• Home
  • Trip
  • ডিবির হাওর ভ্রমণ গাইড: লাল শাপলার রাজ্য ও যাতায়াত খরচ

ডিবির হাওর ভ্রমণ গাইড: লাল শাপলার রাজ্য ও যাতায়াত খরচ

ডিবির হাওর: প্রকৃতির এক রক্তিম কাব্য

সিলেটের পর্যটন মানচিত্রে ডিবির হাওর এক জাদুকরী নাম। জৈন্তাপুর উপজেলায় অবস্থিত এই হাওরটি যেন প্রকৃতির আপন হাতে আঁকা নিখুঁত এক চিত্রকর্ম। সীমান্তবর্তী মেঘালয় পাহাড়ের পাদদেশে ডিব্রি, ইয়াম, হরফকাটা এবং কেন্দ্রী—এই চারটি বিলের সমন্বয়ে গঠিত হয়েছে ডিবির হাওর। শীতের শিশির ভেজা ভোরে যখন হাজারো লাল শাপলা ফোটে, তখন পুরো জলরাশি এক রক্তিম গালিচায় রূপ নেয়। ভ্রমণপিপাসুদের জন্য এটি একটি আদর্শ গন্তব্য।

দর্শনীয় দিক ও ঐতিহাসিক গুরুত্ব

ডিবির হাওরে কেবল প্রাকৃতিক সৌন্দর্যই নয়, লুকিয়ে আছে শত বছরের ইতিহাস। এখানকার প্রধান আকর্ষণগুলো হলো:

  • লাল শাপলার রাজত্ব: শীতকালে এখানকার বিলগুলো শত-সহস্র লাল শাপলায় ভরে ওঠে। সকালে সূর্য ওঠার আগে নৌকা নিয়ে বিলের মাঝে ঘুরে বেড়ানো এক অন্যরকম অভিজ্ঞতা দেয়।
  • রাজা রাম সিংহের স্মৃতিবিজড়িত মন্দির: হাওরের মাঝখানে রয়েছে দুইশ বছরের পুরোনো একটি জীর্ণ-শীর্ণ মন্দির। ইতিহাস মতে, জৈন্তরাজ্যের রাজা রাম সিংহকে এখানে ডুবিয়ে হত্যা করা হয়েছিল। তাঁর স্মৃতিতেই এই মন্দিরটি নির্মিত হয়েছিল।
  • অতিথি পাখির কলকাকলি: শীতের আমেজে হাওরের উন্মুক্ত জলাশয়ে বালিহাঁস, পাতিসরালি, পনকৌড়ি, সাদা বক ও জল ময়ূরীর মেলা বসে।
  • খাসিয়া পুঞ্জি ও পাহাড়ের সৌন্দর্য: বিলের ঠিক পাশেই রয়েছে ভারতের মেঘালয় পাহাড় এবং পাহাড়ের পাদদেশে খাসিয়া সম্প্রদায়ের বসবাস। দূর থেকে তাদের পান-সুপারির বাগান পাহাড়ি সৌন্দর্যকে আরও বাড়িয়ে দেয়।

ডিবির হাওর যাওয়ার উপায় ও যাতায়াত খরচ

ঢাকা বা দেশের যেকোনো প্রান্ত থেকে প্রথমে আপনাকে সিলেটে পৌঁছাতে হবে। সিলেট শহর থেকে ডিবির হাওরের দূরত্ব প্রায় ৪২ কিলোমিটার।

ঢাকা থেকে সিলেট

বাসে: গাবতলী, সায়দাবাদ বা ফকিরাপুল থেকে গ্রিনলাইন, সৌদিয়া, শ্যামলী, এনা বা হানিফ পরিবহনের বাস পাওয়া যায়। এসি বাসের ভাড়া ৮০০ থেকে ১১০০ টাকা এবং নন-এসি বাসের ভাড়া ৪৫০ থেকে ৫০০ টাকা।

ট্রেনে: কমলাপুর থেকে পারাবত, জয়ন্তিকা, উপবন বা কালনী এক্সপ্রেসে সিলেট যাওয়া যায়। ট্রেনের সিটের ধরন অনুযায়ী ভাড়া ১৫০ থেকে ১১৮ টাকা পর্যন্ত হয়ে থাকে। রাতের উপবন এক্সপ্রেসে গেলে সকালে পৌঁছে সরাসরি ভ্রমণ শুরু করা যায়।

চট্টগ্রাম থেকে সিলেট

চট্টগ্রাম থেকে পাহাড়ি বা উদয়ন এক্সপ্রেসে করে সরাসরি সিলেটে আসা সম্ভব।

সিলেট শহর থেকে ডিবির হাওর

সিলেটের আম্বরখানা পয়েন্ট থেকে সিএনজিচালিত অটোরিক্সা বা লোকাল বাসে চড়ে জৈন্তাপুর পৌঁছাতে হবে। সেখান থেকে স্থানীয় নৌকা ভাড়া করে ডিবির হাওরের বিলগুলো ঘুরে দেখা যায়। সিএনজি ভাড়া আসা-যাওয়া ১০০০ থেকে ১৫০০ টাকার মধ্যে হতে পারে।

থাকা ও খাওয়ার সুব্যবস্থা

ডিবির হাওরের কাছাকাছি থাকার মতো উন্নত মানের কোনো হোটেল বা রিসোর্ট নেই। তাই পর্যটকদের সিলেট শহরে ফিরে রাতযাপন করাই সবচেয়ে বুদ্ধিমানের কাজ। সিলেট শহরের দরগা গেট, জিন্দাবাজার বা মাজার রোড এলাকায় ৫০০ টাকা থেকে শুরু করে বিভিন্ন বাজেটের ভালো মানের হোটেল পাবেন। খাওয়ার জন্য সিলেটের ঐতিহ্যবাহী সাতকড়ার তরকারি ও স্থানীয় বাঙালি খাবার বেশ জনপ্রিয়।

সচরাচর জিজ্ঞাস্য (FAQ)

ডিবির হাওর ভ্রমণের সেরা সময় কোনটি?

নভেম্বর থেকে ফেব্রুয়ারি মাস পর্যন্ত শীতকাল ডিবির হাওর ভ্রমণের সেরা সময়। এ সময় হাজারো লাল শাপলা ও অতিথি পাখির দেখা মেলে।

ডিবির হাওরে শাপলা দেখতে কখন যাওয়া উচিত?

শাপলার পূর্ণ সৌন্দর্য উপভোগ করতে হলে ভোরবেলা বা সূর্য ওঠার আগেই বিলে পৌঁছানো উচিত। রোদ উঠলে শাপলাগুলো মুড়ে যেতে শুরু করে।

ডিবির হাওর ঘুরে দেখতে কত খরচ হতে পারে?

ঢাকা থেকে যাতায়াত, লোকাল ট্রান্সপোর্ট, নৌকা ভাড়া ও খাবার মিলিয়ে জনপ্রতি ২,০০০ থেকে ৩,৫০০ টাকার মধ্যে ডিবির হাওর ঘুরে আসা সম্ভব।

0
0
অর্ডার লিস্ট
কার্টে কিছু নেইআবার অর্ডার করুন