বাকলাই ঝর্ণা: বান্দরবানের মেঘ-পাহাড়ে ঘেরা এক রহস্যময় জলপ্রপাত
বাংলাদেশের প্রকৃতিপ্রেমী ও ট্রেকারদের কাছে রোমাঞ্চকর এক নাম বাকলাই ঝর্ণা (Baktlai Jhorna)। স্থানীয়দের কাছে এটি ‘বাক্তলাই ঝর্ণা’ নামেও পরিচিত। প্রায় ৩৯০ ফুট উচ্চতা বিশিষ্ট এই জলপ্রপাতটিকে বর্তমানে বাংলাদেশের অন্যতম সর্বোচ্চ ঝর্ণা হিসেবে বিবেচনা করা হয়। দুর্গম পাহাড়ি পথ, মেঘের লুকোচুরি আর গুমগুম শব্দের বুনো পরিবেশ এই ঝর্ণাকে ভ্রমণপিপাসুদের কাছে এক অন্য মাত্রার আকর্ষণে পরিণত করেছে। যদিও এর উচ্চতা নিয়ে কিছু বিতর্ক রয়েছে, তবুও এর সৌন্দর্যে কোনো কমতি নেই।
কোথায় অবস্থিত এবং কেন এত জনপ্রিয়?
বান্দরবান জেলার থানচি উপজেলার বাকলাই পাড়ায় এই ঝর্ণার অবস্থান। কেওক্রাডং থেকে তাজিংডং ট্রেকিং রুটে বাকলাই পাড়া বহু বছর ধরে ট্রেকারদের নিরাপদ আশ্রয়ের স্থান। এখানকার আর্মি ক্যাম্পের উপস্থিতির কারণে একসময় অভিযাত্রীরা বাড়তি নিরাপত্তা পেতেন। প্রায় ৩৯০ ফুট ওপর থেকে তীব্র বেগে আছড়ে পড়া জলধারা আর চারপাশের রোমাঞ্চকর পরিবেশ যে কাউকে মোহিত করবে। তবে এই ট্রেইলটি বেশ কঠিন হওয়ায় পর্যাপ্ত প্রস্তুতি নিয়ে তবেই যাওয়া উচিত।
বাকলাই ঝর্ণা যাওয়ার উপায় ও রুট প্ল্যান
এই রোমাঞ্চকর ভ্রমণে বের হতে হলে আপনাকে অবশ্যই ৫ থেকে ৭ দিনের হাতে সময় নিয়ে পরিকল্পনা করতে হবে। সাধারণত দুটি জনপ্রিয় রুটে বাকলাই ঝর্ণা যাওয়া যায়:
- রুট ১ (রুম হয়ে): বান্দরবান > রুমা বাজার > বগা লেক > কেওক্রাডং > জাদিপাই ঝর্ণা > বাকলাই পাড়া। বাকলাই পাড়া থেকে ট্রেইল ধরে ১ ঘণ্টা হাঁটলেই ঝর্ণায় পৌঁছানো যায়।
- রুট ২ (থানচি হয়ে): থানচি বাজার > বোর্ডিং পাড়া > কাইথন পাড়া > বাকলাই পাড়া।
যাতায়াত খরচ
ঢাকা থেকে নন-এসি বাসে বান্দরবান যেতে খরচ পড়বে প্রায় ৬০০ থেকে ৭০০ টাকা। এরপর বান্দরবান থেকে লোকাল বাস বা চান্দের গাড়িতে থানচি যেতে হবে (ভাড়া স্থান ও সময়ভেদে পরিবর্তিত হয়)। পাহাড়ি ভেতরের পথ পাড়ি দিতে স্থানীয় গাইড ও জিপ গাড়ির সাহায্য নিতে হবে, যার খরচ দলগতভাবে ভাগ করে নিতে পারবেন।
থাকা ও খাওয়ার সুব্যবস্থা
বান্দরবান শহর বা থানচি বাজারে আধুনিক মানের হোটেল ও গেস্টহাউস পেয়ে যাবেন। তবে পাহাড়ি ট্রেইলে ভেতরের দিকে অর্থাৎ বাকলাই পাড়ায় পৌঁছানোর পর স্থানীয় বম বা ত্রিপুরা পাড়ার আদিবাসীদের কটেজ বা বাঁশের মাচাং ঘরে রাত্রিযাপন করতে হয়।
- গ্রিন হিল গেস্টহাউস: প্রেস ক্লাব ভবন, মেইন রোড, বান্দরবান।
- হোটেল অতিথি: বান্দরবান বাজার, বান্দরবান।
পাহাড়ে ভেতরের অংশে কোনো হোটেল বা রেস্টুরেন্ট নেই। তাই স্থানীয়দের সাহায্য নিয়ে নিজ দায়িত্বে খাবার ম্যানেজ করতে হবে অথবা গাইডকে আগে থেকেই বলে রাখতে হবে।
সতর্কতা ও প্রয়োজনীয় টিপস
- প্রচুর পরিমাণে পানি ও ওরস্যালাইন সাথে রাখুন।
- ভালো মানের ট্রেকিং জুতো ব্যবহার করুন যা পাহাড়ি পিচ্ছিল পথে সাহায্য করবে।
- স্থানীয় সংস্কৃতির প্রতি শ্রদ্ধাশীল থাকুন এবং পরিবেশ নষ্ট করবেন না।
- প্রশাসনের অনুমতি এবং বর্তমান নিরাপত্তা পরিস্থিতি জেনেই কেবল রুট নির্বাচন করুন।
সচরাচর জিজ্ঞাসা (FAQ)
বাকলাই ঝর্ণার উচ্চতা কত?
বাকলাই ঝর্ণার উচ্চতা প্রায় ৩৯০ ফুট (+/- ১০ ফুট)।
ঝর্ণা দেখতে কত দিন সময় লাগে?
ঢাকা থেকে যাতায়াত এবং ট্রেকিং মিলিয়ে অন্তত ৫ থেকে ৭ দিন সময় হাতে রাখা উচিত।
কোন রুটে যাওয়া সহজ হবে?
রুম বাজার হয়ে বগা লেক ও কেওক্রাডং রুটটি ট্রেকারদের কাছে বেশি পরিচিত ও জনপ্রিয়।


