পাহাড়, মেঘ আর জলের মিতালীতে ঘেরা বান্দরবান সবসময়ই ভ্রমণপিপাসুদের আকর্ষণের কেন্দ্রবিন্দু। আর এই শহরের ঠিক প্রবেশদ্বারে অবস্থিত মেঘলা পর্যটন কেন্দ্র যেন প্রকৃতির এক অন্যরকম রূপকথা। সবুজ পাহাড়ের বুক চিরে চলা লেক, ঝুলে থাকা সেতু আর চারপাশের পিনপতন নীরবতা আপনার ক্লান্তি দূর করতে একাই যথেষ্ট। চলুন, জেনে নেওয়া যাক মেঘলা পর্যটন কেন্দ্র ভ্রমণের খুঁটিনাটি সব তথ্য।
মেঘলা পর্যটন কেন্দ্রের পরিচিতি
বান্দরবান শহর থেকে মাত্র ৫ কিলোমিটার দূরে বান্দরবান-কেরানীহাট সড়কের পাশেই এই চমৎকার পর্যটন কমপ্লেক্সটি গড়ে উঠেছে। বেশ কয়েকটি উঁচু-নিচু পাহাড় আর একটি চমৎকার লেককে কেন্দ্র করে এর অবস্থান। লেকের স্বচ্ছ জলে পাহাড়ের ছায়া এবং মিষ্টি বাতাসের স্পর্শ পর্যটকদের বারবার এখানে টেনে আনে। পরিবার কিংবা প্রিয়জনকে নিয়ে ছুটির দিন কাটানোর জন্য এটি একটি আদর্শ জায়গা।
প্রধান আকর্ষণ ও দর্শনীয় দিকসমূহ
মেঘলা পর্যটন কমপ্লেক্সে চিত্তবিনোদনের জন্য রয়েছে নানা আয়োজন। পাহাড়ি প্রকৃতির পাশাপাশি যে বিষয়গুলো আপনার নজর কাড়বে:
- চিড়িয়াখানা ও সাফারি পার্ক: ছোট-বড় সবার জন্যই এখানে রয়েছে চমৎকার চিড়িয়াখানা এবং সাফারি পার্ক।
- প্যাডেল বোট: লেকের শান্ত জলে বোট নিয়ে ঘুরে বেড়ানোর মজাই আলাদা।
- ক্যাবল কার: ক্যাবল কারে চড়ে উপর থেকে পুরো মেঘলা এলাকা দেখার রোমাঞ্চকর অভিজ্ঞতা মিস করবেন না।
- শিশুপার্ক: শিশুদের বিনোদনের জন্য রয়েছে রাইডসহ সুন্দর শিশুপার্ক।
- ঝুলন্ত সেতু: লেকের উপর তৈরি ঝুলন্ত সেতু দিয়ে হাঁটার সময় চারপাশের পাহাড়ের সৌন্দর্য দারুণ লাগে।
কীভাবে যাবেন ও যাতায়াত খরচ
মেঘলা যাওয়ার জন্য প্রথমে আপনাকে বান্দরবান সদরে পৌঁছাতে হবে।
ঢাকা থেকে বান্দরবান:
ঢাকার কলাবাগান, সায়েদাবাদ বা ফকিরাপুল থেকে শ্যামলী, হানিফ, ইউনিক, এস আলম কিংবা ডলফিনের মতো বাসগুলো প্রতিদিন রাতে ছেড়ে যায়। নন-এসি বাসের ভাড়া ৫৫০ টাকা এবং এসি বাসের ভাড়া ৯৫০ টাকার কাছাকাছি। এছাড়া ট্রেনে চট্টগ্রাম গিয়ে সেখান থেকেও বান্দরবান যাওয়া যায়। বদ্দারহাট বা অক্সিজেন মোড় থেকে পূবালী, পূর্বানী বা লোকাল বাসে ৭০-২২০ টাকার মধ্যে বান্দরবান পৌঁছানো সম্ভব।
বান্দরবান শহর থেকে মেঘলা:
বান্দরবান বাসস্ট্যান্ড বা শহর থেকে লোকাল বাসে জনপ্রতি ১০-১২ টাকা ভাড়ায় মেঘলা যাওয়া যায়। এছাড়া সিএনজি, অটোরিক্সা বা চাঁদের গাড়ি রিজার্ভ নিয়েও যেতে পারেন, যার ভাড়া ১৫০ থেকে ৫০০ টাকার মধ্যে হয়ে থাকে। মেঘলার প্রবেশ ফি জনপ্রতি ২০ টাকা এবং গাড়ির পার্কিং ফি ১৫০-২০০ টাকা।
কোথায় থাকবেন: হোটেল ও রিসোর্ট গাইড
রাত্রিযাপনের জন্য বান্দরবানে রয়েছে নানাধরনের বাজেট ফ্রেন্ডলি ও প্রিমিয়াম হোটেল-রিসোর্ট:
- মেঘলা রেস্ট হাউজ: জেলা প্রশাসনের পরিচালিত মেঘলার ভেতরেই রয়েছে এই রেস্ট হাউজ। ৪টি কক্ষের প্রতিটির ভাড়া ২৫০০ টাকা।
- হলিডে ইন রিসোর্ট: মেঘলার ঠিক বিপরীতে পাহাড়ের চূড়ায় অবস্থিত। ছোট কটেজে থাকার চমৎকার ব্যবস্থা রয়েছে এখানে।
- হিলসাইড রিসোর্ট: মিলনছড়ি এলাকায় অবস্থিত, চমৎকার প্রাকৃতিক পরিবেশের জন্য এটি বেশ জনপ্রিয়।
- শহরের হোটেলসমূহ: বাজেট অনুযায়ী বান্দরবান শহরে ৬০০ থেকে ৩,০০০ টাকার মধ্যে হোটেল ফোর স্টার, হোটেল থ্রি স্টারসহ বেশ কিছু মানসম্মত আবাসিক হোটেল পেয়ে যাবেন।
জরুরি ভ্রমণ টিপস
শহর থেকে মেঘলা যাওয়ার সময় সিএনজি বা চাঁদের গাড়ি ঠিক করার আগে দরদাম করে নিন।
ক্যাবল কার এবং বোট রাইডের ক্ষেত্রে নির্ধারিত সময় ও টিকিটের বিষয়টি আগে জেনে নিন।
পাহাড়ে হাঁটার সময় আরামদায়ক জুতো ব্যবহার করুন।
সচরাচর জিজ্ঞাসিত প্রশ্নাবলী (FAQ)
১. মেঘলা পর্যটন কেন্দ্রের প্রবেশ মূল্য কত?
মেঘলা পর্যটন কমপ্লেক্সে জনপ্রতি প্রবেশ ফি মাত্র ২০ টাকা।
২. মেঘলা কি পরিবার নিয়ে ঘোরার জন্য নিরাপদ?
হ্যাঁ, এটি সম্পূর্ণ নিরাপদ এবং পরিবার ও শিশুদের নিয়ে ঘোরার জন্য অত্যন্ত উপযোগী একটি স্থান।
৩. মেঘলায় ক্যাবল কার চালু আছে কি?
সাধারণত দর্শনার্থীদের জন্য ক্যাবল কার চালূ থাকে, তবে রক্ষণাবেক্ষণের কাজের জন্য কখনো কখনো সাময়িকভাবে বন্ধ থাকতে পারে।


