• Home
  • Trip
  • চিন্তাফু ট্রেক গাইড: সান্দাকফুর ছোট বোন এবং কাঞ্চনজঙ্ঘা-এভারেস্ট দর্শনের সেরা রুট

চিন্তাফু ট্রেক গাইড: সান্দাকফুর ছোট বোন এবং কাঞ্চনজঙ্ঘা-এভারেস্ট দর্শনের সেরা রুট

পরিচিতি

চিন্তাফু ট্রেক (Chintaphu Trek) ভ্রমণপিপাসুদের কাছে এক অপার বিস্ময়ের নাম। খুব কম মানুষই এই অচেনা পথে পা রেখেছেন। স্থানীয় গাইডরা একে সান্দাকফুর বোন বলে ডাকেন। সান্দাকফুর থেকে চিন্তাফুর উচ্চতা মাত্র ৩৩ মিটার কম। এর উচ্চতা ৩৬৩৩ মিটার বা ১১৯২৯ ফিট। চিন্তাফুর সবচেয়ে বড় বৈশিষ্ট্য হলো, এখানকার ঝকঝকে আকাশ থেকে শুধু কাঞ্চনজঙ্ঘাই নয়, বরং এভারেস্ট, মাকালু ও লোথসে শৃঙ্গও খুব ভালোভাবে দেখা যায়, যা সান্দাকফু থেকেও সবসময় এমন পরিষ্কার দেখা যায় না। যাঁরা অল্প সময়ে ও কম খরচে রোমাঞ্চকর ট্রেকিংয়ের খোঁজ করছেন, তাঁদের জন্য এটি দারুণ সুযোগ। উইকএন্ডের সাথে মাত্র তিন দিন ছুটি ম্যানেজ করলেই এই ট্রেকটি সেরে ফেলা সম্ভব। ট্রেকিংয়ের দূরত্বও খুব বেশি নয়, যাতায়াত মিলিয়ে মাত্র ৮ কিলোমিটার। তাই বয়স এখানে কোনো বাধা হয়ে দাঁড়াবে না।

যাওয়ার উপায় ও খরচ

শিলিগুড়ি থেকে মিরিক হয়ে দার্জিলিং যাওয়ার পথে নেপাল সীমান্তে পশুপতিনগরে পৌঁছাতে হবে। পশুপতিনগর থেকে নেপালের গাড়ি ভাড়া করে প্রায় চার ঘণ্টার পথ পেরিয়ে পৌঁছে যাবেন ইলম জেলার মাইমাজুয়ায়। শিলিগুড়ি থেকে মাইমাজুয়া পর্যন্ত যাতায়াত এবং থাকা-খাওয়া মিলিয়ে জনপ্রতি খরচ বেশ কম ও সাধ্যের মধ্যে থাকে। মাইমাজুয়াতে রাত কাটিয়ে পরের দিন সকালে ল্যান্ডরোভার বা লোকাল গাড়িতে ১২ কিমি দূরের গরুয়ালিভঞ্জে যেতে হবে। এই গ্রাম থেকেই মূলত ট্রেকিং শুরু হয়। গাইড ও পোর্টার নিয়ে মাত্র ৪ কিলোমিটার হেঁটে পৌঁছে যাওয়া যায় চিন্তাফু চূড়ায়।

দর্শনীয় দিক

চিন্তাফু ট্রেকে গেলে আপনি প্রকৃতির নান্দনিক রূপের দেখা পাবেন। মার্চের শেষ থেকে এপ্রিল মাস পর্যন্ত এখানে প্রচুর রডোডেন্ড্রন ও বুনো ফুলের সমাহার দেখা যায়। পথের ধারে রয়েছে মাইপোখরি নামক এক বিশাল পবিত্র জলাশয়, যা গাছপালায় ঘেরা। এছাড়া রয়েছে চমৎকার ঝর্ণা, সুন্দর উপত্যকা এবং ভাগ্য ভালো থাকলে তুষারপাতের সৌভাগ্য। চূড়া থেকে কাঞ্চনজঙ্ঘা, এভারেস্ট ও অন্যান্য হিমালয়ান শৃঙ্গের প্যানোরামিক ভিউ আপনার সমস্ত ক্লান্তি দূর করে দেবে।

থাকা-খাওয়ার তথ্য

মাইমাজুয়াতে স্থানীয় মানুষের আন্তরিক আতিথেয়তায় হোমস্টেতে থাকার সুব্যবস্থা রয়েছে। যেমন কমল দাজুর হোমস্টেতে খুব সুন্দর থাকা ও খাঁটি নেপালি খাবারের ব্যবস্থা পাওয়া যায়। গরুয়ালিভঞ্জেও সাধারণ কিন্তু আরামদায়ক থাকার জায়গা রয়েছে। তবে আপনি যদি চিন্তাফুর কাছাকাছি রাতে তাঁবুতে থাকতে চান, তবে অবশ্যই নিজের সাথে স্লিপিং ব্যাগ ও পর্যাপ্ত গরম কাপড় নিয়ে নেবেন। পাহাড়ি খাবার ও লোকাল চায়ের স্বাদ আপনার ভ্রমণকে আরও বেশি স্মরণীয় করে রাখবে।

FAQ

প্রশ্ন ১: চিন্তাফু ট্রেকে যাওয়ার সেরা সময় কোনটি?
উত্তর: মার্চের শেষ থেকে এপ্রিল মাস পর্যন্ত রডোডেন্ড্রন ফুল ফোটার সময় এবং অক্টোবরের পরিষ্কার আকাশ চিন্তাফু যাওয়ার সেরা সময়।

প্রশ্ন ২: চিন্তাফু ট্রেকে কতটুকু হাঁটতে হয়?
উত্তর: গরুয়ালিভঞ্জ থেকে চিন্তাফু যাওয়া ও আসা মিলিয়ে মোট ৮ কিলোমিটার হাঁটতে হয়।

প্রশ্ন ৩: এই ট্রেকের জন্য কি কোনো বিশেষ অভিজ্ঞতার প্রয়োজন আছে?
উত্তর: না, এটি খুব দীর্ঘ বা কঠিন ট্রেক নয়। সামান্য হাঁটার অভ্যাস থাকলেই যে কেউ এই ট্রেক সম্পন্ন করতে পারবেন।

0
0
অর্ডার লিস্ট
কার্টে কিছু নেইআবার অর্ডার করুন