• Home
  • Trip
  • বান্দরবানের আলীর সুড়ঙ্গ ভ্রমণ গাইড: রহস্যময় পাহাড়ের অদেখা সৌন্দর্য

বান্দরবানের আলীর সুড়ঙ্গ ভ্রমণ গাইড: রহস্যময় পাহাড়ের অদেখা সৌন্দর্য

আলীর সুড়ঙ্গ পরিচিতি

বাংলাদেশের পাহাড়ি জেলা বান্দরবানের আলীকদম উপজেলায় প্রকৃতির এক দারুণ রহস্যময় সৃষ্টি লুকিয়ে আছে, যার নাম আলীর সুড়ঙ্গ বা আলীর গুহা। উপজেলা সদর থেকে মাত্র তিন কিলোমিটার দূরে মাতামুহুরী ও তৈন খালের কোল ঘেঁষে দাঁড়িয়ে থাকা দুটি পাহাড়ের চূড়ায় এই রোমাঞ্চকর গুহার অবস্থান। পাহাড়ি ঝিরি থেকে প্রায় দেড়শ ফুট উঁচুতে অবস্থিত এই সুড়ঙ্গ পর্যটকদের জন্য এক অনন্য অ্যাডভেঞ্চার। গুহাটির রহস্য এবং এর ভেতরের গা ছমছমে পরিবেশ যে কাউকে সহজেই বিমোহিত করবে। পূর্বে এখানে যাতায়াত বেশ কষ্টকর হলেও, বর্তমানে আলীকদম সেনা জোনের উদ্যোগে সিঁড়ি তৈরি করায় পর্যটকরা খুব সহজেই গুহা পর্যন্ত পৌঁছাতে পারেন।

রহস্যঘেরা দর্শনীয় দিক

আলীর সুড়ঙ্গের নামকরণ নিয়ে সুনির্দিষ্ট কোনো ইতিহাস না থাকলেও এর গঠনশৈলী অত্যন্ত চমৎকার। পাহাড়ের মাঝখানে লম্বাকৃতির এই প্রধান গুহাটি প্রায় ১০০ ফুট লম্বা। এর পাশেই আরও দুটি প্রায় সমদৈর্ঘ্যের গুহা রয়েছে। গুহার ভেতরে প্রবেশ করলেই আপনার মনে হবে এক ভিন্ন দুনিয়ায় চলে এসেছেন। ভেতরের পুরোটাই অন্ধকারাচ্ছন্ন, তাই টর্চলাইট বা মশাল সঙ্গে রাখা বাধ্যতামূলক। গুহার ভেতরে ছোট-বড় অনেক বাদুর রয়েছে, যা এদিক-সেদিক ওড়াউড়ি করে। যদিও এগুলো মানুষের কোনো ক্ষতি করে না, তবুও হঠাৎ তাদের ওড়ার শব্দে রোমাঞ্চের পাশাপাশি কিছুটা ভয় কাজ করতে পারে। পাথরঘেরা পরিবেশ আর গুহার ভেতরের শীতল হাওয়া আপনার ভ্রমণকে আরও বেশি রোমাঞ্চকর করে তুলবে।

কীভাবে যাবেন এবং খরচ

ঢাকা থেকে আলীর সুড়ঙ্গ যাওয়ার জন্য প্রথমে আপনাকে চকরিয়া বাস টার্মিনালে নামতে হবে। ঢাকা থেকে চকরিয়ার নন-এসি বাস ভাড়া সাধারণত ৭৫০ টাকার মতো নেয়। এছাড়া ট্রেনে চট্টগ্রাম গিয়ে সেখান থেকেও বাসে চকরিয়া যাওয়া সম্ভব (ভাড়া ১৭০ টাকা)।

চকরিয়া বাস টার্মিনাল থেকে মাতামুহুরী পরিবহনের বাস অথবা চাঁদের গাড়িতে (জিপ) চড়ে আলীকদম পৌঁছানো যায়। বাসে সময় একটু বেশি লাগলেও জিপ গাড়িতে ৩০ থেকে ৪০ মিনিটেই আলীকদম পৌঁছে যাবেন। লোকাল জিপে ভাড়া জনপ্রতি প্রায় ৬৫ টাকা এবং রিজার্ভ নিলে ১,২০০ থেকে ১,৪০০ টাকা পর্যন্ত পড়তে পারে। সেনাজোন থেকে নৌকা পার হয়ে ঝিরি পথ ধরে আলীর সুড়ঙ্গ দেখতে যেতে হয়। সঠিক নির্দেশনার জন্য স্থানীয় একজন গাইড সঙ্গে রাখা বুদ্ধিমানের কাজ হবে।

কোথায় থাকবেন ও খাবেন

আপনি চাইলে একদিনেই ঢাকা বা চট্টগ্রাম থেকে গিয়ে আলীর সুড়ঙ্গ এবং রূপমুহুরী ঝর্ণা ঘুরে রাতের বাসে ফিরতে পারেন। তবে রাত্রিযাপনের প্রয়োজন হলে আলীকদমে খুব উন্নতমানের হোটেল পাওয়া যাবে না। থাকার জন্য রয়েছে:

  • উপজেলা পরিষদ ডাক বাংলো: পান বাজারে অবস্থিত এই ডাক বাংলোয় মোট ১০টি রুম রয়েছে। নিচতলার রুমের ভাড়া ৫০০ টাকা এবং দোতলার রুমের ভাড়া ১,০০০ টাকা।
  • জিয়া বোর্ডিং: আলীকদম বাজারে অবস্থিত এই সাধারণ বোর্ডিংয়ে দুই বিছানার রুমের ভাড়া ৪৫০ টাকা। যোগাযোগ: ০১৮২৮৯৩৩৬৩৩।

খাবারের জন্য আলীকদম বাজারে মাঝারি মানের কিছু স্থানীয় হোটেল রয়েছে, যেখানে সাধারণ বাঙালি খাবার পেয়ে যাবেন। খুব বেশি বিলাসবহুল খাবারের আশা না করাই ভালো।

জরুরি টিপস ও গাইড তথ্য

আলীর সুড়ঙ্গে যাওয়ার পথ কিছুটা পাহাড়ি ও পিচ্ছিল হতে পারে, তাই ভালো মানের ট্রেকিং জুতো পরে যাওয়া উচিত। সঙ্গে অবশ্যই পর্যাপ্ত পানি, শুকনো খাবার এবং টর্চলাইট রাখবেন। অপরিচিত পাহাড়ি পথে নিরাপত্তা ও সহায়তার জন্য স্থানীয় গাইড নিতে পারেন। গাইড হিসেবে সাদ্দাম (০১৮১৫০৭২৯৩) কিংবা খালেকের সাহায্য নিতে পারেন, তাদের সেবার বিনিময়ে সাধ্যমতো বকশিস দিতে পারেন।

সচরাচর জিজ্ঞাসিত প্রশ্নাবলী (FAQ)

১. আলীর সুড়ঙ্গ কোথায় অবস্থিত?

আলীর সুড়ঙ্গ বান্দরবান জেলার আলীকদম উপজেলা সদরের নিকটেই মাতামুহুরী ও তৈন খালের পাশে অবস্থিত।

২. গুহার ভেতরে কি আলো থাকে?

না, গুহার ভেতরটা সম্পূর্ণ অন্ধকার। তাই ভেতরে প্রবেশ করতে হলে অবশ্যই টর্চলাইট বা মশাল সঙ্গে রাখতে হবে।

৩. একদিনে কি আলীর সুড়ঙ্গ ভ্রমণ সম্ভব?

হ্যাঁ, ঢাকা বা চট্টগ্রাম থেকে সকালের মধ্যে চকরিয়া পৌঁছাতে পারলে একদিনেই আলীর সুড়ঙ্গ ঘুরে আবার রাতে ফেরা সম্ভব।

0
0
অর্ডার লিস্ট
কার্টে কিছু নেইআবার অর্ডার করুন