্যান্ডসে স্নরকেলিং করতে কেমন খরচ হয়?

সাধারণত জনপ্রতি দেড় লাখ রুপিয়ার মতো খরচে ৪ ঘণ্টার স্নরকেলিং প্যাকেজ পাওয়া যায়, যেখানে কাছিম ও প্রবাল প্রাচীর দেখার দারুণ সুযোগ থাকে।

Free
/ এডাল্ট
0
0
অর্ডার লিস্ট
কার্টে কিছু নেইআবার অর্ডার করুন