পরিচিতি
বান্দরবান জেলার আলীকদম উপজেলায় অবস্থিত প্রকৃতির এক অপরূপ বিস্ময় হলো পালং খিয়াং ঝর্ণা। দুর্গমতার কারণে এই ঝর্ণায় খুব বেশি পর্যটকের ভিড় এখনো জমে ওঠেনি, যা একে আরও আকর্ষণীয় করে তুলেছে। তৈনখালের পাথুরে রাস্তা এবং উঁচু পাহাড় ডিঙিয়ে এখানে পৌঁছাতে হয়। এর চারপাশের বুনো প্রকৃতি, আদিবাসীদের জীবনযাত্রা এবং ঝর্ণার কুলুকুল ধ্বনি ভ্রমণপিপাসুদের মন কেড়ে নেয়। শহুরে যান্ত্রিকতা থেকে দূরে যারা রোমাঞ্চ খুঁজছেন, তাদের জন্য এটি একটি আদর্শ জায়গা।
যাওয়ার উপায় ও খরচ
পালং খিয়াং ঝর্ণায় যাওয়ার দুটি প্রধান রুট রয়েছে। রুট-১ হলো আলীকদম থেকে পানবাজার হয়ে আমতলী নদী ঘাট। সেখান থেকে নৌকাযোগে তৈনখাল দিয়ে দোছরি বাজার। এরপর হেঁটে থাঙ্কুয়াইন ঝর্ণা ও হাজরাম পাড়া হয়ে পৌঁছাতে হবে। রুট-২ হলো আলীকদম-থানচি সড়কের ১৩ কিলোমিটার পয়েন্ট থেকে হেঁটে দোছরি বাজার হয়ে যাওয়া। হাজিরাম পাড়া থেকে ঝর্ণায় পৌঁছাতে ৩ থেকে ৪ ঘণ্টা হাঁটতে হয়। যাতায়াত ও গাইড খরচ দলগতভাবে গেলে জনপ্রতি ৩০০০ থেকে ৫০০০ টাকার মতো পড়তে পারে।
দর্শনীয় দিক
এই ভ্রমণের সবচেয়ে বড় আকর্ষণ হলো তৈনখালের নৌপথ এবং এর দুপাশের নৈসর্গিক রূপ। খালের বাঁকে বাঁকে মুরুং, ত্রিপুরা ও মার্মাদের খড়ে ছাওয়া শান্ত গ্রাম্য পরিবেশ মন জুড়ায়। এছাড়া পথের ছোট ছোট ঝিরি-ঝর্ণা, বুনো ফুল এবং নাম না জানা পাখির কলকাকলি আপনাকে মুগ্ধ করবে। তিন ধারার পানির স্রোত এবং এর কুলুকুল ধ্বনি নিয়ে দাঁড়িয়ে থাকা পালং খিয়াং ঝর্ণার বুনো রূপ দেখতে পাওয়া এক পরম পাওয়া।
থাকা-খাওয়ার তথ্য
পালং খিয়াং ঝর্ণার কাছাকাছি কোনো আধুনিক হোটেল বা রিসোর্ট নেই। তাই রাতে থাকার জন্য আলীকদম সদরে চলে আসাটাই বুদ্ধিমানের কাজ। আলীকদমে সাধারণ মানের কিছু আবাসিক হোটেল পেয়ে যাবেন। খাবার জন্য স্থানীয় বাজার বা আদিবাসীদের সাহায্য নিতে পারেন। পাহাড়ি ট্র্যাকিংয়ের সময় শুকনো খাবার এবং পর্যাপ্ত পানি সাথে রাখা অত্যন্ত জরুরি।
FAQ
প্রশ্ন ১: পালং খিয়াং ঝর্ণা কোথায় অবস্থিত?
উত্তর: এটি বান্দরবান জেলার আলীকদম উপজেলায় অবস্থিত।
প্রশ্ন ২: এই ট্র্যাকিং কতটা কঠিন?
উত্তর: পথটি বেশ দুর্গম এবং পাহাড়ি ও পাথুরে পথ পাড়ি দিতে হয়, তাই শারীরিক ফিটনেস ভালো থাকা প্রয়োজন।
প্রশ্ন ৩: যাওয়ার সেরা সময় কখন?
উত্তর: বর্ষার সময়ে বা বর্ষার ঠিক পরপরই ঝর্ণার আসল রূপ দেখতে পাওয়া যায়।


